জলাবদ্ধতার কারণে মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর-২নং সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

0 33

আতিকুর রহমান টিপু ও মো: রুবেল: মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ইদ্রাকপুর-২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জলাবদ্ধতার কারণে ছাত্রছাত্রীরা পড়েছে মহাবিপাকে এবং দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ছাত্রছাত্রীরা এই জলাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই জামাকাপড় ভিজিয়ে উপস্থিত হচ্ছে বিদ্যালয়ে। চারপার্শ্বে আবর্জনা ও নর্দমা থাকায় এ পানিতে ছাত্রছাত্রীদের নানা ধরণের এ্যালাার্জি জনিত রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পার্শ্বে উপজেলা পরিষদের বিশাল আকারের মজা পুকুর থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পুকুর উপচে পানি মাঠ ও রাস্তায় চলে আসে। ফলে কোনটি পুকুর আর কোনটি মাঠ বা রাস্তা তা বুঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এরকারণে অনেক সময় ছাত্রছাত্রীরা ভূল করে পুকুরে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টিতে প্রাক প্রাথমিক থেকে শুরু করে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে। শুরু থেকেই কিছুটা জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও বর্তমানে তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়টির ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার ভবিষ্যৎ।
এই স্কুলটি পঞ্চসার ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় পঞ্চসার ইউনিয়নের নয়াগাঁও পূর্বপাড়ার প্রায় ৯০শতাংশ এবং পৌরসভার ১০শতাংশ ছেলেমেয়ে এখানে লেখাপড়া করছে। এর সম্পূর্ণ অবস্থান মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় হওয়া সত্তে¡ও দারুণ অবহেলায় পড়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যায়টিতে মোট ৩১শতাংশ জমির মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ জমিই মজা পুকুরের মধ্যে রয়েছে। এ ২০ শতাংশ জমি যদি ভরাট করা হয় তাহলে শিক্ষার্থীরাও খেলাধুলাসহ বিনোদনের সুযোগ পাবে।

নয়াগাঁও পূর্বপাড়ার ছেলেমেয়েরা বর্ষা মৌসুমের পুরোটা সময় স্কুলের পশ্চিম পার্শ্বের জলাবদ্ধ নীচুু রাস্তা দিয়ে জামাকাপড় ভিজিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করে। কখনো কোন অভিভাবক যদি কোলে কিংবা কাঁধে করে তাদের সন্তানদের স্কুলে পৌছে দেয় শুধু সে ক্ষেত্রেই কিছু ছাত্র-ছাত্রী জামাকাপড় ভিজে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। সবচেয়ে প্রাক-প্রাথমিকের ছাত্র-ছাত্রীরা চরম বির¤^নায় পড়ছে এ জলাবদ্ধতার কারণে। জলাবদ্ধতার পরিমাণ বেড়ে গেলে বর্ষা মৌসুমের বেশ কিছু সময় পাশ্ববর্তী ইদ্রাকপুর-১ নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অথবা খলিলুর রহমান কিন্ডার গার্টেনে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করানো হয়। ফলে ছাত্র-ছাত্রীর পরিমাণ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে বিদ্যালয়টিতে।

বিদ্যায়টির ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, আমাদের বিদ্যায়টিতে আমার শিক্ষা জীবন প্রায় শেষের দিকে। আমি এই জলাবদ্ধতার মধ্যদিয়েই শিক্ষা জীবন পাড় করেছি। কিন্তু আগামীতে যারা আসবে তারা যেন এ জলাবদ্ধতার মধ্যে না পড়ে এবং এর প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হয়। তাদের বিদ্যালয়ে একটি শহীদ মিনার ও একটি খেলার মাঠ করে দেওয়ার দাবি জানায়।
৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী জয়নব ইসলাম তাদের বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা দূর করে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরী করারও দাবি জানায়।

এ ব্যাপারে অভিভাবক মলি আক্তার বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে বাচ্চারা বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। বিদ্যালয়ে আসতে গেলে পোষাক ভিজে যায়। আশেপাশের বাথরুমের ও নর্দনার ময়লা পানির উপর দিয়ে ছেলে মেয়েরা নানা ধরণের অসুখে আক্রান্ত হয়। ফলে তাদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

বিদ্যায়টির বর্তমান প্রধান শিক্ষক নাসরিন নিতা জানা জানায়, বিদ্যালয়ে আসার পর এর লেখাপড়ার মান উন্নয়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ২০১৭ সালে ২২ জন শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং ৭জন শিক্ষার্থী এ+ পায়। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সালে সমাপনী পরীক্ষায় শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের পরিমাণ কমে যাচ্ছে দিন দিন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উত্তম কুমার বণিক জানায়, জলাবদ্ধতার বিষয়টি ছাত্রছাত্রীদের জন্য একপ্রকার প্রতিবন্ধকতা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর জানানোর পরও তেমন সুফল আসেনি। তবে এর প্রতিকারের তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার জানান, বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সাময়িক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দ পেলে বাকি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া জাহান জানায়, আমি ছুটিতে আছি। বিষয়টি যেহেতু অবগত হলাম। এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: