অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নিতে পারবে বিদেশী কোম্পানি

অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নিতে পারবে বিদেশী কোম্পানি

6

বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই দেশীয় ব্যাংক থেকে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নিতে পারবে। বিদেশী কোম্পানিগুলোর অর্থের প্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা শিথিলের মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। এ সুযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদেশী মালিকানাধীন কোনো কোম্পানি স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হতো। এর কারণ হিসেবে, দেশে কার্যত বিদেশী কোম্পানিগুলো স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নিয়ে মুনাফা করে আবার বৈদেশিক মুদ্রায় মুনাফা বিদেশে নিয়ে যায়। অথচ অনুমোদন না দিলে বিদেশী মুদ্রায় মূলধন এনে থাকে কোম্পানিগুলো। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বেড়ে যেত। অপর দিকে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নিলে ওই কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেলে ওই কোম্পানির বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার দায় সৃষ্টি হয়। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ উভয় দিক থেকে দেশ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ কারণে কোনো বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানি স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নেয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার আগে তা যাচাই-বাছাই করত। কোনো কোম্পানির সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না হলে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অনুমোদন দেয়া হতো না।

কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার নীতিমালার এ বিষয়টি গত বছরের ২১ জুলাই শিথিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই কোম্পানিগুলো তাদের ইচ্ছেমাফিক স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে শুধু তাদের প্রধান কোম্পানির লেনদেনকৃত ব্যাংকের গ্যারান্টি আনতে হবে। ওই গ্যারান্টিপত্র জামানত হিসেবে রেখে স্থানীয় যেকোনো ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ঋণ দিতে পারবে। গত বছরের বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা বিভাগ থেকে এমন ছাড় দিয়ে ব্যাংকগুলোর পরিপালনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময় এ সুযোগ দেয়া হয়েছিল চলতি বছরের জুন পর্যন্ত।

গতকাল নতুন আরেক নির্দেশনায় এ সুযোগ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এর স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এ সুযোগ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সঙ্কটে পড়ে গেছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ব্যবসা মন্দার কবলে পড়ে গেছে। স্থানীয় কোম্পানিগুলোর আর্থিক সঙ্কট মেটাতে বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু দেশে কার্যত বিদেশী কোম্পানিগুলোও চলমান পরিস্থিতিতে আর্থিক সঙ্কট কাটানোর বিদ্যমান নীতিমালায় কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থের অভাবে যেন কোনো সঙ্কটে না পড়ে সেজন্যই গত বছর বিদ্যমান নীতিমালাটি শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমেনি, বরং বেড়ে গেছে। এ কারণেই আলোচ্য নীতিমালা শিথিলের সময়সীমা আরো ছয় মাস বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপর এক সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নেয়ার সুযোগের পাশাপাশি বিদেশী কোম্পানিগুলো বৈদেশিক মুদ্রায় সহজেই মূলধন আনতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়েই ঢালাওভাবে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নেয়ার অনুমোদন দেয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরো কমে যাবে বলে ওই সূত্র মনে করে। কারণ, বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করা হলে সঙ্কট মেটাতে বাধ্য হয়েই তারা বিদেশী মুদ্রা আনতে হতো। এতে বেড়ে যেত বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ। এখন ঢালাওভাবে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নেয়ার সুযোগ দেয়ায় বিদেশী কোম্পানিগুলো বেশি হারে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করবে। আর তাতে যে মুনাফা হবে তা বৈদেশিক মুদ্রায় নিজ দেশে নিয়ে যাবে। এতে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা আকারে বিদেশে চলে যাবে। এ বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল বলে ওইসূত্র মনে করে।

Comments are closed.

%d bloggers like this: