Ultimate magazine theme for WordPress.

অনেকের পরিত্যক্ত পণ্য কুড়িয়েই চলছে জীবন সংগ্রাম

1

অনেকের পরিত্যক্ত পণ্য কুড়িয়েই চলছে জীবন সংগ্রাম
কাজী বিপ্লব হাসান: জীবিকার তাগিদে তাদের সংসার চলে ডাস্টবিনে নোংরা দুর্গন্ধযুক্তা কৌটা, ছেঁড়া জুতার ফিতা আর প্লাস্টিক কুড়িয়ে, খুব ভোরে কয়েকটি প্লাস্টিকের বস্তা আর একটা পুরাতন ভ্যান গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দুই ভাই বোন। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মুন্সীরহাট এলাকার সরকারি ডাম্পিং স্পটের পাশেই পরিত্যক্ত জমিতে রেখা বেগম ময়লা পাওয়া প্লাস্টিক বোতল এবং অন্যান্য ভাঙ্গারি দ্রব্য আলাদা করছেন। আবার কখনও বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লার ভাগাড় থেকে বোতল কুড়িয়ে থাকেন তিনি। তার  দূর দুরান্তরে। ময়লার ভাগাঢ় থেকে তার বোতল, কৌটা আর প্লাস্টিকের জিনিস খুঁজে বের করেন। কথনও হাট বাজারের বর্জ্য ফেলার স্তুপ বা রাস্তার দু’পাশে পড়ে থাকা ময়লা আবর্জনা এভাবেই তারা ঘেটে জীবিকার রসদ খুঁজে বেড়ায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শহর জুড়ে বিভিন্ন স্থানে একাধিক নারী, পুরুষ আর শিশুদেরকে বোতল, কাগজ আর প্লাস্টিক সহ অন্যান্য পরিত্যক্ত দব্য কুড়াচ্ছে। তারা অনেকেই শহরে ভাসমান। দিনশেষে বোতল কুড়িয়ে চলে যান নিজ নিজ এলাকায়। তবে মুন্সীরহাটের ডাম্পিং স্পটে থাকা  যেন একটু আলাদা। নেত্রকোনা থেকে তারা দুই বছর আগে এখানে এসেছেন। বড় বোন রেখা বেগম প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন আর কাগহজসহ বিভিন্ন দ্রব্য আলাদা আলাদা বস্তায় ভর্তি করেন। তাদের সঙ্গে অনেকে আরেকজন লোক এই কাজ করেন। প্রতি সাত দিন পর পর এই চারজন আয়ের মানুষ এসব দ্রব্য টাকায় নিয়ে বিক্রি করেন। এ থেকে যা আয় হয় সেই টাকা চারভাগ করেন। রেখা বেগমের স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। জিবিকার তাগিদে ভাইয়ের সংসারে এসে বোতল কুড়ান তিনি। সাত দিন পর ৪/৫ জন মিলে একটা ট্রাক ভাড়া করে ঢাকার শ্যামপুর নিয়ে বিক্রি করেন এসব। পরিত্যক্ত পণ্য। বিক্রির পর যা আয় হয় তা দিয়েই চলে তাদের সংসার। রেখা বেগম বলেন, ‘মাসে প্রত্যেকের ৫/৭ হাজার টাকায় থাকে। খাবারের খরচা চলে তাই তো ময়লার স্তুপের পাশে পলিথিনের ছাউনির নিচে সবসাব করি। যা টাকা হয় তা দিয়ে চাল, ডাল, তরকারি কিনে নিয়ে বাড়িতে চলে যাই। আর একদিন আমরা বের না হলে, না খেয়ে থাকতে হয়। তিনি আরো বলেন, শহরে আমাদের মত আরো অনেক টোকাই রয়েছে। আমাদেরকে মানুষ ভালো চোখে দেখে না। জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাধ্য হয়েই কাম করি। কারো কাছে হাত না পেতে এসব করাটা অনেক ভালো। না খেয়ে থাকলে কেউ খাবার দিবে ন, কারো কাছে হাত পেতে চাওয়ার অভ্যাস নেই। মানুষ কি ভাবে ভাবুক, আামগো এইগলো দেহনের সময় নাই।

Comments are closed.