বেতন কমানোয় পাইলটরা অসন্তুষ্ট, ধর্মঘটের আলটিমেটাম দেয়নি : বিমানের সিইও

বেতন কমানোয় পাইলটরা অসন্তুষ্ট, ধর্মঘটের আলটিমেটাম দেয়নি : বিমানের সিইও

3

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল পাইলটদের ধর্মঘটের ব্যাপারে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেয়ার জন্য যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, পাইলট ও ক্রু সদস্যরা বেতন কর্তনের জন্য অসন্তোষ জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মবিরতির কোনো আল্টিমেটাম দেয়নি।

শনিবার সরকারি সংবাদ সংস্থা- বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনটাই জানিয়েছেন। বাসসকে তিনি বলেছেন, ‘তারা একটি চিঠিতে তাদের বেতন কর্তনের ব্যাপারে অসন্তোষ জানিয়েছে। কিন্তু এই ইস্যু নিয়ে ধর্মঘটে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি।

এর আগে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) নেতাদের বরাত দিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কোভিড মহামারীর অভিঘাতের কারণে কর্তন করা বেতন ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সমন্বয় করা না হলে বিমানের পাইলটরা ধর্মঘটে যাবে।

এ বিষয়ে বিমানের সিইও সালেহ বলেন, পাইলটদের বরাত দিয়ে মিডিয়ায় এ ধরনের প্রতিবেদন বিমানের বাণিজ্যিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন রুট-বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটগুলোর বিপুল সংখ্যক টিকিট ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারি, পাইলটদের এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার ফলে গত দু’দিনে বিমানের অন্তত সাত কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।’

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর পাইলটদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্র-মালিকানাধীন কোম্পানিটি মহামারীর কারণে আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য দৃঢ় প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের জুলাই মাস থেকে মহামারীর কারণে বিমান কর্তৃপক্ষ পাইলটসহ সকল কর্মচারীদের বেতন কর্তন করতে ও রক্ষাণাবেক্ষণ এবং পরিচালন খরচ কমাতে বাধ্য হয়েছিল।

বিমান কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত সিনিয়র পাইলট ছাড়া সংস্থার সকল কর্মচারীর বেতন কাঠামো পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিমান আরো জানায়, সিনিয়র পাইলটদের জন্য বেতন-কর্তন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। যেসব পাইলট পাঁচ বছর থেকে ১০ বছরের ধরে সেবা দিচ্ছেন, তাদের বেতন জুলাই মাস থেকে বিদ্যমান ২০ ভাগের পরিবর্তে ৫ ভাগ কর্তন করা হবে। যেসব ককপিট ক্রু সদস্য ১০ বছরের বেশি সময় ধরে সেবা দিচ্ছেন তাদের বেতন বর্তমান ৪০ ভাগের পরিবর্তে ২৫ ভাগ কর্তন করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) তাদের অসন্তোষ জানিয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি চিঠি লিখে। চিঠিতে তাদের বেতন কর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার অনুরোধ জানায়।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট স্থায়ী ১৫৭ জন পাইলটের মধ্যে ৬৯ জনকে তাদের স্বাভাবিক বেতন কাঠামোতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সালেহ বলেন, ‘বিমান তার স্বাভাবিক আয়ে ফিরে এলেই আমরা অন্যান্য সিনিয়র পাইলটদের বেতন-কর্তন বন্ধ করে দিব।’

বাপা সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান দাবি করেছেন যে যাদের মূল বেতন স্বাভাবিক কাঠামোতে ফিরে এসেছে, তাদের সংখ্যা ২০ জনের বেশি হবে না। মাহবুবুর রহমান বাসসকে বলেন, বাপা গণমাধ্যমকে বলেনি যে ৩০ জুলাইয়ের পর তারা ধর্মঘটে যাবে। তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ৩০ জুলাইয়ের পর থেকে আমরা কোনো অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কাজ করবো না।

বাপার সভাপতি বলেন, মহামারীর মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, ওষুধ, ভ্যাকসিন পরিবহনের প্রয়োজনে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার প্রয়োজন হলেও বিমানের পাইলটরা জরুরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

বিমান কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কোনো পাইলট বিমান চলাচল ব্যাহত করলে বিমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যেকোনো মহলের যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শুধু পাইলটদেরই নয়। বরং এর সকল কর্মীর বেতন কর্তন করেছে। বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমান কোভিড-১৯ চলাকালে কোনো পাইলটকেই বরখাস্ত করেনি। এমনকি কোভিড-১৯-এর প্রথম দিকের মাসগুলোতে কোনো কোনো পাইলট এক ঘণ্টাও বিমান না চালিয়ে বেতন গ্রহণ করেছেন। কোনো কোনো পাইলট মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিমান চালিয়েছেন।

সূত্র : বাসস

Comments are closed.

%d bloggers like this: