ঢেঁকির ঐতিহ্য এখন বিলুপ্ত প্রায়

183

মো: হারুনুর রশিদঃ “ও ধান বানিরে ঢেঁকি তে পার দিয়া। ঢেকি নাচে আমি নাচি হেলিয়া দুলিয়া ও ধান বানিরে” গান টা অনেকেরই জানা। ঢেকি এক সময় গ্রাম বাংলার কৃষকের ঘরে ঘরে। নিত্য নৈমিত্তিক কাজের জিনিস হিসেবে বিদ্যমান ছিলো।ঢেঁকি ছাটা চাল পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ বলে অনেকেরই ধারনা সকাল বেলা কাক ডাকা ভোরে শোনা যেত ঢেঁকির শব্দ। এখন সে শব্দ তেমন একটা শোনা যায় না। ধান ভাঙ্গানো মেশিন আসার পর ঢেঁকির স্থান প্রায় পুরো পুরি দখল করে নিয়েছে বলা চলে। ঢেঁকি গ্রাম বাংলায় বড় খুটির সাথে শক্ত ভাবে আটাকানো থাকত। একটা বড় সাইজের কাষ্ট খন্ড পুরোটাই ছিল ঢেঁকি। এর সামনে ধান বানার জন্য শক্ত একটি খুঁটি ছিল। যাকে গ্রামের আঞ্চলিক বাংলায় মুনি বলা হতো। এবং ঢেঁকি আটকানো দু-পাশের দু খুটি কে কান্তা বলা হতো। ঢেঁকির কান্তার অংশে এক বা একাধিক নারী পুরুষ পার দিতো এবং শেষ অংশে একটি গর্তে ধান থাকতো যা নাড়াচাড়া করার জন্য একজন নারী থাকত অথবা অন্য ভাবে ধান নাড়াচাড়ার ব্যবস্থা থাকত এটাই ছিল প্রাচীন ধান ভাঙ্গার যন্ত্র। অনেক সময় কৃষকেরা গম ও ভাঙ্গতো এতেই এছাড়া পায়রার ছাতু ও তৈরীতে ও ঢেঁকির অবদান ছিল। যান্ত্রিক অবদানের ফলে ঢেঁকির কার্যাবলি অপ্রচলিত হলেও একেবারে মুছে যাওয়ার নয়। এখনও স্বল্প পরিসরে ধান ভানা ও চালের গুড়ি করার কাজ এই ঢেঁকি দিয়েই হয়। বাংলা সাহিত্যের ঢেঁকি কথাটা বিভিন্ন ভাবে রয়েছে যেমন কম বুদ্ধির লোককে বলে লোকটা একটা ঢেঁকি বা লোকটা যেন বুদ্ধির ঢেঁকি। আবার বাংলা বাগধারায় আমড়া কাঠের ঢেঁকির কথাটা অকর্মন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। গায়ের বাড়ন্ত মেয়েদের কে ঈর্ষান্বিত মহিলারা ঢেঁকি বলে সমালোচনা করত। ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও বাড়া বানবে আজকে সে কথার যথার্থতা অনেকেই মেনে নিতে পারবে না এক সময় গ্রাম বাংলায় নবান্নে, ইষ্টি কুটুম বা আপ্যায়নে ঢেঁকি ছিল একমাত্র মাধ্যম। কাল প্রবাহে ঢেঁকির সে আদর আজ আর নেই। তাই হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকি আর ঢেঁকি সালার কার্যক্রম। গ্রাম বাংলার হতদরিদ্র দিন মজুরের মেয়েরা ঢেঁকি শালে কাজ করে যঠরের জ্বালা নির্বাপিত করত। বড় গৃহস্থ বাড়ীর ঢেঁকি কাজ করে গৃহস্থ গিন্নী দয়া করে যা দিত তাই ছিল গরীবের উপার্জন। ঢেঁকি হারিয়ে যাচ্ছে তার সাথে হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকির ঐতিহ্য।

Comments are closed.

%d bloggers like this: