বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিবন্ধনের জন্য স্বতন্ত্র আইন করা হলে তা হবে গণতন্ত্র্রের পরিপন্থী।

0 26

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন: আপত্তি পায়ে ঠেলে নতুন আইনের খসড়া

 

বাংলাদেশে বিরোধীদল বিএনপির পাশাপাশি একজন নির্বাচন কমিশনারের বিরোধিতা করার পরও রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ব্যাপারে একটি নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন।

ভিন্নমত পোষণকারি নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে নিবন্ধনের বিধান থাকার পরও আলাদা আইন তৈরি করার প্রয়োজন নেই। বিএনপি নেতারা বলেছেন, রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে ই আইন তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নুরুল হুদা  বলেছেন, এখন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নির্বাচনগুলোও দলীয়ভাবে হওয়ার কারণে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ থেকে নিবন্ধনের প্রসঙ্গ আলাদা করে নতুন আইন করা হচ্ছে। সেনা-সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৮ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে শর্ত সাপেক্ষে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিধান আনা হয়েছিল। এখন সেখান থেকে দলগুলোর নিবন্ধনের এই বিধান আলাদা করে স্বতন্ত্র আইন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন ২০২০’ – এই নাম দিয়ে এর খসড়া বুধবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।ছ

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ব্যাপারে স্বতন্ত্র আইন করার কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।

তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ মোট পাঁচজন সদস্যের সেই বৈঠকে একজন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বিরোধিতা করে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।  মি. তালুকদার বলেছেন, প্রয়োজন না থাকলেও স্বতন্ত্র আইন করা হলে তা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অঙ্গহানি করবে বলে তিনি মনে করেন। আমি এর বিরোধিতা করি। কারণ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ – এটা একটা ঐতিহাসিক আইনগত দলিল। এজন্য আমি মনে করি, নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাব গৃহীত হলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অঙ্গহানি ঘটবে। কোন্ যুক্তিতে এই পরিবর্তন প্রয়োজন হয়েছে, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।  উনিশশো বাহাত্তর সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বিভিন্ন সময় সংশোধন করা হয়েছে।

দু’হাজার আট সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের যে বিধান আনা হয়, সেই বিধানে থাকা তিনটি শর্তের একটি পূরণ করলেই কোন দল নিবন্ধনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হচ্ছে। এই শর্ত তিনটি হচ্ছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যে কোন একটি নির্বাচনে একটি দলের অন্তত একটি আসন অথবা পাঁচ শতাংশ ভোট পাওয়ার রেকর্ড থাকতে হবে। এছাড়া একটি দলের কমপক্ষে ২১টি জেলায় বা দু’শ উপজেলায় কমিটি থাকতে হবে। এখন স্বতন্ত্র আইনের খসড়ায় দু’টি শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।  এছাড়া পরোক্ষ কিছু শর্ত রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিবন্ধনের জন্য স্বতন্ত্র আইন করা হলে তা হবে গণতন্ত্র্রের পরিপন্থী।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: