পৌরসভা নয়, এ যেন ময়লার ভাগাড়

কাজী  মুন্সীগঞ্জ: সময়ের ব্যবধানে মিরকাদীম পৌরসভার মেয়র পরিবর্তন হয়েছে। সরকারি খাতা কলমে তৃতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হয়েছে। কিন্তু পৌরবাসীর ভাগ্য থেকে ময়লা-আবর্জনার স্তুপের একটুও পরিবর্তন হয়নি। পৌরসভার বাতাস জুড়ে দূগন্ধ আর পুরো পৌরসভাই যেন মশার নিরাপদ আবাসস্থল। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদীম পৌরসভার এলাকায় হঠাৎ কোন অপরিচিত লোক ডুকে পড়লে বোঝার কোন উপায় নেই, যে এটা কোন মানুষের বাসস্থান। মনে হবে যেন, অন্য কোন এলাকার ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং স্থান। কোন নিদ্রিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নয় বরং সমগ্র পৌরসভা জুড়েই ময়লার স্তুপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পৌরসভার সকল খাল, সরকারি খাস জমি, পুকুর ড্রেন প্রায় সবই ময়লার স্তুপে পরিণত হয়েছে। প্রায় সব এলাকার সামনেই ময়লার স্তুপ। পৌরসভার প্রায় ৮৮ হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে পরিচ্ছন্নতা কমর্ী মাত্র ৩ জন। ৯ টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫৭ টি স্থানে রয়েছে ময়লার স্তুপ। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেও ময়লা-আবর্জনার স্তুপ রয়েছে। ময়লা-আবর্জনার কারণে পৌরবাসীর জীবন অতিষ্ট। ময়লা পরিষ্কার করার গাড়ি পর্যাপ্ত থাকলেও সেগুলো ব্যবহার না করার কারণে পৌর ভবনের কম্পাইন্ডেই নষ্ট হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের লোক সামান্য কিছু নিদ্রিষ্ট কিছু স্থানে ময়লা আনতে যায় সপ্তাহে ১ দিন। সরকার পরিবর্তনের পর উপজেলা নিবাহর্ী কর্মকতার্র মাধ্যমে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেলেও পৌরসভার কর্মকতার্-কর্মচারীদের উদাসী মনোভাব আর দায়িত্বে অবহেলার কারণে আরো বেশি হযবরল সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার কাঞ্জর ভেন্সী ইন্সপেক্টর মোঃ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে জনগনের সাথে খারাপ আচরণ ও ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ রয়েছে।

কয়েক মাস যাবৎ এলাকার মোড়ে মোড়ে প্লাষ্টিকের বিন ( ময়লা ফেলার বক্স)  দেওয়া হয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। কিন্তু যেগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো যথাসময়ে পরিস্কার করা হয় না বিধায় আরো বেশি দূগন্ধ ছড়ায়। বেশির ভাগ এলাকায় ময়লা ভর্তি প্লাষ্টিকের বিন দিনের পর দিন পড়ে থাকে, পচে গিয়ে আরো বেশি দূগন্ধ ছড়ায়। বৃষ্টি হলে ভোগািিন্তি আর দূগন্ধ বাড়ে দিগুন। অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত ময়লা-আবর্জর্নার কারণে পৌরসভা বসাবসের অযোগ্য হিসেবে পরিনত হচ্ছে। আবার পরিবেশ দূষণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে পৌরবাসীর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি বাড়ছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লা-আবর্জনার স্তুপের কারণে শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্য ঝুকি বাড়ছে কয়েকগুন। তাছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় ময়লা পানির জলাবদ্ধতা। রাতের বেলায় ময়লা-আবর্জনার গন্ধ বেড়ে য়ায় কয়েকগুন। মিরকাদীম পৌরবাসীর প্রধান সমস্যাই এখন ময়লা-আবর্জনা।

এ বিষয়ে রিকাবী বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন ছাত্র জানায়, এলাকাবাসীর সব ময়লা আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের এনে ফালায়। এগুলো ২৪ ঘন্টাই দূগন্ধ ছড়ায়। পৌরসভা কতর্ৃপক্ষ ঠিক মতো এগুলো পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করে না।

উওর রাম গোপালপুরের বাসিন্দা আরিফ জানান, প্রতি বছর আমরা শুধু ট্যাক্স পরিশোধ করি কিন্তু পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার পরিবর্তন হয় না। ময়লার জন্য প্লাষ্টিকের বিন দেওয়া হয়েছে। এগুলো ময়লায় ভরে থাকে। পৌরসভার লোক সপ্তাহে একদিন ময়লা নিতে আসে। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই ময়লা রাস্তায় ফালায়। পৌরবাসী ময়লা-আবর্জনার দূগন্ধে অতিষ্ট। কিছুদিন পরে এলাকায় কোন মানুষই আর সুস্থ্য থাকবে না।

নাম প্রকাশ করার শর্তে একজন শিক্ষক জানান, কয়েক মাস আগে ময়লা নিতে বাড়ির দড়জায় আসতো আবার ময়লা নেওয়ার জন্য মাসে এক’শ করে টাকা নিতো। এখন আর ময়লা নিতে আসে না। তাই বাধ্য হয়েই রাস্তার পাশে ফেলতে হয়।

চিকিসৎক আল রাব্বানী জানান, এই পৌরসভার যে অবস্থা দেখলাম তা মানব স্বাাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপদ জনক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ডেঙ্গু ও মশাবাহী রোগে আক্রান্ত ও শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুকি বাড়ছে কয়েকগুন। তাছাড়াও পৌরবাসী সকলের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি রয়েছে। গণস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।

পৌরসভার কাঞ্জর ভেন্সী ইন্সপেক্টর মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা কমর্ীও মজুরী মাত্র ৫০০ টাকা। এ মজুরীতে লোক পাওয়া যায় না। তাই কয়েক দিন আগে একটি এনজিও কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন এনজিও এর ১৫ জন লোক কাজ করছে। পযার্য়ক্রমে লোক বাড়ানো হবে।

পৌর নিবার্হী কর্মকর্তা এ.কে. এম. বজলুর রশিদ জানান, আমরা লোক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে একটি বেসরকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যারা বাসা বাড়ি থেকে ময়লা আনবে। এজন্য পরিবার প্রতি তাদেরকে একটা নিদিষ্ট ফী পরিশোধ করতে হবে। বাসা বাড়ির ময়লা আনা শুরু হলে ধীরে ধীরে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

পৌরসভার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। আরো বেশি পরিচ্ছন্ন কমর্ী নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এলাকা ভিওিক মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পযার্প্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা জরুরী। মাইকিং করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রয়োজন বোধে টিম গঠন করে এলাকা ভিওিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা করতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিরকাদীম পৌর কতৃপক্ষ সবোর্চ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং সকল প্রকার বাধা বিপওি দূর করে মডেল পৌরসভা হিসাবে গড়ে ওঠবে এমনটাই প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *