উন্নয়নের ফেরিওয়ালা উপাধিতে ভূষিত মুন্সিগঞ্জের সুযোগ্য । জেলা প্রশাসক সায়েলা ফারজানা

0 133

 

২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন সায়েলা ফারজানা। দায়িত্ব গ্রহন করার পরপরই শিক্ষা সংস্কৃতি ও নানা ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধির জনপদ মুন্সীগঞ্জ জেলাকে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জেলায় রুপ দান করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। এ সুবিশাল লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই গ্রহন করেছেন বহুমুখী পদক্ষেপ। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রি. তারিখ জেলা প্রশাসক হিসেবে তার দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ ।

জেলা প্রশাসক হিসেবে তার নেতৃত্বে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বিগত ১ বছরের উদ্যোগসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

** হ্যালো ডিসি অ্যাপস চালুঃ তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন মুন্সিগঞ্জ কর্তৃক হ্যালো ডিসি নামে একটি অ্যাপস চালু করা হয়েছে। অ্যাপস ব্যবহার করে মা ও শিশু মৃত্যু , বাল্য বিবাহ, নারী নির্যাতন , মাদক, জঙ্গিবাদ  ও সন্ত্রাস সম্পর্কিত যে কোন তথ্য সরাসরি জেলা প্রশাসনের নিকট প্রেরণ করা যায়। প্রাপ্ত তথ্যর ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

** ”সবুজে সাজাই মুন্সীগঞ্জ” কর্মসূচীঃ মুন্সীগঞ্জ জেলাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে জেলা প্রশাসক , ”সবুজে সাজাই মুন্সীগঞ্জ” কর্মসূচী গ্রহন করেন যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। এ কর্মসূচীর আওতায় শহরের অভ্যন্তরে দখল হয়ে যাওয়া  কাটাখালী খাল পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত করা হচ্ছে। এ উদ্যোগের ফলে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত খালটি স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে পাচ্ছে।

** পেনশনার’স কর্নার নির্মাণঃ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নীচতলায় অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারদের জন্য একটি দৃষ্টি নন্দন ওয়েটিং রুম তৈরী করা হচ্ছে। পেনশন নিতে আসা প্রবীণদের কষ্ট লাঘবের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি গ্রহণ করেছেন। এর ফলে বায়োবৃদ্ধ পেনশনারগণ স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভাবে পেনশন নিতে পারছেন।

** সঙ্গীত উপকরণ বিতরন ও প্রশিক্ষক নিয়োগঃ জঙ্গিবাদমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংস্কৃতি চর্চার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে ।  সংস্কৃতি চর্চার প্রসারের লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে সঙ্গীত উপকরণ বিতরন করা হয়েছে এবং সঙ্গীত প্রশিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

** মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গড়ার উদ্যোগঃ ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের ইতিহাস, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়াবলী সম্পর্কে মুন্সীগঞ্জের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন বিগত এক বছর ধরে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এ  প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ বিষ্যে জানার সুযোগ পায়।
** গরীব মেধাবী ও প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তাঃ গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসন নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে থাকে। সম্প্রতি একজন অন্ধ শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ হতে একটি ল্যাপটপ প্রদান করা হয়।

** মাওয়া ঘাট ব্যবস্থাপনাঃ দেশের প্রায় ২১ টি জেলার মানুষ মাওয়া ঘাট দিয়ে পদ্মা নদী পাড় হয়ে যাতায়াত করেন। এ কারণে সব সময়ই মাওয়া  ঘাটে যাত্রীদের চাপ থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন উৎসবে বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করে বিধায় মাওয়া ঘাট ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। বিগত এক বছরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মাওয়া ঘাটে মানুষের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা হয়েছে। উৎসব উপলক্ষে বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সার্বক্ষণিকভাবে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক তদারকীর জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। অত্যাধিক চাপ থাকাকালীন সময়ে জেলা প্রশাসক নিজে ঘাটে উপস্থিত থেকে নিরাপদ যাত্রী পারাপার নিশ্চিত করেছেন।

** নারীদের আত্ম নির্ভরশীলকরণ কর্মসূচীঃ নারীদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফ্রি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে । এ ছাড়াও জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন সভা ও অনুষ্ঠানে নারী উদ্যোক্তাদের তৈরী খাদ্য, পণ্যদ্রব্য ক্রয় করে তাদের ব্যবসার প্রসারে সহযোগিতা করা হয়।

** জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের আধুনিকীকরণঃ জেলা পর্যায়ের বিচিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা সেমিনার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এ সব সভা সেমিনারে অংশগ্রহনকারীদের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষটিকে ইন্টিরিয়র ডেকোরেশনের মাধ্যমে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে।

** সার্কিট হাউজের উন্নয়নঃ মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউজের অভ্যন্তরে দেয়াল ঘেষে চারপাশে ওয়াকওয়ে  নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া সার্কিট হাউজের দুটি ভিআইপি রুম আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।

**প্রবীণ পার্ক নির্মাণঃ প্রবীণদের সুবিধার্থে শহরের প্রাণকেন্দ্রে  একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে যার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

** শিশু কিশোরদের জন্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র স্থাপনঃ শিক্ষার্থীদের মাঝে সংস্কৃতি চর্চা প্রসারের লক্ষ্যে শহরের অভ্যন্তরে সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন।

** বাজার মনিটরিং ঃ ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন সর্বদা তৎপর । এর অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসন নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে থাকে।

**মোবাইল কোর্ট  পরিচালনাঃ মোবাইল কোর্ট   আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের একটি মোক্ষম হাতিয়ার । জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আইনে মোবাইল কোর্ট   পরিচালনা করে থাকেন। বিগত এক বছরে মোবাইল কোর্টর সংখ্যা বেড়েছে বহুলাংশে ।

** বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তরঃ মুন্সীগঞ্জ সদরে নির্দিষ্ট কোন বাসস্ট্যান্ড না থাকায় সৃষ্ট নানবিধ সমস্যা নিরসনকল্পে জেলা প্রশাসন সম্প্রতি একটি আধুনিক বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ইতোমধ্যে শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ডটি হাটলক্ষীগঞ্জস্থ লঞ্চঘাট এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

** অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদন রোধঃ অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদন রোধকল্পে জেলা প্রশাসন নিয়মিত মোবাইল কোর্ট  পরিচালনার পাশাপাশি জাল ফ্যাক্টরী মালিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন জাল ফ্যাক্টরী মালিকদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। , যার ফ্লে অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদন অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।

** জেলা প্রশাসন কর্তৃক বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনঃ জঙ্গিবাদ-মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে যুব সমাজকে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য জেলা প্রশাসক প্রথমবারের ময় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ,বিজয় দিবস টি-২০ ক্রিকেট  টুর্নামেন্ট, আন্ত-উপজেলা সাঁতার প্রতিযোগিতা, বিজয় দিবস ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টসহ আরো নানাবিধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন।

** নারীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানঃ নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সার বিষয়ে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে সার্কিট হাউজে প্রথমবারের মত সেবা ক্যাম্প স্থাপন করা  এবং বিনামূল্যে পরীক্ষা করার ব্যাবস্থা করা হয়। পরীক্ষায় যেসকল নারীকে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছিল তাদের জন্যে ঢাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

এছাড়াও মুন্সীগঞ্জ জেলাকে শতভাগ স্কাউট জেলা হিসেবে ঘোষনার পিছনে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। উন্নয়ন মেলা ২০১৮ তে তার সার্বিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে উন্নয়নের ফেরিওয়ালা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

                      জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানার ব্যক্তিগত প্রোফাইল

http://munshiganjvoice.com/?p=1501
জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা

নাম- সায়লা ফারজানা। পিতা- মরহুম ছাদেক মিয়া। মাতার নাম- সেলিমা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা- গ্রাম+পো. – বাটিকাম্রী, উপজেলা- মুক্সুদপুর , জেলা- গোপালগঞ্জ । বর্তমান ঠিকানা- জেলা প্রশাসক , মুন্সীগঞ্জ।(জেলা প্রশাসকের সরকারী বাসভবন মুন্সীগঞ্জ সদর,মুন্সীগঞ্জ)। শিক্ষাগত যোগ্যতা- এম.এস.সি (প্রাণিবিদ্যা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । কর্মজীবন- ক) সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট – জেলা প্রশাসকের কার্যালয় , চট্টগ্রাম। খ) সহকারী কমিশনার(ভূমি)- আনোয়ারা,বাশখালি,চট্টগ্রাম; ঝিনাইদহ সদর,ঝিনাইদহ।গ) উপজেলা নির্বাহী অফিসার- পুটিয়া,রাজশাহী;রাজবাড়ী সদর,রাজবাড়ী; মানিকগঞ্জ সদর,মানিকগঞ্জ। ঘ) সিনিয়র সহকারী সচিব-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ।

ঙ) উপসচিব-গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ।

চ) জেলা প্রশাসক,মুন্সীগঞ্জ (১৫ সেপ্টেম্বর,২০১৬ হতে অদ্যাবধি)।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: