কানাডায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড, অনেক মানুষের মৃত্যু

কানাডায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড, অনেক মানুষের মৃত্যু

7

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট এলাকার দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া রাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত তারা ৭০টি মৃত্যুর খবর পেয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই বয়স্ক নাগরিক।

তারা জানিয়েছে, এসব মৃত্যুর পেছনে অন্যতম কারণ ওই অঞ্চলের তাপদাহ।

মঙ্গলবার টানা তৃতীয় দিনের মত কানাডার ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার লিটন গ্রামে। মঙ্গলবার ওই এলাকায় তাপমাত্রা ছিল ৪৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২১ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।

চলমান সপ্তাহের আগে কখনোই কানাডার কোন অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেনি।

ভ্যাঙ্কুভারের বার্নাবি অঞ্চলে দায়িত্বরত রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) করপোরালমাইক কালানি নাগরিকদের উপদেশ দিয়েছেন, বয়স্ক নাগরিক এবং প্রতিবেশীদের খোঁজ খবর রাখার জন্য।

‘পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশী এবং পরিচিত বয়স্ক নাগরিকদেরও খোঁজ রাখুন। আমরা দেখতে পাচ্ছি এই আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য বেশি ক্ষতি করছে, বিশেষ করে যাদের বয়স বেশি এবং যাদের অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে’, বলেন পুলিশ কর্মকর্তা মাইক কালানি।

আরসিএমপি’র তথ্য অনুযায়ী, ভ্যাঙ্কুভারের বার্নাবি ও সারে শহরতলীর ৬৯ জনের মৃত্যুর পেছনে অতিরিক্ত তাপমাত্রা অন্যতম কারণ ছিল। মারা যাওয়াদের অধিকাংশই ছিলেন বয়স্ক এবং অনেকেরই অন্যান্য অসুস্থতা ছিল।

লিটন গ্রামের বাসিন্দা মেগান ফ্যান্ডরিখ ‘গ্লোব অ্যান্ড মেইল’ পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান তাদের এলাকার তাপমাত্রা ‘অসহনীয়’ পর্যায়ে চলে গেছে।

‘আমরা বেশ তাপমাত্রায় অনেকটাই অভ্যস্ত, কিন্তু ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সাথে ৪৭ ডিগ্রির বিস্তর ফারাক’, বলেন তিনি।

কানাডার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ‘এনভায়রনমেন্ট কানাডা’ ব্রিটিশ কলম্বিয়া ও অ্যালবার্টা প্রদেশ এবং সাসকেচুয়ান, নর্থওয়েস্টার্ন টেরিটোরিস এবং ইউকন প্রদেশের কিছু এলাকায় অতিরিক্ত তাপমাত্রার জন্য সতর্কতা জারি করেছে।

‘আমরা পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শীতপ্রবণ দেশ এবং বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বরফ পড়ে, এমন একটি দেশ। এখানে মাঝেমধ্যে শৈত্যপ্রবাহ বা তুষার ঝড় হয়ে থাকে, কিন্তু এরকম উষ্ণ তাপমাত্রা এখানে প্রায় কখনোই পাওয়া যায় না’, মন্তব্য করেন এনভায়রনমেন্ট কানাডা’র একজন সিনিয়র জলবায়ুবিদ ডেভিড ফিলিপস।

যুক্তরাষ্ট্রে এই তাপদাহ কতটা প্রভাব ফেলেছে?
১৯৪০ সালে নথিবদ্ধ করা শুরু করার পর এ বছরই যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড ও সিয়াটলের তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস’এর তথ্য অনুযায়ী, ওরেগনের পোর্টল্যান্ডের তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং সিয়াটলের তাপমাত্রা ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।

তাপমাত্রার তীব্রতা ইলেকট্রিক তার গলিয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট।

স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপক হারে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদা সামাল দিতে ওয়াশিংটনের স্পোকেইন এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠান পালাক্রমে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে ‘ব্ল্যাকআউট’ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আমাজন সোমবার তাদের সিয়াটল হেডকোয়ার্টারের কয়েকটি জায়গায় স্থানীয়দের সুবিধার জন্য ‘কুলিং পয়েন্ট’ স্থাপন করে, পোর্টল্যান্ডের বাসিন্দাদেরও নিকটবর্তী কুলিং পয়েন্টে জড়ো হতে দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়তে থাকলে এই ধরণের তাপদাহ সৃষ্টি হওয়ার হারও বাড়তে পারে।

তবে যে কোন একটি ঘটনার কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করাও পুরোপুরি সঠিক নয় বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্র : বিবিসি

Comments are closed.

%d bloggers like this: