Ultimate magazine theme for WordPress.

ব্যতিক্রম ব্রাম্মনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়

0 29

 
স্টাফ রিপোর্টার: লৌহজং উপজেলার ব্রাম্মনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এবার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে। বার্ষিক পরীক্ষায় যারা উর্ত্তীণ হতে পারেনি, তাদের পদন্নোতি দেয়া হয়নি। এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭৭ জন। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের ম্যানেজিং কমিটির সর্বসম্মতি এই সিদ্ধান্তে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা মনোনিবেশ করেছে পড়াশুনায়। বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, যেহেতু এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ নেই। তাই ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ না হয়ে কেন সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাবে? তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় নানা কারণে ফেল করা শ্ক্ষিার্থীদের উপরের ক্লাসে ভর্তির সুযোগ করে দেয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা নিজের ক্লাসের যোগ্যতা অর্জন না করেই উপরের ক্লাসে উঠিয়ে দেয়ায় তাদের শিক্ষার চাপ আর বৃদ্ধি পায়। এতে এক সময় তাদের আর এসএসসি পাসই করা হয় না, ঝড়ে পড়ছে। এই বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেনাও রয়েছে। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধান মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে কিছু সমস্যাও ফেস করতে হচ্ছে। তবে অনেক অভিভাবক এবং শিক্ষার্থী বুঝতে পেরেছেন তাদের কল্যাণেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
 
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক এম এ রহিম জানান, এবছর ৬ষ্ঠ শ্রেণির ৩৩৪ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ২৬৫ জন। ৭ম শ্রেণিতে ১৮৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৭৭ জন উর্ত্তীণ হয়েছে। ৮ম শ্রেণির জেএসসিতে ১৫৩ জন অংশ নিয়ে ১২৪ উর্ত্তীণ হয়েছে। ৯ম শ্রেণিতে ১৯৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ১২৯ পদন্নোতি পেয়ে ১০ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া এবার এসএসসি পরীক্ষা দিবে ১৩৬ জন। ১১১ রেগুলার। বিগত বছরের অকৃতকার্য ২৫জন। এবছর টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছে ১০ জন। জেএসসিতে পাশের হার ৮২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১ জন।
প্রধান শিক্ষক বলেন, ৬ষ্ঠ, সপ্তম এবং ৯ম শ্রেণিতে পরীক্ষায় ৭১৮ জন। ৫৭১ জন উত্তীর্ণ হলেও অকৃতকার্য হয় ১৪৮ জন। এছাড়া জেএসসিতে আরও ২৯ জন। সব মিলিয়ে ১৭৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। এদের কাউকেই পদন্নোতি দেয়া হয়। ২০১৬ সালে ডিসে¤^রে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাউকেই পদন্নোতি দেয়া হয়নি। গত ২০১৭ সালের ২৯ ডিসে¤^রের সভারও একই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদিকে এই বিষয়ে সর্বস্মত সিদ্ধান্ত সত্তে¡ও কতিপয় সদস্য কিছু শিক্ষার্থীকে পদন্নোতি দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। যেহেতু শিক্ষামন্ত্রণালয় তথা বোর্ডের সিদ্ধান্ত রয়েছে তাই পদন্নোতি দেয়া হচ্ছে না। তবে এই সিদ্ধান্তে এবার বার্ষিক পরীক্ষায় পাসের হার বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এখন থেকেই লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেছে। কিছু ক্ষোভ থাকলেও তা বুঝতে পেরেছে আগে থেকেই নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। অভিভাকদের অচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের অবহেলার কারণেই এত শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। তবে পদন্নোতি না দেয়ায় এবার সকলেই অভিভাক এবং শিক্ষার্থীদের টনক নড়েছে। এতে সুফল পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন। লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনির হোসেন জানান, অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থী ওপরের শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ঠিক নয়। ব্রাম্মনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এত সুফল আসবে।
সরেজনি নাইডুর গ্রামের নামের এই স্কুলটি নানা কারণেই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। নদী ভাঙ্গনের কারণে ব্রাম্মনগাঁও স্কুলটি এখন অবস্থান করছে পদ্মা তীরের কনকসার গ্রামে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. হারুন অর-রশীদ জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষার মানোন্নয়ে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সাথে শিক্ষকদের এব্যাপারে আরও যতœশীল হতে হবে। কারণ এক বছর লেখা পড়া করে একজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হবে এটি গ্রহনযোগ্য নয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.