তিন সপ্তাহ পর মৃত্যু ষাটের নিচে, কমেছে শনাক্ত

9

    তিন সপ্তাহ পর দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ষাটের নিচে নামল। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫৭ জন মারা গেছেন। এর আগে গত ৫ এপ্রিল সবশেষ ৫২ জনের মৃত্যু হয় ও ৬ এপ্রিল ৬৬ জনের। এরপর এ সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১১২ জনে গিয়ে ঠেকে। দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু ১১ হাজার ৪৫০ জনের।

এদিকে গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় শনাক্তের সংখ্যা আরও কমেছে। গত একদিনে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৭৭ জন। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ৩৪১ জন।

শুক্রবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ হাজার ৪৬টি নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ১৭৭ জন শনাক্ত হন। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১০.৩৪ শতাংশ। নতুন শনাক্তদের নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ লাখ ৫৯ হাজার ১৩২ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ৩২৫ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ছয় লাখ ৮১ হাজার ৪২৬ জন। সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, গত একদিনে মারা যাওয়া ৫৭ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই ২৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩, রাজশাহীতে ২, খুলনায় ৫, বরিশালে ২, সিলেটে ৫ এবং রংপুরে ২ জন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন মৃতদের মধ্যে ৩৫ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ১৩, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৭, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১ এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের ১ জন রয়েছেন।

দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকার পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চলতি বছরের শুরুতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মার্চ মাস থেকে তা শুধুই বাড়ছে। গত ১৬ এপ্রিল মৃত্যু একশো ছাড়ায়। সেদিন ও তার পরদিন ১৭ এপ্রিল ১০১ করে মৃত্যু হয় করোনায়। ১৮ এপ্রিল ১০২ জন ও ১৯ এপ্রিল ১১২ জন মারা যান, যা একদিনে সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞরা এটাকে বাংলাদেশে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বলছেন। করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় প্রথমে ২১ এপ্রিল ও পরে তা বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছিল সরকার। এরপর সেটি আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।ঢাকার ডাক ডেস্ক  

Comments are closed.

%d bloggers like this: