বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সুগন্ধা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বরিশাল বিমানবন্দর।

কাজী  বিপ্লব হাসান: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সুগন্ধা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বরিশাল বিমানবন্দর। ইতোমধ্যে নদীভাঙনে ওই উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের ব্লক ও বেড়িবাঁধের প্রায় এক হাজার ফুট অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দেবে গেছে ক্ষুদ্রকাঠিদোয়ারিকা গ্রামের সংযোগ সড়কের প্রায় ৪০০ ফুট।

পাশাপাশি বরিশাল বিমানবন্দরের উত্তর প্রান্তের রানওয়ের বর্ধিতাংশের জমি তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে। বর্তমানে নদীর ভাঙন পয়েন্ট থেকে এ জমির দূরত্ব ৩০০ ফুটেরও কম। অথচ চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেও ওই দূরত্ব ছিল ১ হাজার ফুটের বেশি। তাই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে হাজার কোটি টাকার বরিশাল বিমানবন্দর ও প্রস্তাবিত নতুন বিমানঘাঁটি।

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক রথীন্দ্রনাথ চৌধুরী বলেন, রানওয়ের উত্তর প্রান্তের বর্ধিতাংশের কাছে সুগন্ধা নদীর অবস্থান। ভাঙন আগ্রাসী রূপ ধারণ করলে বরিশাল বিমানবন্দরের জন্য সেটা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই নদীভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি কমতে শুরু করায় সেই পানি দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হচ্ছে। নদীর সেই ঢলে বিপদসীমার ওপরে উঠেছে নদীর পানি। আর তাতেই ভাঙন শুরু হয়েছে সুগন্ধা পাড়ে। ইতোমধ্যে ভাঙনে গৃহহীন হয়েছেন ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের ২৩টি পরিবার। ব্লকবাঁধ ভেঙে ক্ষুদ্রকাঠিদোয়ারিকা সড়কের ৪০০ ফুটের বেশি অংশ নদীতে হারিয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের আরো শতাধিক পরিবার এবং উত্তর ক্ষুদ্রকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলকারিম কেরাতুল কুরআন মাদরাসা, রাশেদ খান মেনন পাঠাগার, বকুলতলা বাজার ও ময়দান জামে মসজিদ, বেপারি বাড়ি জামে মসজিদ ও মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদসহ ১৪টি স্থাপনা।

কয়েক বছর আগে বিমানবন্দরের জমি রক্ষায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নদীতীরে ব্লকবাঁধ নির্মাণ করা হলেও ওই বাঁধের প্রায় ৮০ শতাংশই এখন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ফলে ক্ষুদ্রকাঠিদোয়ারিকা সড়কটিও দ্রুত ভেঙে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনে বিলীন হওয়া বসতবাড়ি এবং ভূমির তথ্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে ইউনিয়ন পরিষদ ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.