মাঘ ফাল্গুনে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আলুর ফলন কম হয়েছে

57

কাজী বিপ্লব হাসানঃ শস্য-ফসল নিয়ে মুন্সীগঞ্জের একটি প্রবাদ আছে, “মুন্সীগঞ্জের মাটি-আলুর ঘাটি।” আসলেও তাই। সারা বাংলাদেশের মধ্যে মুন্সীগঞ্জেই আলুর ফলন বেশি হয় এবং তা বেশ ভালো মানের। এটা বিগত যুগ থেকেই চলে আসছে। মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা আলুতে লোকসান গুনতে হলেও প্রতি বছর বেশিরভাগ জমিতে আলু চাষ করে। এমনি একজন আলু চাষী হচ্ছে আনোয়ার হোসেন। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাগেশ্বরে তার বাড়ি। এ বছর ১০০০ শতাংশ জমিতে আলু রোপণ করেছিলেন। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে আলু বুনতে হয় এবং ফাল্গুন-চৈত্র মাসে ক্ষেত থেকে আলু উঠানো হয়। আনোয়ারকেও দেখলাম তার লোকজন সহ ক্ষেত থেকে আলু তুলছে। আলুর উৎপাদন কিরূপ হয়েছে জানতে চাইলে আনোয়ার বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারের ফলন অনেক কম। তারপরও আশা করছি বাজারে ন্যায্য দাম পেলে আলু বুননের টাকাটা উঠে আসবে, কিছু লাভ হতে পারে। ১০০০ শতাংশ জমিতে আলু বুনতে কেমন খরচ পড়ে? এর উত্তরে সে বলল, প্রথমে বীজ আলু তৈরি, তারপর রোপণ করা এবং শ্রমিকদের প্রতিদিনের মজুরিসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। আনোয়ার আমাদের জানালো, এবার আলু জমি থেকে তুলেই বিক্রি করে দিবে, কোল্ড স্টোরে রাখবে না। কেন রাখবে না এই উত্তরে বলল, কোল্ড স্টোরে রাখতে হলে ছালা কিনতে হয়, দড়ি কিনতে হয় আবার শ্রমিকদের মজুরি দিয়ে কোল্ড স্টোরে পাঠাতে হয়। তারপর কোল্ড স্টোরের ভাড়া তো আছেই। এতে আলু লাগানোর দামও উঠবে না। তাই ক্ষেত থেকেই আলু বিক্রি করে দিচ্ছি। আলুর ফলন কম হলো কেন? এ কথা বলায় সে বলল, মাঘ-ফাল্গুনে এবার তেমন একটা বৃষ্টি হয় নাই। সেচের পানি তাড়াতাড়ি ক্ষেত থাইক্যা শুকাইয়া যায়। কিন্তু বৃষ্টির পানি অনেকক্ষণ ক্ষেতে ধইরা রাখতে পারে। এতে আলুর ফলন বেশি এবং আকারেও বড় হইতো। অপর আলু চাষী মহাকালী ইউনিয়নের বড়উঠান গ্রামের আশরাফ তালুকদার বলেন, আমি আট কানি জমিতে আলু চাষ করছি। ফলন গতবারের তুলনায় অনেক কম। এক কানিতে ৭০ থেকে ১০০ মন আলু কম হইতাছে। ফলন কম হলে বাজারে চাহিদা বেশি থাকে। কেমন দাম পাচ্ছে আলুর? এর উত্তরে তিনি বলেন, বাজারে ভাল দামই আছে। লাভ না হইলেও বুনতে যেই টেকা লাগজে তা উইঠ্যা আইব। আনোয়ারের জমির পাশের এক জমিতে লাল আলুর দেখা পাই। সেই চাষী বলেন, আমার আলুর ফলন ভালোাই হইছে। তবে আলুর দাদ রোগ হইছে, তাই তাড়াতাড়ি উঠাইয়া বেইচ্যা লাইতাছি। কোল্ড স্টোরে আর রাখতে পারুম না
মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিরুত্তম কুমার সরকার জানান, এ বছর মুন্সীগঞ্জে (২০১৯-২০) ৩৭,৫৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২,০০০ হেক্টর জমির আলু উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এই ২০০০ হেক্টর জমির আলু দিয়ে আর বলা যায় না যে, আলুর ফলন কেমন হয়েছে। ২০০০ হেক্টর জমির আলুর গড় ফলন ৩৩.৫০ মেট্রিকটন। তিনি আরো বলেন, সদর উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলু উত্তোলন করা হয়েছে। পুরোদমে আলু উত্তোলনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে মুন্সীগঞ্জের আলু চাষীরা।

Comments are closed.

%d bloggers like this: