মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ভূল চিকিৎসায় জমজ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ভূল চিকিৎসায় জমজ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

0

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ভূল চিকিৎসায় জমজ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

তুষার আহাম্মেদ- মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ভূল চিকিৎসায় নবজাতক জমজ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার নওপাড়া বাজারে অবস্থিত নওপাড়া ডিজিটাল হাসপাতাল এন্ড ডি ল্যাব ক্লিনিকে রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়নের মালিঅংক গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী আয়শা বেগম ৬ মাসের অন্তসত্বা অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় পেটে সাময়িক ব্যাথা নিয়ে নওপাড়া বাজার ডিজিটাল হাসপাতালে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করার কথা বলে। কিন্তু স্বজনরা তাদের জানায়, অন্তসত্বা আয়শা বেগম লৌহজং সদর হাসপাতালে গাইনী ডাক্তার তাহমিনার তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার অনুমোতি ছাড়া তারা কোন চিকিৎসা করাবেন না। এসব কথা শুনার পর নওপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালের কতৃপক্ষ রোগী ও তার সাথে থাকা আত্মীয়স্বজনকে আশ্বাস দেন তারা ডা: তাহমিনার সাথে কথা বলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। অথচ হাসপাতাল কতৃপক্ষ ডা: তাহমিনার সাথে কোন রকম যোগাযোগ না করে তারা নিজেরাই রোগী দেখে ভূল চিকিৎসা দেন এবং কিছু ওষধ ও স্যালাইন আনতে রোগীর লোকজনের কাছে একটি সিলিপ ধরিয়ে দিয়ে বলেন ডা: তাহমিানা আপা এসব চিকিৎসা দিয়েছেন। ওষধ গুলো আপনারা নিয়ে আসেন।

অপর দিকে রোগীকে আলটাস্নোগ্রাম করানো হয়। সেখানে দেখা যায় বাচ্চার হাডবিট ভাল এবং বাচ্চা সুস্থ্য রয়েছে। এরপর রোগীর শরীরে একটি স্যালাইন পুশ করা হলে তার ব্যাথা বেরে যায় এবং রাত সাড়ে ৮টায় দুটি জমজ কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। দুই ঘন্টা জীবিত থাকার পর রাত ১০টায় জমজ দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়। অপুষ্ঠি ও অপরিপক্ক হওয়ায় এবং সময়ের আগে জোড়পূর্বক গর্ভপাত করানোর কারণে জমজ নবজাতকের মৃত্যুর কারণ বলে জানা যায়।

এদিকে হাসপাতালের সিটে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে আয়শা বেগম। সোমবার সকালে জমজ নবজাতকে বেজগাঁও কবরস্থানে দাফন করেছেন তার আত্মীয়স্বজনরা। রোগীর আত্মীয়স্বজন ও স্বামী মো. দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, রোগীকে কোন রকম চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষ ১৩ হাজার পাচঁশত টাকা বিল করেছে। এই টাকা পরিশোধ না করায় রোগী আটকে রাখা হয়েছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ আলটা করানো বাবদ ১৫০০ টাকা এবং ওষধ ও স্যালাইন নিজেরা কিনে এনেছি, ডেলিভারি নর্মাল হয়েছে তারপরও ১৩হাজার ৫০০ টাকা বিল করেছে তারা। এতো টাকা বিল দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে এই রিপোট লিখা পর্যন্ত সোমবার সারা দিন রোগীকে টাকার জন্য আটকে রাখার অভিযোগ করেছে রোগী আয়শা বেগমের স্বামী দেলোয়ার হোসেন।

এ বিষয়ে জানতে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইন বিভাগের চিকিৎস ডা. তাহমিনার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি তার সাথে কেউ যোগাযোগ করেননি।

এই বিষয়ে নওপাড়া ডিজিটাল হাসপাতাল এন্ড ডি ল্যাবের পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি হাসপাতালে রোগীর সাথে। রোগী এবং তার আত্মীয়স্বজনের ইচ্ছেতেই সব কিছু হয়েছে। টাকার জন্য রোগী আটকে রাখার কথা বলা হলে সে জানায়, চিকিৎসা করালে তার বিল দিতে হবে এটাই স্বাভাবিক।

এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসাইন জানান, এমন একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ঘটনা স্থলে অফিসার পাঠিয়েছি। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments are closed.

%d bloggers like this: