বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি https://www.banglatribune.com/c/663490

95

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহর এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে শর্টসার্কিটের আগুনে পুড়ে একই পরিবারের চার জনের মৃত্যুর ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এবং পল্লী বিদ্যুতের তিন সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পল্লী বিদ্যুতের পরিচালক রফিকুল ইসলাম  জানান, এই দুর্ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

এছাড়া এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলাও হয়েছে। নিহত মাসুমের মামা নূর হোসেন বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে রূপগঞ্জ থানায় এই মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, মারা যাওয়া চার জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার দুপুরে সদরের জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আসাদুজ্জামান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মারা যাওয়া চার জন হলেন– কুমারটেক এলাকার বাসিন্দা ইজিবাইক চালক মো. মাসুম (৪০), তার স্ত্রী সীমা আক্তার (২৮), ছেলে আব্দুল্লাহ রাসেল (১৭) ও রহমত উল্লাহ (১০)।

এ সময় সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতদের স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। এই দুর্ঘটনার জন্য নিহতের স্বজনরা বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলাকে দায়ী করেছেন। এমন দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য আবাসিক এলাকায় বসতবাড়ির উপরে বা পথে-ঘাটে যেখানে সেখানে বিদ্যুতের তারের সংযোগ না করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান তারা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিও করেন তারা।

ঘটনা সম্পর্কে পূর্বাচল উপশহর মাল্টিপারপাস ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা উদ্দীপন ভক্ত জানান, নিহত মাসুমের বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দুটি লাইন গেছে। শুক্রবার রাত ৯টায় বিদ্যুতের একটি লাইন ছিঁড়ে অপরটির ওপর পড়ে আগুন ধরে যায়। সেই আগুন মাসুমের টিনের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে ঘরের মধ্যে থাকা চার জনই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মাসুম, রাসেল ও রহমতউল্লাহর পোড়া লাশ উদ্ধার করেন। সীমাকেও দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি মারা যান। রাসেল ও রহমত উল্লাহ শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিল।

এ ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির।

Comments are closed.

%d bloggers like this: