জাতীয় গ্রীড থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ যাবে মেট্রোরেলে

14

বৈদ্যুতিক রেলের যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। স্বপ্নের এই গণপরিবহনে সরাসরি গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের সকল প্রক্রিয়া শেষ। আপাতত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগবে এই মেট্রোরেল চলতে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেট্রোরেল চালু হলে ডিজেলের ব্যবহার কমবে, কমবে কার্বন নিঃসরণ। কারণ এই রেল সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে না। সরাসরি গ্রিড লাইন থেকে সরবরাহ করা হবে। অর্থাৎ এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। মেট্রোরেলে গ্রিড থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দিয়াবাড়িতে ১৩২ কেভি উপকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দিয়াবাড়ি উপকেন্দ্র পুরো শেষ হয়েছে। বর্তমানে সেখান থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। মতিঝিল উপকেন্দ্রের কাজ চলছে। মেট্রোরেলের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করছে জাপানের মারুবেনি ও ভারতের এলঅ্যান্ডটি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মেট্রোর প্রথম ট্রেনটি আগামী আগস্ট মাসে ডিপোর বাইরে উড়ালপথে তোলা হবে। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা হবে। তারপর সমন্বিত পরীক্ষামূলক চলানো হবে। তারপর পরীক্ষামূলকভাবে পুরোটা চলানো হবে। এভাবে কয়েক পর্যায়ে পরীক্ষার পর সবার জন্য চলবে মেট্রো। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এসব পরীক্ষা শেষ হবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ। আপাতত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চালু হবে। তারপর উত্তরা থেকে মতিঝিল।
বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেলের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৬৪ শতাংশ। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত হয়েছে প্রায় ৮৫ শতাংশ। আর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের হয়েছে প্রায় ৬০ ভাগ। উড়ালসেতুর ২০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৫ কিলোমিটার শেষ। ডিপোর মধ্যে রেললাইন বানানোও শেষ হয়েছে। উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রেলপথ এখন দৃশ্যমান।
ঢাকা ও তার আশপাশের সংযোগসহ প্রায় ১২৯ কিলোমিটার হবে মেট্রোরেল। এরমধ্যে মাটির নিচে হবে ৬৮ কিলোমিটার। মানুষ উঠানামার জন্য স্টেশন হবে ১০৪টা। এরমধ্যে ৫৩টা হবে মাটির নিচে। ৬ রুটে এই রেল চলবে। মেট্রোরেলে যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন ঘোষণা হবে বাংলাতেই।
বাংলাদেশের রেলপথে নতুন যুগের সূচনা করে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন, এর মধ্যেই ডিপোতে পরীক্ষামূলকভাবে চলেছে। প্রায় ৫০০ মিটার চলে। জাপান থেকে ছয়টি কোচ আনা হয়েছে, সেগুলো দিয়ে উত্তরার দিয়াবাড়ি ডিপোতে পরীক্ষামূলক চালানো হয়। এতে পরীক্ষা হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট লিমিটেড কোম্পানি (ডিএমটিসিএল) পরিচালনা করবে মেট্রোরেল। আর এই ট্রেন জাপানের কাওয়াসাকি কোম্পানি তৈরি করেছে।
রেলের ছয় কোচের প্রতি সেট একসাথে চলবে। মেট্রোতে উঠার আগে দিতে হবে ভাড়া অর্থাৎ টিকিট কেটে উঠতে হবে। একসাথে উঠবে এক হাজার ৭০০ যাত্রী। উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে ৩৮মিনিট। ৪৫ সেকেন্ড পরপর ট্রেন স্টেশনে ট্রেন পাওয়া যাবে। এরমধ্যে থাকবে ১৭টা স্টেশন। এ পথে চলবে ২৪ জোড়া ট্রেন। ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার। কিন্তু সে গতিতে চলবে না।
মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য ট্রেন অপারেটর অর্থাৎ ট্রেনচালক থাকবেন ৫২ জন। এর মধ্যে একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আরও ৩০ জনকে এ পদে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সম্প্রতি ডিপোতে পরীক্ষামূলক চালানোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, মেট্রোরেল এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। আরও এক সেট ট্রেন মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। ডিপোর ভূমি উন্নয়ন নয় মাস আগে শেষ হয়েছে। এতে ৭০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সকল ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ চলমান।
জাইকার আবাসিক প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশ এবং জাপানের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি নমুনা। ডিএমটিসিএল এবং জাইকা দুই পক্ষই মহামারির মধ্যেও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বৈদ্যুতিক এই ট্রেন চালু হলে সুফল ভোগ করবে বিপুল কর্মজীবী মানুষ। এই পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব। জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্নের উন্নয়নের এই মাইলফলকের অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্বিত।
ডিএমটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, মেট্রোরেল চালু হলে ঢাকা শহরে বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমবে। বাংলাদেশে এখন ট্রেন চলে ডিজেলে। প্রায় ৩০০টি ট্রেন চলে।

Comments are closed.

%d bloggers like this: