ক্লাস , কোচিং ফাকি দিয়ে প্রেম খেলায় মগ্ন কলেজ ছাত্র-ছাত্রীরা

0 91

স্টাফ রিপোর্টার: ক্লাস না থাকার নাম করে শিক্ষার্থীরা বয়ফ্রেন্ড নিয়ে যত্রতত্র ইদানিং আড্ডায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। ফলে অভিভাবকদেরকে উদ্বিগ্ন সময় পার করতে হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা মনের সুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে। মনে হয় তাদের দেখার কেউ নেই! মনের শান্তিতে ঘুরছে মুন্সীগঞ্জের আনাচে কানাচে, নদীর পাড়সহ একাধিক স্থানে। এমনই এক ছবি দেখে বোঝা যায় বাঁশের সাকোঁ দিয়ে কলেজ ছাত্র এবং ছাত্রী বালুর ভাল্ক হেডে আড্ডায় মেতে উঠে প্রতিদিন। কি যেন মনোযোগী হয়ে সময় পার করে চলছেন, কিছুই বোঝার উপায় নাই। এমন এক মূহুর্তে ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি আমাদের এই ছাত্র-ছাত্রীাদের গার্ডিয়ানরা মহা বিপদ মুখী আছে এমন পরিস্থিতিতে। কখন যে কি হয়, আর কোন পিতা- মাতার কানে খবর আসে ভয়ানক শব্দ সময়ই বোঝা যায় কি হয় পরিস্থিতিতি। সন্তানদের কলেজে পাঠায়। কিন্তু সন্তানরা তাদের মনের সুখ খোজার জন্য ড্রেস পরিহিত হয়ে আড্ডায় যায়? বলাটা খুবই মুশকিল। কোচিং বানিজ্যের কারণে আজকে দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যত মেধাবীরা কি করছে তা কোচিং সেন্টারের আশ পাশ এলাকায় ঘুরে দেখলেই বুঝা যায়। মাঠপাড়া এলাকাটি এখন কোচিং বানিজ্যের জোন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ১ ঘন্টা পড়তে এসে দিন পার করে দেন শিক্ষার্থীরা। তারা মেয়ে বন্ধুরা ছেলে বন্ধুদের, ছেলে বন্ধুরা মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে বের হয়ে যান। ফিসারী পার্ক বন্ধ করে দেওয়ার পর মুন্সীগঞ্জের কলেজ শিক্ষার্থীরা সুইমিংপুল এলাকা, ডায়েবেটিক হাসপাতালের নতুন রোড, কাটা খালি- মুন্সীরহাট রোড, সাতানিখিল-তালেশ্বর ভিতরের রোড, মুন্সীগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম প্যাবিলিয়ন এখন কলেজ শিক্ষার্থীদের দিনভর আড্ডা দিতে দেখা যায়। এছাড়াও বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ক্লাসের সময় মুক্তারপুর ব্রীজের নীচে শিক্ষার্থীদেরও দেখা যায় ঘোরাফেরা করতে।
একজন পথচারী নাম না বলা শর্তে জানান, কলেজ আছে, শিক্ষকও আছে তবে ক্লাস করার বা ছাত্রদের ক্লাসে রাখার পরিবেশ নাই বললেই চলে। ক্লাশ হয় না বলেই সমাজে অনেক ধরণের অসামাজিক কাজ গুলো খুব সহজেই ঘটে চলছে বলে পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

মাঠপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন মাদক নিয়ন্ত্রন কার্যালয় রোডে এখন দিনভর প্রাইভেটের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। শিড়ির উপর নীচে অনেক অশালীন কর্মকান্ডও পরিলক্ষিত হয়েছে অনেকের। এই রোডের শেষ মাথায় মাঠপাড়া রোডে বের হওয়ার আগে নতুন একটি টিনের ঘর নিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়ে দিন ব্যাপী প্রাইভেট ব্যবসা চালু করা হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ দেখেও যেন না দেখার ভান করছে এমনটিই মনে করছেন এলাকাবাসী। স্মার্ট ফোন নিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কন্টেন্ট আদান প্রদান করারও অভিযোগ রয়েছে এই রোডটিতে।

পঞ্চসার ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ মামুন জানান, এ বিষয়ে তেমন মন্তব্য করাটা ঠিক না। তবে গার্ডিয়ানরা যদি তাদের সন্তানদের কলেজে বা বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে নজরদারিতে রাখেন তবে কিছুটা হলেও কাজে আসবে। প্রশাসনকেও এই বিষয় একটু সদয় থাকতে হবে।
মাঠপাড়ার এক অভিভাবক বলেন, জেলার স্কুল বা কলেজের ক্লাসের সময়ে কোন শিক্ষার্থীকে কোথাও ঘোরা ফিরা করতে পাওয়া গেলে আটক করে থানা হেফাজতে আনলেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন করে বয় ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরতে বের হবে না।

এমন বিষয রামপাল কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, এই ধরনের কলেজ ফাকিঁবাজরা কখনই সমাজে ভালো ছাত্র না। কলেজে নিয়ম অনুযায়ী ক্লাশ হয়। যাহারা কলেজ ড্রেস পড়ে বাহিরে আড্ডায় থাকে তারা কলেজের মান নষ্ট করতে পারবে না বরং তাদের পিতা-মাতার মান নষ্ঠ করছে। আমরা কলেজে পাঠ দান করিয়েই ক্ষান্ত নই গার্ডিয়ানদেরও ছাত্র-ছাত্রীদের বিষয় খবরা-খবর দিয়ে অবগত করি। এখন কলেজের নামে বাড়ী থেকে বেড়িয়ে অনত্র্য ঘোরাফেরা করলে তাদের কপাল পুড়বে। কোন ভালো ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা বাহিরে থাকলে গার্ডিয়ানদেরও সজাগ থাকাটা জরুরী এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ অবগত করালে ছাত্র জীবনে মঙ্গল বয়ে আনবে।

বিষয়টি জেলা প্রশাসন গুরুত্বের সাথে দেখবেন এবং এমন একটি নীতিমালা চালু করবেন এমনটিই আশা করেন মুন্সীগঞ্জের সচেতন অভিভাবক মহল। নীতিমালা চালু করলে কোচিং সেন্টারের নাম করে দিনভর বয়ফ্রেন্ড নিয়ে সামাজ দুষিত করবে না শিক্ষার্থীরা। এর থেকে পরিত্রাণ চায় মুন্সীগঞ্জের অভিভাবক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: