তালতলা-ডহুরী খালের কড়াল গ্রাসে তস্তিপুর ও সিলিমপুর গ্রাম

তালতলা-ডহুরী খালের কড়াল গ্রাসে তস্তিপুর ও সিলিমপুর গ্রাম

7

তালতলা-ডহুরী খালের কড়াল গ্রাসে তস্তিপুর ও সিলিমপুর গ্রাম
কাজী বিপ্লব হাসান: মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার আউটশাহী ইউনিয়নের তস্তিপুর ও সিলিমপুর গ্রামটি এখন পদ্মার শাখা নদী তালতলা-ডহুরী খালের কড়াল গ্রাসে নিমজ্জিত। এই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা তালতলা ডহুরী খালের অতিরিক্ত ¯্রােতের মুখে ভেঙে যাচ্ছে গ্রামের বাড়ী-ঘর। এলাকাবাসী জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি ঘর এ নদীর কড়াল গ্রাসে তলিয়ে গেছে। বাকি বাড়ি-ঘর নিয়েও তারা চিহ্নিত । রাতে চিন্তায় তাদের ঘুম আসে না। এই বুঝি তাদের ঘরও ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে তালতলা-ডহুরী খাল। এলাকাবাসীদের একজন মুরুব্বী বলেন, তস্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেন মসজিদটি, সঙ্গে একটি কবরস্থান, তারপাশে একটি

কোল্ডস্টোর ও মন্দির এবং নতুন তৈরি হওয়া জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়টি যে কোনো মুহুর্তে তালতলা ডহুরী খালের অতিরিক্ত স্রোতে ভাঙনের ফলে তলিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, এই নিয়ে গ্রামবাসিরা অধিক দুঃচিন্তায় প্রহর গুনছেন কবে গ্রামটি পুরোই শেষ হয়ে যাবে। এ বিষয় গ্রামবাসীরা কোন উদ্যোগ নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে একজন বলেন, আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর এবং মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের এমপি সাগুপ্তা ইয়াসমিন এমিলি বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। আউটশাহী ইউপি চেয়ারম্যান লিটন ঢালীকে এলাকাতে না পাওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা যায় নি। তবে এলাকাবাসী বলেন, গত শুক্রবার তিনি ঢাকা থেকে গ্রামে এসে এই মসজিদে নামাজ পড়েছেন এবং এলাকাবাসীকে আশ^স্ত করে বলেছেন, আপনাদের এলাকার নদীভাঙনের কথা জেলা প্রশাসক এবং এলাকার এমপি বরাবর পৌঁছেদিয়েছে। কাজ করতে সময় লাগে। তারা নদী ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিবে।
কিন্তু কবে ব্যবস্থা নিবে তা জানা হয়নি। তাই গ্রামবাসীর আক্ষেপ নদী যদি সব ভেঙে নিয়ে যায়। তারপর ব্যবস্থা নিলে কী হবে? কেন এই তালতলা-ডহুরী খাল এতটা রুদ্রমুর্তি ধারণ করেছে? এ বিষয়ে জানা যায়, বালুবাহী কার্গো ও মালবাহী ট্রলারগুলো অতিরিক্ত জোরে নদী দিয়ে যাওয়ার সময় নদীতে প্রচন্ড ডেউ ওঠে। এর সঙ্গে নদীর অতিরিক্ত ¯্রােত মিলেমিশে নদীর তীরের মাটির তলাগুলো আলগা করে ফেলে, যা পর মুহুর্তেই ভেঙে পড়ে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী আজ ১২ই সেপ্টেম্বর তস্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মানববন্ধন করে। এখানে এলাকাবাসী সবাই ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। এলাকাবাসী দুঃখ করে বলেন, স্থায়ী ভাবে বাধ দিতে দেরি হলেও অন্তত জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ী ভাবে নদী ভাঙন ঠেকানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এ বিষয়ে গ্রামবাসীরা জেলা প্রশাসনের ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের এমপির দৃষ্টি আকর্ষন করে।

Comments are closed.

%d bloggers like this: