আজ ১১ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ জেলা হানাদার মুক্ত দিবস ২০১৯। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যেই এই দেশ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ (মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি)

37

কাজী বিপ্লব হাসান: আজ ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ মুন্সীগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস। এই উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ড এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১১ টায় জেলা ইউনিট কমান্ড হতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে মুন্সীগঞ্জের প্রধান সড়ক গুলো প্রদক্ষিন করে পুনরায় জেলা ইউনিট কমান্ডের কাছে ফিরে আসে। এরপর সেখানে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। মুক্ত দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলহাজ্ব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব হোসেন। জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মোঃ আনিছ উজ্জামান আনিছ, মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ লুৎফর রহমান, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব ফারুক আহমেদ সহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ।
প্রধান অতিথি বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি বলেন, আজ থেকে ৪৮ বছর আগে ১০ই ডিসেম্বর রাতে পাক হানাদাররা মুন্সীগঞ্জ থেকে পালিয়ে যায় রাতের আধাঁরে। ভোর রাতে তারা লঞ্চ দিয়ে মুন্সীগঞ্জ ত্যাগ করে। ১১ডিসে¤^র সকালে হরগঙ্গা কলেজের ক্যাম্পে তাদের দেখা যায়নি। তখন মুন্সীগঞ্জ হানাদার মুক্ত হয় কথাটি সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। তখন মুন্সীগঞ্জের জনগণ আনন্দের জোঁয়ারে ভেসে ওঠে। মুক্তিযোদ্ধারা আনন্দ উল্লাসে মিছিল বের করে। এই স্বাধীনতার মাত্র চার বছর পরই পাক হানাদারদের দোসররা বাংলার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে। এরপর বিএনপি ক্ষমতা আসনে বসে। তারা আবার বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্য করতে চেয়েছিল। এজন্য তারা এদেশকে বলেছিল তলাবিহীন ঝুড়ি। অথচ, তাদের সময়ই উত্তরাঞ্চলে মংগাতে অনেক লোক মারা গিয়েছিল। চালের দাম বেড়েছিল বলে খালেদা জিয়া তাদের কফি ও আলু খেতে বলেছিল। খালেদা জিয়ার সময়ে এই দেশে রাজাকারদের মন্ত্রীর আসনে বসানো হয়েছিল। প্রধান অতিথি আরও বলেন, অনেক ত্যাগ তিতীক্ষার পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বাংলার আসনে বসেন। তারপর তিনি একটির পর একটি উন্নয়ন কাজ করেই চলেছেন। বর্তমানে পদ্মাসেতু নির্মাণই এর একটি উদাহরণ। যে দেশকে একদিন তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই এই দেশ একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যেই এই দেশ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন এবং রাজাকারদের বিচারও এই দেশের মাটিতেই হচ্ছে।

Comments are closed.

%d bloggers like this: