মুন্সীগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টিনে ৬৮১, মুক্ত ৪১০ প্রবাসী ১৮৩৩ পরিবারে ত্রাণ বিতরণ

কাজী বিপ্লব হাসান :
মুন্সীগঞ্জ জেলার ছয়টি উপজেলায় ৬৮১ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। তাদেরকে বাড়িতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবস্থান করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গেল ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আর কেউ হোম কোয়ারেন্টিনে যাননি। গত ২৪ ঘন্টায় হোম কোয়ারেন্টিন সফল ভাবে সম্পন্ন করে ছাড়পত্র পেয়েছে ৫৩ জন। এই নিয়ে গেল কয়েকদিনে ৪১০ জন হোম কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করেছেন। সোমবার বাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দীপক কুমার রায়। মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ জানান, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিদিন স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন খোঁজখবর নিচ্ছেন। এদিকে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে রাজপথ একেবারেই ফাঁকা। জেলা প্রশাসক ¯স্বাক্ষরিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। গত পয়লা মার্চ থেকে এপর্যন্ত মুন্সীগঞ্জে বিদেশ প্রত্যাগত সংখ্যা ৫ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে চিহ্নিত করা গেছে ৬৮১ জন। জেলার সরকারি ৭টি হাসপাতাল এবং বেসরকারী ৩০টি সহ মোট ৩৭টি হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে সরকারী হাসপাতালের বেড সংখ্যা ৩৫০ এবং বেসরকারী হাসপাতালের বেড সংখ্যা ৩শত। করোনা চিকিৎসার জন্য সরকারী হাসপাতালে ৩০টি বেড এবং বেসরকারী হাসপাতালে ১২টি বেড তৈরী রাখা হয়েছে। সারকারি হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসক সংখ্যা ৭৭ জন। আর বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসক সংখ্যা ৬৬ জন। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি জরুরি চিকিৎসায় জরুরি ছয়টি আইসোলেশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইপিপি বিতরণ হয়েছে ২৬২টি। আর মজুদ আছে ১১৫টি। সরকারি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় জেলায় বরাদ্দকৃত মোট ৭লাখ টাকা এবং ১শত টন চাল ছয়টি উপজেলার উপ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এদিরকে প্রানঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেকানপাট ব্যবসা প্রষ্ঠিান বন্ধ থাকায় অভাবী ও দিন মজুর মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অবরুদ্ধ থাকা এসব মানুষের মাঝে গতকাল ৯৩৩টি পরিবারের মাঝে সরকারি এই ত্রাণ বিতরণ করা হয়। আর আগে রবিবার আরও ৯৫০ পরিবারের মধ্যে এই ত্রাণ বিতবণ নিয়ে এপর্যন্ত ১ হাজার ৮৮৩ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার হয়। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা ২শত পরিবার, গজারিয়া উপজেলায় ৩০৮ পবিবার, সিরাজদিখান উপজেলায় ১৫০ পরিবার, শ্রীনগরে ১২৫ পরিবার, লৌহজংয়ে ৪শত পরিবার এবং টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় ৭শত পরিবারের মাঝে এই ত্রান বিতরন করেছেন। মুন্সীগঞ্জ শহরে লোকজনের চলাচল কম আছে। সেনবাহিনি ও পুলিশের টহল আছে। নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি দোকান, কাঁচাবাজার , র্ফামেসী, স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান খোলা আছে। তবে সকল প্রকার দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গনপরিবহন ও নৌপরিবহন বন্ধ রয়েছে। তবে কিছু কিছু স্থানে লোকজনের সমাগম বেশী থাকায় সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

Spread the love

Comments are closed.