কামার কুমার জেলে কৃষক ও তাঁতি নিয়ে আমাদের এই দেশ

মোঃ হারুনুর রসিদ: কামার কুমার জেলে কৃষক ও তাঁতি নিয়ে আমাদের এই দেশ। এদের উৎপাদিত পন্যই ছিল আমাদের ঘর গৃহস্থালীর নিত্য-নৈমিত্তক কাজের উপকরন। কিন্তু কালক্রমে পুরনো এসব দ্রব্য সামগ্রীর চাহিদা ক্রমে ক্রমেই হ্রাস পেতে যাচ্ছে। বিশেষত কুমারের তৈরী মাটির জিনিষ পত্রের পূর্ব কদর কমেছে অনেকাংশেই। ”রাখবেন মাটির হাড়ি, বাসন পত্র-কলস” এই ডাক ত্রখন প্রায়ই শোনা যায় না। এক সময় বাঙালীর ঘরে শোভা পেত মাটির কলস, বাসন ইত্যাদি। শিকেয় ঝুলতো এসব জিনিষপত্র। রঙিন মাটির কলস সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করতো। দামে সস্তা ও প্রাপ্তি সুলভতাই ছিল চাহিদার প্রধান বিষয়। কিন্তু বর্তমানে মাটির এসব জিনিষ পত্রের মূল্য বেড়েছে অন্যান্য সামগ্রীর সাথে পাল্লা দিয়ে। ভংগুর মৃৎশিল্পের বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিক ও এ্যালুমুনিয়াম স্থান দখল করেছে। তাই হারাতে বসেছে মাটির জিনিষের প্রয়োজন। কুমারকে জিজ্ঞেস করলে বলবে মাটির জিনিষ তৈরিতে যে খরচ হয় তা বিক্রয় করে হাতে কিছুই থাকে না। এটেল মাটি সংগ্রহে শ্রমিক খরচ, মাটি পোড়াতে জ্বালানি খরচ, রং ইত্যাদি করতে বেশ খরচ পড়ে। কিন্তু সে অনুযায়ি মূল্য তেমন হয় না। এদিকে ক্রেতারা এর ‘টেকসই’ নিয়েও কথা বলছে। ইত্যাদি কারনে মাটির পাত্রের চাহিদা ক্রমেই কমে আসছে।
ছোট বেলায় দাদা-দাদী নানা-নানীরা ধাঁধাঁ দিতেন “লাল মিয়া হাটে যায়, একটা করে থাপড় খায়।” এ ধাঁধাঁর জবাব ছিল মাটির লাল হাড়ি। ক্রেতারা মাটির হাড়ি কিনতে মৃদু থাপড় দিয়ে পরীক্ষা করত। মাটির টব, ফুলদানি, চীনা মাটির বাসন কোসন অনেক বাড়িতেই দেখা যায়। তবে ধান রাখার মটকি বা কোলা (বড় পাত্র) এখন তেমন আর দেখা যায় না। মাটির তৈরি মটকি, ভাটি, চারি ক্রমেই হয়ে যাচ্ছে ‘যাদুঘরের সামগ্রি’। এসব জিনিসের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার কোনো প্রচেষ্টা আমাদের নেই। তাই স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে আমাদের পুরনো এ মৃৎ শিল্প তার পুরনো ঐতিহ্য কি ধরে রাখতে পারবে? না এটা হারিয়ে যাবে কালের অতলান্তে।

Spread the love

Comments are closed.