ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোল্লাকান্দিতে ককটেল বিষ্ফোরণ ও সংঘর্ষে ১৫ জন আহত।

ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোল্লাকান্দিতে ককটেল বিষ্ফোরণ ও সংঘর্ষে ১৫ জন আহত।

32

ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোল্লাকান্দিতে ককটেল বিষ্ফোরণ ও সংঘর্ষে ১৫ জন আহত।
কাজী বিপ্লব হাসান:মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দিতে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুলি ও ৫ শতাধিক ককটেল বিষ্ফোরন সহ বাড়িঘর ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এই সংর্ঘষ। এ সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধ সহ ১৫ জন আহত হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মুন্সীকান্দী ও বেহের কান্দী গ্রামে এ সংঘর্ষ ঘটে। গতকাল শনিবারও এ সংঘর্ষ থামে নি। সকাল হতে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনা স্থলে অতিরিক্ত পুলিশ স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানিয় ইউপি সদস্য স্বপন দেওয়ান ও বর্তমান মেম্বার পদপার্থী চাচা নূরুল আমিন দেওয়ান এর সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ কে কেন্দ্র করেই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। এসময় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় ১০ টি বসত বাড়ী ভাংচুর করা হয়। গুলিবিদ্ধ ৫ জন সহ ১৫ জন আহত হয়েছে। এ ব্যাপ্যারে চাচা নূরুল আমিন দেওয়ান বলেন, আগামি ইউপি নির্বাচনে আমি মেম্বার হতে চাই। এ কথা জানার পর থেকে বর্তমান মেম্বার স্বপণ দেওয়ান আমাকে নানা ভাবে হয়রানি করছে। আমার লোকজনকে মারধরের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ সব ঘটনার প্রতিবাধ করার আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, গুলি-ককটেল বিষ্ফোরন ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এতে মহিলা শিশু সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বর্তমানে আমরা কেউ গ্রামে ফিরতে পারছি না। আতঙ্কে দিন যাপন করছি। বর্তমানে ইউপি সদস্য স্বপন দেওয়ান এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে তিনি জানান, নূরুল আমিন ও বি এনপি নেতা উজির আলির লোকজন আমাদের বাড়ি ঘরে হামলাচালিয়ে ভাংচুর করে। এতে আমরা কয়েকজন কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তারা অস্ত্র সহ গ্রাম পাহারা দিচ্ছে আমরা গ্রামে থাকতে পারছি না।
এ বিষয়ে মোল্লাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা অভিযোগ করে বলেন, মোল্লাকান্দির প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারি ও ইউনিয়ন আওয়ামীলিগের সভাপতি ফরহাদ খান সন্ত্রাসী বাহিনী বি এনপি নেতা উজির মাদবর এর নেতৃত্বে মোল্লাকান্দির স্বপন মেম্বারের লোকজনকে গ্রাম ছাড়া করার জন্য এ হামলা চালিয়েছে। কয়েকদিন ধরেই এই হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। আমি সদর থানায় ঘটনাটি জানিয়ে মামলা করেছি। আমি এর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে । জানা অজানা ৭৪ জনের নামে এই মামলার অভিযোগ করা হয়েছে। হুকুমের আসামী রুহুল আমিন দেওয়ান, বি এনপি নেতা উজির আলী মাদবর, ফারুক মোল্লা, সোহেল মোল্লা, আশিকও রিপন পাটোয়ারি সহ আরও অনেকে। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আহতরা হলেন জাহাঙ্গির (৪৫), বাবু (৩২), রবিন (১৮), কালাম শেখ (৩৫), তুহিন (১৮), রাকিব (১৮), শিশু জাহিদ (৬), রোকছানা বেগম (৪৫), পুতুল (২২), শাহ পরান (৩০), আশিক (৩০), ইমরান (২০)। আহতদের গোপনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গ্রামটি এখন পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে।

Comments are closed.

%d bloggers like this: