মুন্সিগঞ্জ একটি সম্ভব্য পর্যটন ব্রান্ডিং জেলা

 

শেখ আলী আকবরঃ মুন্সিগঞ্জ একটি সম্ভব্য পর্যটন ব্রান্ডিং জেলা। বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তার মধ্যে যে জেলা বা অঞ্চলের যে বিষয়টি অর্থিক উন্নয়নে সর্বাধিক অগ্রভূমিকা পালন করে যাচ্ছে সে পণ্য বিষয় অথবা পর্যটন বিষয়কে “ব্রান্ড” হিসেবে গণ্য করা এবং তার সার্বিক উন্নয়নে সরকারি ভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করা। মুন্সিগঞ্জ জেলায় আলু একটি প্রধান অর্থকরী ফসল হওয়ায় এটিকে ব্রান্ড করা হয়েছে। তবে এ এলাকায় যেসব ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন ও বিষয়বস্তু রয়েছে সেগুলি সবার সম্মুখে তুলে ধরা হলে এ জেলা একটি পর্যটন অঞ্চল হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করবে।
পাচঁ হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার সমস্ত বঙ্গদেশ নবম শতাব্দিতে ছয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। এ ছয়টি অঞ্চল হলো ১) চম্পা, ২) কাজঙ্গলা, ৩) পন্ডুবর্ধণ, ৪) সমতট, ৫) তাম্রলিপ্ত  ও ৬) কর্ণসবর্ণ। মুন্সিগঞ্জ জেলা তথা বিক্রমপুর সমতটের একটি অংশ বিশেষ। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশরী, ইছামতি, বিধৈাত, সাবেক বিক্রমপুর একটি পরগণা। নবম শতাব্দিতে বঙ্গপোসাগরের সমতট ব্যাপি কতগুলো স্থান সমতটখ্যা হিসেবে পরিচিত ছিল। চৈনিক পরিব্রর্যক ইউআন চংঙ্গের ভ্রমন বৃত্তান্ত পাঠে জানা যায় যে, তখন বিক্রমপুর সমতটখ্যা স্থানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রাচীন বিক্রমপুরে রাজা শশঙ্ক এবং পাল ও সেন রাজাদের রাজত্ব ছিল। পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মালম্বি ছিল। মধ্যাযুগে সুলতানি এবং মুঘল রাজত্ব কায়েম ছিল। সমতট আকবরের আমল থেকে ১৬৩৮ খ্রি. পর্যন্ত প্রায় এই বঙ্গে মগ ও ফিরিঙ্গীদের অভীরাম লুটপাত চলতে থাকে। ১৫৩৮ খ্রি. থেকে ১৬৩৮ খ্রি. পর্যন্ত প্রায় ১০০ শত বছর পর্যন্ত এ এলাকা মগ ও ফিরিঙ্গীদের অত্যাচার ছিল। জেলা সদরের মালির পাথরের পশ্চিমে ও বিনোদপুরের পূর্বপাশে ফিরিঙ্গীদের একটি শক্তিশালী ঘাটি ছিল এবং এ এলাকাটি ফিরিঙ্গী বাজার নামে পরিচিত। কালের বিবর্তনে এবং এলাকার কিছু প্রভাবশালীদের দখল বাজিঁর কারণে ফিরিঙ্গীরা তাদের যে কুঠিটি ব্যবহার করতো সেটি এখন নিশ্চিহ্ন। (চলমান……..)

মুন্সিগঞ্জ ভয়েজ ডট কম
 
 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.