মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দিতে ক্রামবোড খেলাকে কেন্দ্র করে ৩ গ্রামে সংঘর্ষ

মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দিতে ক্রামবোড খেলাকে কেন্দ্র করে ৩ গ্রামে সংঘর্ষ

2

মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দিতে ক্রামবোড খেলাকে কেন্দ্র করে ৩ গ্রামে সংঘর্ষ

তুষার আহাম্মেদ- মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের তিন গ্রামের মধ্যে আবারো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে এক পক্ষের দুই জন আহত হয়েছে। আহতরা হচ্ছেন আরিফ ও রতন। আরিফ ছিটা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন।

তবে তাঁরা মামলার ভয়ে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংঘর্ষের শিকার গ্রাম তিনটি হচ্ছে মুন্সীকান্দি, দক্ষিণ বেহেরকান্দি ও উত্তর বেহের কান্দি। থেমে থেমে দুইদিন ব্যাপি সংঘর্ষে একাধিক ককটেল ও গুলি ব্যবহার হয়েছে। ককটেলের বিস্ফোরণে অনেকের ঘরের চাল ছিদ্র হয়ে গেছে। অনেকের ঘর চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

সংঘর্ষের সময় সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে অনেকর ঘরে হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় ঘরের আসবাবপত্র ভাংগচুর করেছে। লুট করে নিয়ে গেছে টেলিভিশন। এরমধ্যে একজনের চারটি ছাগলের মধ্যে তিন ছাগল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের তান্ডবে এখানে নারী ও শিশুরা আতংকের মধ্যে দিনযাপন করছেন। এসব ঘটনায় এখানে পুরুষ শূণ্যে হয়ে পড়েছে এ গ্রামটি।

জানা যায়, গত বুধবার বিকেলের দিকে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ক্যারাম খেলা নিয়ে স্থানীয় স্বপন মেম্বারের ছেলের সাথে উত্তর বেহের কান্দির আরিফের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর এ বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নিলে রতন আরিফকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে তিনটি গ্রাম সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এদিকে দক্ষিণ বেহেরকান্দির স্বপন মেম্বারের দলবল স্থানীয় কবর স্থান থেকে ট্রলার নিয়ে মুন্সীকান্দি গ্রামে হামলা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মিনহাজ ও মুন্সীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক।
এদিকে দুপুরের দিকে মুন্সীকান্দির একাধিক নারীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুন্সীগঞ্জে নিয়ে আসতে দেখা যায়।

মোল্লাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা জানান, মুন্সীকান্দির অবস্থা তেমনটা ভালো না। যে কোন সময়ে সেখানে আবারো হামলা হতে পারে। তিনি আরো জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার মুন্সীকান্দি থেকে স্বপন মেম্বারের স্ত্রীসহ ৫জন নারীকে পুলিশ ডেকে এনে তাদেরকে গ্রেফতার দেখায়। আমি তাদেরকে আদালত থেকে জামিনে ছাড়িয়ে আনি।

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব জানান, মুন্সীকান্দির ঘটনায় কেউ এখনো অভিযোগ করেনি। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Comments are closed.

%d bloggers like this: