মুন্সীগঞ্জে ২৫শে মার্চ কালো রাত্রি ও ২৬ মার্চ¯স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

0 31

 

আবু হানিফ রানা: মুন্সীগঞ্জ জেলায় ২৫শে মার্চ কালো রাত্রি ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন-করা হয়। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের উত্তাল দিনগুলোতে বাঙ্গালী জাতিকে দাবিয়ে রাখার জন্য ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙ্গালী জাতির উপর পাক্ হানাদার বাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হত্যা করা হয় হাজার-হাজার বাঙ্গলী নৌ পুলিশ- ইপিআর- ছাত্র- যুব-রাজনৈতিক কর্মিদেরকে। হত্যা করা হয় বুদ্ধিজীবিসহ সমাজের আলোকিত মানুষদেরকে। সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি স্মরণে রাত ৯ টায় সকল আলো নিভিয়ে ও সকল কাজ কর্ম থামিয়ে দিয়ে ব্লাক আউট পালন করা হয়। এই দিবস স্মরনে ২৫ মার্চ রাত ১২ টায় জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মোমবাতি প্রজ্জলন করা হয়। পরে২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচী হিসেবে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনি ও লাখো শহীদের সম্মানে সকল মহলের পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে দিবসের কর্ম সূচী শুরু হয়। তারপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর শহীদ পরিবারবর্গ, শহীদ

রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ,শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার শান্তি প্রার্থনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সকল ৮ টায় মুন্সিগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে শুদ্ধরুপে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সমবেত হাজারো অতিথি ও দর্শক বৃন্দের উস্থিতিতে কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদশনী শুরু করা হয়। এ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা প্রধান অতিথি ও পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজে মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীগণ অংশ গ্রহণ করেন। এ অনুষ্ঠান শুরু করার পূর্বে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ফুল দিয়ে সম্মান জানানো হয়। অনুষ্টানে অন্যান্যদের মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারী হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মীর মাহফুজুল হক, প্রে .প্র. ড. ইয়াজ উদ্দিন আবাসিক স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মেজর গাজী তাওহিদুজ্জামান,মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনিছ উজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান,মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব। মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক ,সাংবাদিক,শিক্ষর্থীবৃন্দসহ হাজারো জনতা স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্টানশেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরন করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। মসজিদে,মন্দিরে শহীদ ও পরলোকগত মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত প্রার্থনা করা হয়। উক্ত দুদিনের কর্মসূচীর জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন ও সকল কর্মসূচীতে লক্ষ্যণীয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন।

মুন্সিগঞ্জ ভয়েজ নিউজ ডট কম

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: