Ultimate magazine theme for WordPress.

বৃষ্টির পরে নতুন করে আলু বুনছেন আলু চাষীরা”

53

কাজী বিপ্লব হাসান: মুন্সীগঞ্জের মাটি, আলুর ঘাটি। পদ্মা,মেঘনা, ধলেশ্বরী, ইছামতি দ্বারা চারদিক বেষ্টিত মুন্সীগঞ্জে প্রচুর ফসল ফলে। তার মধ্যে আলুই প্রধান। সারাদেশের প্রায় ৪ ভাগের ৩ ভাগ আলুই মুন্সীগঞ্জ জেলাতে জন্মায়। এখন যদিও অন্যান্য জেলাতেও আলু চাষ হচ্ছে। এখানকার কৃষকরা আলুতে লোকসান গুনতে হলেও পরের বছর আবার আলু আবাদ করে। এই জেলার কৃষকদের আলু আবাদ এক ধরনের নেশার মতো। পরপর কয়েক বছর আলুতে লোকসান যাওয়ার পর এবার আলুতে বেশ লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। তাই তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। এমনি একজন কৃষক মহাকালী ইউনিয়ন এর বাগেশ্বর গ্রামের আলু চাষী আনোয়ার হোসেন। তার সাথে কথা হলো তিনি প্রতিবছরই আলু চাষ করে থাকেন। এবছর ৫৬০ শতাংশ জমিতে আলু আবাদ করছে। দেখতে পেলাম তিনি শ্রমিকদের সাথে আলু ক্ষেতে আলু বুনছে। অন্যদিকে দুজন শ্রমিক লাঙ্গল দিয়ে মাটি সমান করে দু’ভাগ করে দিচ্ছে লাগানো আলু দু’দিক করে। আলু চাষী আনোয়ার জানান, আমি আরও আগে থাইক্যাই আলু লাগানো শুরু করছি। ১৬০ শতাংশ আলু লাগানোর পর বৃষ্টিতে তা নষ্ট হইয়া যায়। বৃষ্টির পর আবার নতুন কইরা লাগাইতাছি। এই শীতের আবহাওয়াটা ভালো থাকলে ফলন ভালো হইবো আশা করি। আমরা আলু চাষীরাও লাভবান হইতে পারুম। এ বছর আলুর দাম বেশ চওড়া গেছে। এতে আপনার কেমন লাভ হয়েছে? এর উত্তরে তিনি বললেন, যারা দেরিতে বিক্রি করছে। তারা বেশি লাভবান হইছে। আমিতো জমি থাইক্যায় আলু তুইলা বিক্রি কইরা দেই তাই তেমন একটা লাভ করতে পারি নাই। তবুও কিছু আলু কোল্ড স্টোরে রাইখা বিক্রি করাতে ১ কানিতে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার মত লাভ হইছে। আর যারা আরো পরে বিক্রি করছে তারা কানি প্রতি ৩ লক্ষ টাকা ও লাভ করতে পারছে।
আলু চাষী আনোয়ারের ৫৬০ শতাংশ জমিতে আলু চাষে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মত খরচ হচ্ছে। [ আনোয়ারের পাশের জমিতে আলু বুনছিলেন আলু চাষী মজিবর। তিনি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করছে। তিনি বললেন যদি শীতের আবহাওয়াটা ভাল হয়। বৃষ্টিপাত না হয়। তাইলে ফলন ভাল হইব। কিছু লাভ ও করতে পারমু।
জেলা কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: শাহ আলম জানান, এবছর (২০২০-২১) সালে মুন্সীগঞ্জে এ পর্যন্ত ৩৩,৫১০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। আরও আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ৯,৫০০ হেক্টর, টঙ্গীবাড়িতে ৮,৭০০ হেক্টর, শ্রীনগরে ১,৮৫০ হেক্টর, সিরাজদিখানে ৮,৩৪০ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৩,০৫০ হেক্টর এবং গজারিয়ায় ২,০৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ বছর মুন্সীগঞ্জ জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৩৮,৫০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ১০,০২০ হেক্টর, টঙ্গীবাড়িতে ১০,০৯০ হেক্টর, শ্রীনগরে ২,২৫০ হেক্টর, সিরাজদিখানে ৯,৪২০ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৪,৩৭০ হেক্টর এবং গজারিয়াতে ২,৩৫০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হবে।

Comments are closed.