বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আগাম বীজতলা বন্যার কারনে

বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আগাম বীজতলা বন্যার কারনে
কাজী বিপ্লব হাসান : বর্ষার শেষ হতেই শরতের এই মৌসুমে শীতকালীন বিভিন্ন সবজির আগাম বীজতলা তৈরি শুরু হয়েছে মুন্সীগঞ্জে। তবে বন্যার পানির কারনে আগাম বীজতলা তৈরির কাজ স্থীতিশীল হয়ে আছে। বীজতলা তৈরির কাজের অগ্রগতি তেমন দেখা যাচ্ছে না। গতবার মুন্সীগঞ্জে ৬ টি উপজেলাতে যেখানে ৩৪ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে এবার সেখানে মাত্র ৫ দশমিক ৭০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। পদ্মা,মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতি দ্বারা চারদিক পানি বেষ্টিত এই মুন্সীগঞ্জ জেলা। তার উপর এবার বন্যার প্রভাব মুন্সীগঞ্জে অনেক বেশি। লৌহজং,শ্রীনগর,গজারিয়া,টঙ্গীবাড়ী ও সদরের কিছু অংশেও বন্যার পানি ঢুকে অনেক জমি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। বন্যার পানি এখনও পুরোপুরি সরে যায়নি। তাই মুন্সীগঞ্জের কৃষকদের বীজতলা তৈরিতে দেরি হচ্ছে। ফুলকপি, লাউ,বেগুন,শিম সহ অন্যান্য সবজির ও আগাম বীজতলা মুন্সীগঞ্জে করা হয়। এই আগাম বীজতলা পরিচর্যায় বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা। শীতের আগমন বার্তা শুরু হতে যাচ্ছে। তারাও যেন দম ফেলারও সময় পাচ্ছে না এই সময়টাতে। রামপালের কৃষক বললেন, আমি প্রতি বছর ভাদ্রের শুরুতেই জমিতে বীজতলা তৈরি করি। এবার বন্যার পানি জমি থেকে চলে গেলেও মাটিটি পুরুপুরি তৈরি হয়নি বীজতলার জন্য। তাই ভাদ্রের শেষের দিকে বীজতলার কাজ মাত্র শুরু করেছি। একটু সময় লাগবো বীজতলা তৈরি করতে।
শীতের শুরুতেই বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে জমিতে এসব শীতকালীন সবজি চাষাবাদের ধুম পরে যাবে মুন্সীগঞ্জ জেলাতে। বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে জমি প্রস্তুতে ব্যস্ত হয়ে উঠছে সবজি চাষীরা। তবে এই সময়ে বীজতলা পরিচর্যায়ই বেশি মনোযোগী মুন্সীগঞ্জের কৃষকগন। জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো:শাহ আলম জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় সর্বমোট ৫.৭০ হেক্টর জমিতে আগাম বীজতলা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ফুলকপির বীজতলা তৈরি হয়েছে বেশি ৩ দশমিক ১০ হেক্টর জমিতে। লাউ এর বীজতলা তৈরি হয়েছে ১ দশমিক ৫০ হেক্টর জমিতে, শিমের বীজতলা তৈরি হয়েছে ১ হেক্টর জমিতে এবং বেগুনের শুন্য দশমিক ১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, বন্যার কারনে এবার বীজতলা তৈরিতে দেরি হচ্ছে। বন্যার পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথেই আরও জমিতে বীজতলা তৈরি হবে।
মুন্সীগঞ্জ সদরের রামপাল, মহাকালী ও বজ্রযোগীনি ইউনিয়ন এর গ্রামগুলো ঘুরে শীতকালীন সবজির আগাম বীজতলা তৈরীর দৃশ্য দেখা গেছে। গ্রামগুলোতে কৃষকরা বীজতলায় সারাদিন পরিচর্যা করে চলেছেন। বীজতলাতে জৈবসার ও পানি ছিটাতে কৃষকদের ব্যস্ততার চিত্র এখন দেখা যাচ্ছে। এসব বীজতলার বেশ যতœ নিতে হয়। বীজতলার সবজি চারা গজিয়ে উঠার পর পরই একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা চাষাবাদ করার জন্য উত্তোলন করা হয়। বীজতলা থেকে চারা উঠিয়ে জমিতে সেই চারা রোপন করা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে শীতের শুরুতেই শীতকালীন এসব সবজি বাজারে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাবেন মুন্সীগঞ্জের কৃষক গন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.