করোনার লকডাউনে লাইব্রেরী স্টেশনারী সামগ্রী দোকানগুলোর অবস্থা বড়ই করুণ”

8

কাজী বিপ্লব হাসান ঃ বই খাতা কলম বিক্রেতার দোকানগুলোকে বলা হয় লাইব্রেরী স্টেশনারী সামগ্রী দোকান। এই লাইব্রেরীগুলোর অবস্থা লকডাউনের কারনে বড়ই শোচনীয় অবস্থার মধ্যে আছে। গত ১৮ই মার্চ ২০২০ সাল হতে লকডাউনের কারনে এই দোকান গুলো বন্ধ হয়ে যায়। মধ্যে কিছুদিনের জন্য খোলা থাকলেও আবার ২০২১ সালের এপ্রিল হতে দোকানগুলো বন্ধ থাকে। এখন মে মাসে ঢিলেঢালা লকডাউনের কারনে দোকান খোলা থাকলেও দোকানে ক্রেতাদের ভীড় দেখা যাচ্ছে না। কারন লাইব্রেরীগুলোতে সাধারণত ছাত্র – ছাত্রীদের ভীড়ই বেশি দেখা যায় কিন্তু ১৮ই মার্চ ২০২০ হতে অধ্যাবদি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ। তাই শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় আর লাইব্রেরীর দোকানগুলো ভরে ওঠছে না। এমনি একটি দোকান স্টুডেন্ট লাইব্রেরীর মালিক আব্দুল আলিম সাক্ষাৎ কালে বলেন, আমার বই লোনে এনে বিক্রি করি। বই বিক্রির পর বই কোম্পানির মালিকদের সেই টাকা লেনদেন মিটিয়ে দেই। কিন্তু এখন বই আর আগের মতো বিক্রি হচ্ছে না। তাই বই এর কোম্পানির কাছে আমার অনেক টাকা দেনা হয়ে গিয়েছে। ৫ থেকে ৭ লাক্ষ টাকার বইয়ের ঋন রয়েছে তাদের কাছে। আগামি ২ – ৪ বছরেও এ ঋন শোধ করতে পারবো কিনা জানিনা যদি এরূপ করোনার পরিস্থিতি চলতে থাকে। আদর্শ লাইব্রেরীর মাসুম আহমেদ বলেন ২০২০ সালের ১৮ ই মার্চ থেকে আমাদের দোকান লকডাউনের কারনে বন্ধ থাকে। মধ্যে কিছু দিন খোলাছিল, কিন্তু তা আবারও লকডাউনের কারনে বন্ধ হয়ে যায়। তাই বই খাতা কলম বিক্রি করতে পারছি না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্টুডেন্টরা এখন আর আগের মতো বই খাতা কলম কিনতে আমাদের কাছে আসছে না। তাই বিক্রি খুবই কম। এমতাবস্থায় দোকান ভাড়া দেওয়ার টাকাটা পর্যন্ত দোকান থেকে তুলতে পারছি না। ৩ মাসের ভাড়া জমে আছে। তাছাড়া বই এর কোম্পানির মালিকরা আগের দেনা পরিশোধ করতে না পারায় এখন আর লোনে বই আর বাকি দিচ্ছে না । তাই এবারের ঈদ ও গত বারের মতোই নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কেটেছে।
খান লাইব্রেরীর মালিক রাসেল খান বলেন, লকডাউনের ১ বছর ৩ মাস যাবত আমাদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারনে আমাদের বই খাতা কলম বিক্রি শূন্যে গিয়ে ঠেকেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ২ থেকে ৫ হাজার টাকার সরঞ্জাম বিক্রি করতাম এখন প্রতিদিন ২০০ টাকা ও নিয়মিত বিক্রি করতে পারছি না। মাসিক দোকান ভাড়াটা দিতে ও আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে । এখন বই এর কোম্পানির মালিকেরা আগের লোন পরিশোধ না করতে পারায় নতুন লোনে বই আনতে দিচ্ছে না। তাই আমার মনে হয় সরকার যদি স্কুল কলেজগুলো খুলে দেয় তা হলে আমাদের মতো লাইব্রেরী পেশাজীবীদের জন্য অনেক উপকার হতো। নলেজ লাইব্রেরীর মালিক হাবিবুল্লাহ দুঃখ করে বলেন, দোকানে বিক্রি নাই বললেই চলে। ২০২০ সালে এইচ এস সি পরীক্ষা না হওয়াতে, ২০২১ সালের এস এস সি পরীক্ষা ও হবে না ও শুনছি। এসব পরীক্ষার মৌসুমে সময় ভিত্তিক প্রতিদিন ১০,০০০ টাকার বই খাতা কলম ও বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন পরীক্ষা না হওয়াতে, স্কুল কলেজ বন্ধ থাকাতে স্টুডেন্টদের বই খাতা কলম না লাগায় এখন প্রতিদিন ৫০০ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারছি না । দোকান ভাড়া ও নিয়মিত দিতে পারছিনা। তাই সরকারের কাছে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি স্কুল – কলেজ গুলো খুতে দিতে। তাতে আমাদের জন্য অনেক উপকার হবে।
লাইব্রেরীর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সাক্ষাৎ কালে একটি কথায় বোঝা যাচ্ছে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকাতে তাদের এই করুন অবস্থা। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন খুলে দেয়া হয়। এতে লাইব্রেরীর বই বিক্রেতাদের জন্য অনেক উপকার হবে, তাদের সংসারে ও সুখ শান্তি ফিরে আসবে।

Comments are closed.

%d bloggers like this: