পদ্মার পানি বিপদ সীমার অতিক্রম- চালু হয়নি ফেরি চলাচল

পদ্মার পানি বিপদ সীমার অতিক্রম- চালু হয়নি ফেরি চলাচল

10
তুষার আহাম্মেদ- দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রবেশপথ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ২১ দিনেও চালু হয়নি ফেরি চলাচল। পদ্মায় প্রবল স্রোতের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে গত ১৮ আগষ্ট অনির্দিষ্ট কালের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন ঘাট কর্তৃপক্ষ। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ফেরি চলাচল যেনো না করতে হয়, সে মোতাবেক শরিয়তপুরের মঙ্গলমাঝি/ছাত্তার মাদবর (মাঝির ঘাট) ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল করবে। এতে পদ্মা সেতুতে কোন ধরনের ধাক্কার ঘটনা ঘটবে না। ফলে শরিয়তপুরের মাঝির ঘাটে বিকল্প নৌরুট হিসেবে যুক্ত করে একটি রো-রো ফেরির পন্টুন। কিন্তু ঘাটের পন্টুন সচল রাখলেও নব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল করতে পারছে না এ রুটে। এতে দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীরা পড়ছে দুর্ভোগে।
এদিকে গত সোমবার বিকাল ৫টার দিকে পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। টানা ১৩ ঘণ্টা লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকার পরে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে আবার লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এতে গত রাতে শিমুলিয়া ঘাটে শত শত যাত্রীরা পড়ে দুর্ভোগে।
সরজমিনে দেখা যায়, বিকাল ৫টার দিকে ঘাটে এসে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোর্ট সব নৌযান চলাচল বন্ধ। পদ্মা পাড়ি দেওয়ার জন্য কোন ধরনের নৌযান না পেয়ে রাত কাটাতে হয় ঘাটে। কেউ যাত্রী ছাউনি, কেউ বা লঞ্চ ঘাটের পন্টুনে শুয়ে কেউ বা বসে রাত পার করেন। পরে সকাল ৬টায় লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হলে যাত্রীরা পদ্মা পাড়ি হয়।
মোশারফ হোসেন বাবু ও পপি আক্তার নামক এক দম্পতি জানান, সকালে ঢাকায় গিয়েছিলাম আমার স্ত্রীকে নিয়ে। বিকালে শিমুলিয়া ঘাটে এসে দেখি লঞ্চ চলাচল বন্ধ। এখন আমার স্ত্রীকে নিয়ে কি করবো বুঝতে পারছি না। আমার স্ত্রী অন্তঃসত্তা। রাতে কোথায় থাকবো। আশপাশে কোন আত্মীয় স্বজনের বাসা বা এখানে থাকার মতো কোন হোটেল নেই। তাই ভাবছি যাত্রী ছাউনিতে রাতটি কাটিয়ে সকালে লঞ্চ চলাচল করলে চলে যাবো।
বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শাফায়াত জানান, গত মাসের ১৮ তারিখ থেকে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পদ্মায় এখন প্রবল স্রোত বৈইছে। সে সাথে মাঝির ঘাটে একটি ফেরির পন্টুন নিমার্ণ করা হয়েছে। তবে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। তবে ড্রেজিং চলছে। আশা করছি দ্রুত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হয়ে।
তিনি আরও জানান, মাঝির ঘাটে একটি পন্টুন জরুরি সেবার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়ে। এ ঘাট দিয়ে অ্যাম্বলেন্স, ছোট যানবাহন সীমিত আকারে চলাচল করানো হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে পদ্মায় প্রবল স্রোতের পাশাপাশি মাওয়া প্রান্তে পদ্মার পানি বিপদ সীমার অতিক্রম করেছে। এখন মাওয়া প্রান্তে ১৭ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছ।

Comments are closed.

%d bloggers like this: