Ultimate magazine theme for WordPress.

মুন্সীগঞ্জ এভিজেএম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টির অবস্থা হযবরল; নানা অনিয়ম এখন বিদ্যালয়ের নিয়ম

0 34

 

আবু হানিফ রানাঃ মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের খুব নামীদামী ২টি বিদ্যালয়ের মাঝে এভিজেএম সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি অন্যতম। মেধাবীদের জন্য ভালো স্কুল বলতে এই বিদ্যালয়কেই বুঝায়। বিদ্যালয়টি এখন হযবরল অবস্থায় চলছে। শিক্ষকগণ যার যার মতো করে শ্রেণি যান। ইচ্ছা হলে যান ইচ্ছা না হলে যান না। ৬ প্রিয়ডের মধ্যে ২-৩টি প্রিয়ড নিয়মিত হলেও তাও আবার মাঝে মাঝে হয় না। নানা অনিয়মই এখন এই বিদ্যালয়ের নিয়মে পরিণত হয়েছে।

মর্নিং শিফ্ট এবং ডে শিফ্টে চলে এই স্কুলটির পাঠদান কর্মসূচি। ক্লাসে পাঠদান না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রাইভেটের উপর নির্ভর করে এখানে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্তত বলতে পারেন সে এভিজেএম স্কুলের ছাত্র। অভিভাবকগণও বলতে পারেন তার সন্তান এভিজেএম স্কুলে পড়ে এটাই এখন শান্তনা। ব্যবহারিক নাম্বার ও টেস্টে ফেল করানো হয়। যদি কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ শিক্ষার্থী অথবা অভিভাবক পেশ করেন তাহলে ঐ শিক্ষার্থীরা ভয়ে থাকেন তাকে ফেল করিয়ে দেয়া হতে পারে অথবা ব্যবহারিকে নাম্বার কমিয়ে দেয়া হবে, অথবা টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করানো হবে। এই ভয়ে কোন অভিভাবক স্কুলটি শিক্ষকদের ও পরিবেশের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দিতে সাহস পান না। মেয়েদের শৌচাগার থাকবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। বিদ্যালয়টির শৌচাগার এমন নোংরা পাবলিক টয়লেটও এমন নোংরা থাকে না।

যেখান থেকে কালে কালে অনেক মেয়েরা শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সমাজে খুব ভালো অবস্থানে রহিয়াছেন। গত কয়েক বছর যাবৎ এর মান নিয়ে বহু রকমের কথা তুলছেন অনেক অভিবাবকগণ। অনেকেই অভিযোগ করে বলেন আমরা আমাদের সন্তানদের বাধ্য হয়ে ভর্তি করছি। ক্লাস না হলেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এখানে পড়া ছাড়া উপায় নেই। এভিজেএম স্কুলে পড়ে বলতে পারাটাও একটি ট্রেডিশন। এখানকার শিক্ষকগণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রাইভেট পড়িয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষকগণও যানেন এই স্কুলের কোন কমিটি নেই। কারো কাছে কৌফিয়ত দিতে হবে না। শিক্ষা মন্ত্রনালয় এখানে আসবেও না ক্লাস হওয়া না হওয়া বিষয়ে কাউকে জবাবদিহিতাও করতে হবে না। ফলে শিক্ষকগণও বেপরোয়া। এমনিতেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। প্রাইভেট পড়েই এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট ভালো করতে হয়। ফলাফল ভালো হওয়ার পিছনে প্রাইভেটের অবদান আছে ক্লাসের অবদান এখানে শূন্যের কোঠায়। শিক্ষকদের এও বলতে শোনা যায়, জেলা প্রশাসক ভর্তি কমিটির সভাপতি ম্যানেজিং কমিটির কিছু না। আসলে দুইটি সরকারি বিদ্যালয় অভিভাবকহীন। এই বিদ্যালয় দুইটিতে কোন অনিয়ম হলে দেখার কেউ নেই। ফলে এখানকার শিক্ষকদের সেচ্চাচারিতায় বিদ্যালয় দুইটি অনিয়মে ভরে গেছে।

 

এভিজেএম স্কুলের ক্লাস হলো শিক্ষকদের প্রাইভেট শিক্ষা ও তাদের নিয়ম নীতি মেনে চলাটাই হলো ক্লাস। আর এই নিয়মেই চলতে গিয়ে ঘটে যায় অনেক ঘটনা। অনেকেই বাড়ী থেকে বেরিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে, শিক্ষকদেরকেও ফাকিঁ দিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠে। নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিদ্যায়টির প্রতিটি টয়লেট রয়েছে ময়লা আর্বজনা, সিড়িঁ কোঠায় ময়লা আর ধুলি কণার স্তুপ। প্রায় সময়ই কোন না কোন ছাত্রীর অসুস্থাতার খবর শুনা যায় এই বিদ্যালয়টিতে। একাধিক অভিবাবক প্রায় গত ৪/৫ মাস যাবৎ সংবাদ কর্মীদের এসব বিষয় জানিয়ে আসছে। বর্তমান জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা মহোদয়ের নিকট জানানোর কথাও বলেছেন তারা।

সোমবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২ টায় কয়েকজন ছাত্রীর সাথে আলাপ কালে জানা যায় অনেকেরই কাছে মোবাইল আছে। যাহা আমাদের ম্যাডামরা জানেন বলেও জানান ছাত্রীরা। জৈনিক অভিবাবক নাম না বলা শর্তে জানান , মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে যেনো সারাক্ষণ টেনশান নিয়ে থাকতে হয়। পিতামাতার পরই শিক্ষকদের ভুমিকা থাকার কথা। আমাদের জেলা প্রশাসক একজন নারী তিনি যদি বিদ্যালয়ের ভালো মন্দ না জানেন কি করে প্রতিকার পাবো? তাকে তো জানানোর প্রয়োজন, এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে জৈনিক অভিবাবক বলেন আমি ছাত্রীর মা তাই ভয়ের কারণে জানাতে সাহস করছি না। তবে আমাদের এই জেলা প্রশাসক বিদ্যালয়ের ভালো মন্দ জানলে অবশ্যই ভালো কিছু হবে বলে জানান তিনি।

একাধিক মেয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টয়লেটে গেলে নাক ধরেই যেতে হয়। কখনও কি বড় ম্যাডামকে জানানো হয়েছে কি না এমন উত্তরে মেয়েরা বলেন, আমরা নাক ধরে টয়লেটে যাই প্রতিষ্ঠানের কেউ কি দেখে না ? আমাদের গার্ডিয়ানরা জানেন কি করে ? নিশ্চই অনুমান করে জানেন, আমাদের মন বোঝে ধরে ফেলেন।
এ বিষয় বিদ্যালয়ের হেড মাষ্টার মহোদয়ের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, আপনার কাছে কেনো অভিযোগ করবেন অভিবাবকরা? আমার কাছে কেনো জানালেন না? আপনি আমার টয়লেটের ছবি তুলছেন এটা আপনার অপরাধ, প্রয়োজনে আপনাকে পুলিশে দিতে পারি। আমরা বিদ্যালয়ের বাহিরে কি ঘটে তাহা দেখার বিষয় আমার না, এগুলো অভিবাবক দেখবে। আর কে কোন শিক্ষক প্রাইভেট পড়াবেন তাহাও অভিবাবক ছাড়া অন্য কারো বিষয় নয়। কতো জন শিক্ষক, শিক্ষিকা প্রাইভেট পড়ান জানতে চাইলে তিনি ফোন সুইচ অফ করে দেন।

সংবাদ কর্মীদের অবহেলা করা আর শতরকমের সমস্যাদির বিষয় কথা বলতে কেন একজন শিক্ষিকার এমন আচরণ? এর কি কোন প্রতিকার জানতে চাইবো না? এই বিদ্যালয়ের কোন ছাত্রীর পোশাক দেখলেই ইভটিজিং তো দুরের কথা চোখের দিকেও তাকাতে ভয় থাকতো ইভটিজিংকারীগণ। এখন কেনো এই বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা অকালে ঝড়ে পড়ছে, স্কুল গন্ডি পার হতে পারছে না অনেকেই। আবার কোন গার্ডিয়ান তাহার মেয়েদের বাল্য বিয়ে দেওয়ার জন্যও উঠেপড়ে লাগছে।

বিদ্যালয়টির অনিয়ম নিয়মে পরিণত হউক। শিক্ষকগণ সঠিক নিয়মে পাঠদান করাক, শিক্ষার্থীরা ক্লাসমুখি হোক এমনটি কামনা করছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবকমহল।

এ বিষয় মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা প্রতিনিধিকে বলেন অপরিচ্ছন্ন তাহর বিষয় আলাপ করে ব্যবস্থা করবো , যেহেতু মেয়েদের বিদ্যালয়ের বিষয় শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে সমাধান করাটাই সুন্দর হয়।

মুন্সিগঞ্জ ভয়েজ ডট কম
 

Leave A Reply

Your email address will not be published.