দুই রুম দিয়েই সাতানিখিল সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়টিতে চলছে ২৩৪জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম

 
আতিকুর রহমান টিপ, মো: রুবেল ও হুমায়ুন কবীর: মুন্সীগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ২কি.মি. দক্ষিণে সাতানিখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাত্র ২টি ক্লাস রুম দিয়ে ২শ ৩৪জন শিক্ষার্থীর চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ২টি রুমের পশ্চিম পাশের পঞ্চম শ্রেণির রুমটিকে ভাগ করে শিক্ষকদের বসার স্থান বানানো হয়েছে। এরমধ্যে বসেই শিক্ষকরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কোনমতে। প্রধান শিক্ষকের জন্য আলাদা রুম মানে স্বপ্নের ব্যাপার এখানে। স্কুলটির পূর্ব দিকের রুমটিকেও বেড়া দিয়ে দুই ভাগ করা হয়েছে। এই ২টি রুমে ১ম, ২য়, ৩য় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হয় পর্যায়ক্রমে অনেক কষ্ট করে। যা চোখে দেখলে অবিশ্বাস্য ঘটনা বলে মনে হবে। অনেকটাই ঠাসাঠাসিভাবে বসে এদের ক্লাস করতে হয়। প্রচন্ড গরমে শরীর থেকে ঘাম ঝরে পড়ে তাদের।
স্কুলে মোট ৮জন শিক্ষক রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর অবসরে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত এখানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম দারুনভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়টির ১জন সহকারী শিক্ষক অন্যত্র ডেপুটেশনে থাকায় শিক্ষক সংকট রয়েছে এখানে। প্রতিষ্ঠানটির মূল ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ২০১২ সালে তা পরিত্যাক্ত ঘোষণা করার পর এখন পর্যন্ত নতুন ভবন তৈরী না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন কষ্টের মধ্যে দিয়ে ক্লাস করে যাচ্ছে দুটি শ্রেণি কক্ষে। সব চেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা। তারা ২ রুম বিশিষ্ট ভবনের পূর্ব পাশের রুমের সরু বারান্দায় গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করছে প্রতিদিন। শিশুরা পবিত্রতার মহাপ্রতীক। সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ তাদের জন্মগত অধিকার। কিন্তু ঝড়োসড়ো হয়ে বারান্দায় বসে ক্লাস করাটা অনেকটা কষ্ট সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে তাদের জন্য। কিন্তু সেই কষ্টকেই জয় করছে তারা।
স্কুলে আসা এক অভিভাবক নার্গিস আক্তারের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, তার ছেলে মোঃ সোহেল প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। সোয়া ৯টায় তিনি যখন বাচ্চাকে স্কুলে দিতে আসেন তখন ছোট বারান্দায় তাকে এমনভাবে বসতে হয় যা আমার কাছে খুবই কষ্টকর বলে মনে হয়। গায়ের সাথে গা লাগিয়ে বাচ্চাদের বসতে হয়। অনেক সময় বাচ্চারা বিরক্তি প্রকাশ করলেও কিছু করার থাকে না। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন খুব দ্রুত।
স্কুলটির বর্তমান সমস্যা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রাশিদা বেগমের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, দুটি রুম দিয়ে একটি স্কুল চালানো খুবই কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। মাঝে মধ্যে আমরা ক্লাস নিতে হিম সিম খেয়ে যাই। তিনি আরো জানান, আমাদের বসার স্থানটি ছোট্ট পরিসরের হওয়ায় ক্লাস শেষে অনেকেরই বারান্দায় পায়চারী করতে হয় পরবর্তী ক্লাস করার জন্য। তিনি আরো জানান, এখানে নতুন ভবন নির্মান না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত শিক্ষা থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত থেকে যাবে। দুই রুম বিশিষ্ট ছোট্ট পরিসরের এ প্রতিষ্ঠানটিকে তিনি ভীষন অবহেলিত প্রতিষ্ঠান বলে আখ্যায়িত করেন এবং দ্রুত নতুন ভবন তৈরী করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাসলিমা বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি আমাদের এমপি মহোদয়কে কয়েকবারই অবগত করা হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলার যে সকল বিদ্যালয়গুলোতে এ ধরণের সমস্যা রয়েছে তা সমাধানের জন্য প্রকৌশল বিভাগের কাছে আমরা তালিকা পাঠিয়েছি।
 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.