জেলায় বাড়ছে করোনার ভ্যাকসিন নেয়া মানুষের সংখ্যা

জেলায় বাড়ছে করোনার ভ্যাকসিন নেয়া মানুষের সংখ্যা

4
তুষার আহাম্মেদ- মুন্সীগঞ্জ জেলায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকা নেওয়ার হার অনেকটা বেড়েছে। প্রথমদিকে জনগণের মধ্যে সংশয় ছিল। তবে ধীরে ধীরে সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। চিকিৎসক, রাজনৈতিক নেতা, জাতীয় দলের ক্রিকেটারসহ দেশের বিভিন্ন পেশার প্রথম  শ্রেণির মানুষকে টিকা নিতে দেখে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ে। তবে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলায় টিকা নেওয়ার হার বাড়ছে। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি, বয়সসীমা বাড়ানো, টিকা পাওয়ার নিশ্চয়তা, মানুষের মধ্যে সচেতনতার বৃদ্ধি,বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় দূর হওয়াসহ নানা করনে করোনার টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, জেলায় মোট ১,৪১,৫৬৬ জন টিকা গ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১,৪০,৫৮৬ জন। দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ৫২, ৯৮৬ জন। জেলার টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন ২,৫০০ ডোজ টিকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দৈনিক ২২শ থেকে ২৩ শ মানুষ এখন নিয়মিত টিকা গ্রহণ করছেন। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রধান টিকাদান কেন্দ্র ছাড়াও জেলার আরো ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই টিকাদান কর্মসূচী চলমান রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার টিকাদান কেন্দ্রে এসে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১,৬৪২ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৬৮২ জন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহ বাড়াতে টিকা গ্রহনের নানা ধরনের জটিলতা কমাতে হবে। অনেকে রেজিষ্টেশন করেও সময়মতো টিকা নিতে পারছেনা। টিকা গ্রহন করতে আসা মানুষের মুখে নানা অব্যবস্থাপনা অভিযোগ উঠেছে। টিকা গ্রহনের সময় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছেনা। দীর্ঘদিন ফোনে মেজেজ না পেয়েও মানুষ টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে এসে ভিড় করেন। যারা এখন পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন সেই সংখ্যাটাই এখন বেশি।  উপজেলা পর্যায়ে টিকাদান কেন্দ্র বাড়ালে গ্রামের মানুষগুলোও সহজে টিকার আওতায় আসবে। এছাড়াও গ্রামের নি¤œ আয়ের এবং ভাসমান মানুষসহ কয়েকটা শ্রেণি টিকার বাইরের আছেন। তাদেরকে টিকাদান কর্মসূচির ভেতরে আনতে হবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২/৩ দিন টিকা কেন্দ্রে দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নেয়া লোকজনদের সংখ্যা কম ছিলো। কিন্তু এখন টিকা গ্রহনকারীদের চাপ বাড়ছে কেন্দ্রগুলোতে। প্রতিদিন গড়ে ২২শ থেকে ২৩,শ লোক নিয়মিত টিকা নিচ্ছেন। কেন্দ্রগুলোতে টিকা গ্রহনকারী লোকজনের চাপ বেশি। তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে একটি চিঠি আসছে কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য।  বর্তমানে জেলা সদরসহ ৬টি উপজেলার কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত চলছে টিকাদান কর্মসূচী। নতুন করে আরো কিছু টিকাদান কেন্দ্র বাড়ানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

Comments are closed.

%d bloggers like this: