মুন্সীগঞ্জে ৩ দিন ধরে অচল সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জ সদর সাব-রেজিষ্ট্রার মাইকেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতি পালন করছে দলিল লিখক সমিতি। দূর্নীতির প্রতিবাদে গত রবিবার থেকে তিন দিন ধরে চলা কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে মুন্সীগঞ্জের রেজিষ্ট্রেশন বিভাগ। ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে অন্যদিকে ভোগান্তিতে পড়েছে জনগন। কর্মসূচীর মাধ্যমে এই দূর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার অপসারনের দাবী জানায় দলিল লিখক ও সাধারণ জনগন।

অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতি পালন করছে দলিল লিখক সমিতি।

নতুন এই সাব-রেজিষ্ট্রার যোগ দেয়ার পর থেকে গত দুই মাস ধরে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কোন দলিলই রেজিষ্ট্রি করা সম্ভব হয়নি বলে জানান দলিল লিখকরা। রোববার থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করে দলিল লিখক সমিতি। এর আগেও তার অন্যায়ের প্রতিবাদে কলম বিরতি পালন করা হয়েছিল কিন্তু তিনি কোন সমঝোতায় আসেননি এই কর্মকর্তা। মুন্সীগঞ্জ দলিল লিখক সমিতির দলিল লিখকরা জানান, আমরা যেভাবে আইন অনুযায়ী দলিল রেজিষ্ট্রি করে আসছি সেভাবে এখন করতে পারছিনা। নতুন এই সাব-রেজিষ্ট্রার সকল প্রকার দলিল থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে যা পূর্ববর্তী অফিসাররা এমনটা করেননি। তিনি দলিলকে প্রথমে ত্রুটিপূর্ণ বলছে পরে টাকা দিলেই রেজিষ্ট্রি করে দিচ্ছে। দলিল লিখকরা তার কথার প্রতিবাদ করলে দলিল আটকে রাখে এবং দলিল ছুড়ে ফেলে দেয়। এই সাব-রেজিষ্ট্রার মুন্সীগঞ্জে বর্তমানে কমিশনে দলিল (প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে রেজিষ্ট্রি) রেজিষ্ট্রি বন্ধকরে দিয়েছেন। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে মুন্সীগঞ্জে রেজিষ্ট্রি করতে আসা মানুষ জন। তার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কথা জানাজানি হওয়ার ফলে অফিসে দলিলকমে গেছে এতে করে দলিল লেখকরা যেমন কষ্টে আছে তেমনি সরকারের রাজস্ব ও কমে গেছে। প্রশাসনেও তার এক আত্মীয় আছেন বলে ওনি দাপট একটু বেশি দেখান বলে জানান অনেক দলিল লিখক। মুন্সীগঞ্জ দলিল লিখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন জানান,

আমরা দীর্ঘ দিন ধরে দলিল লিখে আসছি কখনও অফিসে এমনটা দেখিনি। তারপরেও আমরা চেষ্টা করেছি তাকে বুঝানোর জন্য কিন্ত তিনি কারোর কথা শুনেন না। আমরা আই জি আর সহ সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্ব শীল ব্যাক্তিদের জানানোর উদ্যোগ নিয়েছি।

মুন্সীগঞ্জে সাব-রেজিষ্ট্রারের অসহনীয় দূর্নীতির প্রতিবাদে দলিল লিখকদের অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতি চলছে।

মুন্সীগঞ্জ দলিল লিখক সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, একজন সাব-রেজিষ্ট্রার এভাবে আমাদের সকলকে জিম্মি করে জনগনের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে পারেন না। জনস্বার্থে আমরা আরো কঠিন কর্মসূচীতে যাবো। ওনি যেভাবে অফিস চালাতে চাচ্ছেন সেভাবে এর আগে কেউ এমন চেষ্টাও করেননি। এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর সাব-রেজিষ্ট্রার মাইকেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আমি নিয়ম মাফিক কাজ করার চেষ্টা করি। আমি দলিল লেখকদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করছি। তারা যেভাবে বলবে সেভাবেই হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.