Ultimate magazine theme for WordPress.

জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাব ও মুন্সিগঞ্জ ভয়েস এর পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি

0 23

কাজী বিপ্লব হাসান: করোনা আক্রান্ত হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মারা গেলেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর)সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে   ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বাংলাদেশের ১৩ তম অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। মাহবুবে আলমের ছেলে সুমন মাহবুব বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

মাহবুবে আলমের ছেলে সুমন মাহবুব জানিয়েছেন, আমার বাবা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম,

গত ৪ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে তিনি ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি হন। সেখানে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ আসে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ই সেপ্টেম্বর মাহবুবে আলমের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে। এসময় তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।(২৭ সেপ্টেম্বর)সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে   ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মাহবুবে আলম ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম: দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন, মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা অ্যাটর্নি জেনারেল। দেশের

 ১৫ তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ২০০৯ সালের ১৩ই জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। এর আগে ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশে এমন এক সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে ছিলেন যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং বিচার বিভাগকে ঘিরে নানা বিতর্কের কারণে সারাক্ষণই তার দপ্তর ছিল গণমাধ্যমের মনোযোগের কেন্দ্রে । তিনি দীর্ঘকাল একজন আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নেতৃত্বও দিয়েছেন।২০০৯ সালে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন।

সাবেক আইনমন্ত্রী আইনজীবী শফিক আহমেদ এক সময় প্রয়াত এই অ্যাটর্নি জেনারেলের শিক্ষক ছিলেন, যিনি বলছিলেন মাহবুবে আলমকে তিনি ছাত্র এবং পরে সহকর্মী হিসেবে পেয়েছেন। উনি সিটি ল’ কলেজের ছাত্র যখন ছিলেন, তখন আমি সেখানকার প্রিন্সিপাল ছিলাম। পরে যখন সে অ্যাটর্নি জেনারেল, আমি তখন আইনমন্ত্রী। আইনজীবী হিসেবে তার দক্ষতা এবং সক্ষমতা বিবেচনা করেই তাকে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। আইনজীবী ও অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি অত্যন্ত সিনসিয়ার এবং সততা নিয়ে কাজ করে গেছেন। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায়  অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে, ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ১৯৬৯ সালে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইন পেশায় আসার শুরু থেকেই মাহবুবে আলম আইনজীবীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। উনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি ছিলেন, আবার সরকার নিয়োজিত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ থেকেই একটা ধারণা পাওয়া যায় যে ,আইনজীবীদের মধ্যে উনার জনপ্রিয়তা কতটা ছিল এবং একইভাবে সরকারের জন্যও উনি সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা অবাক হয়ে ভাবতাম, বিভিন্ন কোর্টে সরকারের হয়ে ১০টা, ১৫টা কোনদিন ২০টা মামলায় এক-ই দিনে উনি যুক্তিতর্ক হাজির করেছেন। আমরা ভাবতাম একজন মানুষ এক-ই দিনে এতগুলো কাজ করে কিভাবে ? মাহবুব আলম, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মামলায় আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন, তিনি সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলা, এবং সর্বোচ্চ আদালতে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধ মামলার মতো অনেক আলোচিত মামলার আইনজীবী ছিলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.