মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ধানকাটা শ্রমিকদের আটক করে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ

মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ধানকাটা শ্রমিকদের আটক করে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ

14

স্টাফ: মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ধানকাটা শ্রমিকদের আটক করে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে ধলেশ্বরী নদীর মুক্তাপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এই চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, সিরাজদিখান উপজেলার সাপেরচর এলাকায় প্রায় ৩০ জন শ্রমিক ট্রলারযোগে কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলি উপজেলার সিংপুর, মিঠামইন এলাকায় যাচ্ছিলেন। এসময় ট্রলারটি যখন মুক্তারপুর ফেরিঘাট এলাকায় পৌছানো মাত্র নৌ পুলিশের একটি টহল টিম ট্রলারটিকে আটক করে মুক্তারপুর নৌ পুলিশের ফাঁড়ির সামনে নিয়ে যায়। প্রায় এক ঘন্টা আটক রাখার পর ট্রলারটি পূনরায় পশ্চিমদিকে পুলিশ প্রহরায় মিরকাদিম পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়ে ছেড়ে দেয়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিকরা মুক্তারপুর ফাঁড়ি থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মিরকাদিম লঞ্চঘাট যাওয়ার সময়েও দৈনিক মুন্সীগঞ্জর খবরের একটি প্রতিবেদক টিম ট্রলারটির পিছু নেয়। ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় যাওয়া মাত্র নৌপুলিশ সদস্যরা পূনরায় ফাঁড়ির দিকে এবং শ্রমিকরাও ট্রলারটি ঘুরিয়ে মেঘনার দিকে রওয়ানা করে। তাৎক্ষনিক প্রতিবেদক শ্রমিক ভর্তি ট্রলারটি ফলো করে সড়কপথে মোটর সাইকেলযোগে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট পৌছায়। লঞ্চঘাট পৌছানোর পর ভাড়ায় চালিত একটি ট্রলারযোগে নদীর মাঝখানে গেলে শ্রমিকরা সাংবাদিকদের দেখে কথা কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ধলেশ্বরী এবং শীতলক্ষা নদীর মোহনায় ট্রলার চলা অবস্থায় কথা হয় একাধিক শ্রমিকের সাথে। এসময় তাদের বক্তেব্যেই উঠে আসে নৌপুলিশের নীরব চাঁদাবাজির অভিযোগ।
শ্রমিক ইমাম আলী বলেন, আমরা সকলে সিরাজদিখান উপজেলার সাপেরচর এলাকায় ইটভাটায় কাজ করতাম। কার্তিক মাসে এই জেলায় আসছি। দেশে জমিতে ধান পেঁকে গেছে। আমরা ধানকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। লকডাউনে শ্রমিক সংকটের কারনে কোন কৃষকরা ঘরে ধান তুলতে পারছেনা। ট্রলারে থাকা একাধিক জমির মালিকও আছে। তাদের জমির ধান কাটার সময় হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন , মুক্তারপুর এলাকায় আসার পর নৌপুলিশ আমাদের ট্রলার আটক করে ৩০ জন শ্রমিকের আসবাবপত্র, বিছানাসহ অন্যান্য মালামাল রেখে দিতে চেষ্টা করে। এক ঘন্টা আটক রাখার পর আমরা যখন বললাম আমরা ধানকাটার শ্রমিক আমাদেরকে যেতে দেন। পরে তারা জনপ্রতি ২শ করে টাকা রেখে আমাদেরকে ছেড়ে দেন। ছেড়ে দেওয়ার পর উল্টো মিরকাদিমে দিকে নৌপুলিশ আপনাদের সাথে সাথে গেলো কেন? । এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নৌপুলিশ বলছে সরাসরি ফাঁড়ির সামনে থেকে যাইবা না। পিছন থেকে ঘুরে তারপর যাও। একারনে মুক্তাপুর ফাঁড়ির সামনে থেকে পশ্চিমদিকে মিরকাদিম লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে সেখান থেকে ট্রলারটি ঘুরিয়ে পূনরায় পূর্ব দিকে রওয়ানা করি।
আরেক শ্রমিক শাহজালাল বলেন, পুলিশ আমাদেরকে টাকা নেয়ার পর ছেড়ে দিছে। তবে তারা আমাদেরকে উল্টো অনেক পথ ঘুরে আসার জন্য বলেছে। তাদের কথা না শুনলে বলছে আবারও আটকাবে। তাই তাদের কথা পালন করেই এখন মেঘনা নদীর মোহনায় আসলাম। অন্যদিকে বিকেল ৩ টার দিকে শ্রমিকর ইমাম আলী ফোন করে প্রতিবেদককে জানান তারা মুন্সীগঞ্জ জেলার মেঘনা সীমানা অতিক্রম করেছে। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে এই রিপোর্ট লিখার সময় আবারও প্রতিবেদককে ফোনালাপে ইমাম আলী জানান, তারা এখন নরসিংদি জেলার মানিকনগর বাজারে অবস্থান করছেন।
মুক্তাপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: কবির হোসেন খাঁন বলেন, ট্রলারটি আটক করার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আমরা তাদেরকে মিরকাদিম পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসছি। ছেড়ে দেওয়ার পর ট্রলারটি মেঘনার দিকে গেলো কিভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদউত্তোর তিনি দিতে পারেনি। পরবর্তীতে তিনি কৌশল পাল্টিয়ে বলেন, হে বুঝতে পারছি এই কাজটা বক্তাবলি ফাঁড়ির লোকজন করেছে। আমি তাদেরকে ডেকে আনবো।
নৌ পুলিশ নারায়নগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন ট্রলারটি আটক বা ছেড়ে দেয়া হলো এই বিষয়য়ে তদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় কেউ অপরাধী প্রমানিত হলে তাকে অবশ্যই সাজা ভোগ করতে হবে।

Comments are closed.

%d bloggers like this: