মুন্সীগঞ্জে বিশাল এলাকা জুড়ে আলু চাষের আড়ালে পপি চাষ করা হচ্ছে

112

কাজী বিপ্লব হাসান: মুন্সীগঞ্জে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী পপি চাষ করা নিষিদ্ধ ও আমদানি ও রপ্তানি করা নিষেধ থাকা সত্বেও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের চরবানিয়ালে বিশাল এলাকা জুড়ে আলু চাষের আড়ালে পপি চাষ করা হয়েছে। প্রায় তিন একর জমিতে পপি চাষ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, পপি চাষ করা হলেও সেখানে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পপি ক্ষেতের কোনো মালিককে না পেয়ে আলামত হিসেবে পপি গাছ জব্দ করেছে। রবিবার দুপুরে সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) শেখ মেজবাহ-উল-সাবেরিনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) শেখ মেজবাহ-উল-সাবেরিন জানান, খবর পেয়ে আমরা যখন চরবানিয়ালে যাই, সেখানে বিস্তীর্ণ এলাকায় পপি চাষ হয়েছে দেখতে পাই। কিন্তু, ক্ষেতের কোনো মালিককে পাওয়া যায়নি আর ক্ষেতের ফসল আগেই কেউ নষ্ট করে দিয়েছে। সেগুলো আর ব্যবহার উপযোগী নেই। আলামত হিসেবে আমরা কিছু পপি গাছ জব্দ করেছি। তিনি আরো জানান, যেহেতু পাঁচ কেজি পরিমাণের চেয়ে বেশি তাই এটি এখন আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ারে নেই। পুলিশ নিয়মিত মামলা রুজু করবে। জব্দকৃত পপি পরীক্ষার জন্য কৃষি অধিদপ্তরে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। বাংলাবাজার ইউনিয়নের সচিব হুমায়ুন কবীর জানান, নিজাম, খোরশেদ মাঝি ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তি স্থানীয়দের কাছ থেকে আলু চাষের কথা বলে জমি ভাড়া নিয়েছিল। তারাই পপি গাছ চাষ করেছে বলে জানতে পারি। এদিকে, নমুনা হিসেবে যে ফসল জব্দ করা হয়েছে তা পপি এবং এটি মাদক হিসেবে নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম সাকিব হোসেন। তিনি জানান, এটি পপি গাছ এবং এটি মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি।এদিকে, এ বিষয়ে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত সাড়ে ১২ টা) মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় কোন মামলা নথিভুক্ত হয়নি বলে জানা গেছে। তবে, পুলিশ জানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি আনিচুর রহমান জানান, যে এলাকায় পপি চাষ হয়েছে তা একটি দুর্গম অঞ্চল। সেখানে কিভাবে এবং কারা পপি চাষ করল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমরা দুজনের নাম পেয়েছি। তবে, তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। অন্যদিকে, যে জমিতে পপি চাষ হয়েছে তার প্রকৃত মালিক কারা এবং কি ফসল চাষের জন্যে তাদের জমি ভাড়া দেয়া হয়েছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদি জমির মালিককে পাওয়া যায় এবং সে মামলা করতে চায় তাহলে তার মামলা আমরা নেব। নয়ত পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। এ ব্যাপারে এখনও কেউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান ওসি। এদিকে, কিভাবে মুন্সীগঞ্জে পপি চাষ করা সম্ভব হল এবং কারা এ মাদক চাষ করল তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, এই পরিমাণ বড় হতে পপি গাছের নিশ্চিত কয়েকমাস সময় লেগেছে। তাহলে প্রশাসনের নজরে এত পরে আসল কেন? জানা যায়, এই গাছটি একটি মাদক দ্রব্যের গাছ। পপি গাছের ফল যখন পরিপক্ব হয় তখন ব্লেড দিয়ে ফলের গায়ে আচঁড় দেয়া হয়। ফলে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা পর এর ফল থেকে কষ বের হয় এবং চাষীরা তা সংগ্রহ করে। যা আফিমের কাঁচামাল হিসেবে বাজারজাত করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অন্যান্য উপজাত জৈব রাসায়নিক দ্রব্য বানানো হয়। এটি থেকে হিরোইন ছাড়াও মরফিন পাওয়া যায়, যা ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই গাছটিতে বিভিন্ন রং এর ফুল হয়ে থাকে যেমনঃ লাল, হলুদ, সাদা। মুন্সীগঞ্জের গাছ গুলোতে সাদা রংয়ের ফুল ছিলো। তবে সব পপি ফুল থেকে মাদক দ্রব্য তৈরি হয় না বলেও জানা যায়।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় তিনজনকে আসামী করে মামলা রুজু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে গ্রেফতারের জন্য চিরনী অভিজানের চেষ্টা চলছে।

Comments are closed.

%d bloggers like this: