ঘরবন্দী শিশু থেকে শিক্ষার্থীদের সময় কাটছে মোবাইল-ল্যাপটপে

12
তুষার আহাম্মেদ:  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এএলবি অনার্সের ছাত্রে সামি আল যাবের  ছাত্র রবিউল। গত ১৭ মার্চ থেকে ঘর থেকে বের হতে পারছে না । ফলে মোবাইল ফোন  আর ল্যাপটপই এখন তার একমাত্র সঙ্গী। এই দুই যন্ত্রে  অনলাইন গেম ও বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়েই দিন কাটে সামির ।
সামি দৈনিক, প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রিক মিডিয়া সাংবাদিকদের বলেন, সারাদিন ঘরে বসে তো সময় কাটে না। বাইরে করোনার মহামারির কারনে  বেরানোরও সুযোগ নেই। তাই মোবাইলে বন্ধুদের সাথে গেম , ভার্চুয়াল আড্ডা দিয়ে আর সিনেমা দেখেই সময় কাটাতে হয়।
তারমত দিন কাটাতে হচ্ছে করোনায় ঘরবন্দী লাখো শিশু সহ শিক্ষার্থীদের। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বন্ধ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে এখন অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রযুক্তিসামগ্রীতে নির্ভর করতে হচ্ছে ঘরবন্দি শিশুসহ শিক্ষার্থীদের। বিশেষত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ আর টেলিভিশনই হয়ে উঠছে এ করোনা দিনে তাদের সঙ্গী। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স—এসব অনলাইন দুনিয়াই এখন তাদের জগৎ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বড় একটি সময়জুড়ে মোবাইল ও ল্যাপটপ নিয়ে পড়ে থাকার কারণে শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনেরই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে শিশুসহ শিক্ষার্থীদের । স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের ব্যবহারে পিছিয়ে নেই ছোট্ট শিশু শিক্ষার্থীরাও। ১০ বছর বয়সের ওধরা,৫/৬ বছরের হাসান,হোসাইন নামে শিশুরা বলেন, একমাত্র সঙ্গী মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ । শিশু
হাসান,হোসাইনের বাবা সাইদুজ্জামান শ্যামল বলেন, বাচ্চা সবসময় ঘরের মধ্যে আটকে রাখা খুব কষ্টকর। আমাকে ব্যাবসা করতে যেতে হচ্ছে বাহিরে। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই তার হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিতে হয়। ঘরে মোবাইলে গেমস খেলে ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে তার শিশুদের সময় কাটে।
তবে শিশুদের পূর্ণ বিকাশের জন্য মোবাইল ও কম্পিউটারের প্রতি ঝোঁক কমিয়ে আনার পরামর্শ চিকিৎসকদের। তাদের মতে  শিশু-কিশোরদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন-কম্পিউটার যতটা সম্ভব দূরে রাখাই ভালো। এগুলো তাদের কল্পনাশক্তিকে সীমিত করে ফেলে। এছাড়া চোখ ও মস্তিষ্কেরও ক্ষতি করে।
Attachments area

Comments are closed.

%d bloggers like this: