মুন্সীগঞ্জে নদী ভাঙনে দিশেহারা খোলা আকাশে নিচে ২০পরিবার

মুন্সীগঞ্জে নদী ভাঙনে দিশেহারা খোলা আকাশে নিচে ২০পরিবার

0

তুষার আহাম্মেদ- মুন্সীগঞ্জে পদ্মা নদীর ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ২০টি পরিবার। টংগিবাড়ী উপজেলার পুরা বাজার সংলগ্ন বালুর মাঠে খোলা আকাশের নিচে টিনের চালা আড়াআড়ি করে আশ্রয় নিয়েছে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা। গতকাল রবিবার পুরা বাজার এলাকার  বালুর মাঠে গিয়ে দেখা যায় প্রায় এক শতাধিক মানুষ রোদের তাপ থেকে বাঁচার জন্য দুটি টিনের চালা দার করিয়ে তার ভিতরে কোনোরকম আশ্রয় নিয়েছে।

তাঁদের সাথে কথা বলে জানাজায়, তাঁরা সকলেই সরিষাবন নদী ভাঙন এলাকা থেকে এখানে এসে উঠেছে। গত ছয় দিন যাবৎ খোলা আকাশের নিচে এভাবেই দিন যাপন করছেন তারা।

প্রতিটি মুহূর্ত পার করছেন অনিশ্চয়তা এবং হতাশার মধ্য দিয়ে।

নদী ভাঙন এলাকা থেকে আসা নারগিস বেগম জানান, নদীর ভাঙনে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের বাড়ি-ঘর সব নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কোনোরকম একটা ঘরের চালা গুলে নিয়ে এখানে এসেছি। খাবারের ব্যবস্থা নাই, স্বামীর কাজ-কাম নাই, ঘর তোলার সামর্থ নাই। যেকোনো সময় বাতাসে উড়িয়ে নিতে পারে ঘরের চালা।

অনেকে এখানে অস্থায়ী ভাবে ঘর তুলে থাকবে কিন্তু আমার ঘর তোলার মত সেই সামর্থ টুকুও নাই।

মানিক মিয়া জানান, আমাদের এই করুন অবস্থায় দেখার কেউ নাই। সরিষাবন এলাকায় পদ্মার ভয়াবহ নদী ভাঙন আমাদের সবকিছু কেরে নিলো। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম।

জাকির হোসেন জানান, আমাদের মত এমন শত শত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে পথে বসেছে।
যে যেখানে পারছে সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আমাদের থাকার কোনো জায়গা না থাকায় আমরা এই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছি।

যশলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমাস চোকদার জানান, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানিনা। খবর নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টংগিবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জগলুল হালদার ভুতু জানান- সরিষাবন এলাকায় নদী ভাঙনে অনেকের বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। সেখান থেকে কিছু লোক পুরা বাজার এলাকায় বালুর মাঠে আশ্রয় নিয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিভিন্ন জায়গায় খাদ্যসামগ্রী ও নতুন টিন প্রদান করা হচ্ছে। তাদের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টংগিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার  (ইউএনও) নাহিদা পারভীন এর সাথে মুঠো ফোনে জানাযান কামারখাড়া এলাকাতে আজ ১২০ পরিবার  কে ত্রান সামগ্রী দেওয়া হয়েছে   আজ হয়তো যংশলং ইউনিয়নে আশ্রয় নেওয়া নদী ভাঙ্গন  এলাকার   লোকদের  দেখতে যাবো ও ব্যবস্থা  নেবো।

Comments are closed.

%d bloggers like this: