Ultimate magazine theme for WordPress.

লকডাউনে হাহকার বেদিশেহারা মুন্সীগঞ্জ শহরের ব্যবসায়ীরা

14

লকডাউনে হাহকার বেদিশেহারা মুন্সীগঞ্জ শহরের ব্যবসায়ীরা
কাজী বিপ্লব হাসানঃ সরকার ঘোষিত ৫ই এপ্রিল থেকে সারাদেশে চলছে লকডাউন। মুন্সিগঞ্জেও লকডাউন চলছে। এর কারনে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে ওঠেছে। চাকরী জীবি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমিক সবাই লকডাউনে বিপদগামী হচ্ছে। যে যার কাজ করে সে তার কাজটি না করতে পারলেই তো তার বিপদ এগিয়ে আসে। তবে লকডাউনে বেশি বিপদের মধ্যে আছে ব্যবসায়ীরা। গার্মেন্টস্ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফলের ব্যবসায়ীরাও এই লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
কথা হলো, মুন্সিগঞ্জ শহর জমে মসজিদ মার্কেটের ডি-ডালাস সুজ এর মালিক জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, লোন নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেছি। এখন সেই লোন পরিশোধ করবো কী ভাবে সেই কথা ভাবছি। আমি ব্যাংক ও এনজিও থেকে ৫৫লক্ষ টাকা নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেছি। দোকান ভাড়া ৫০ হাজার টাকা, তার পর কর্মচারীদের বেতন দিতে হচ্ছে। গত বছর লোকসান গোনতে হয়েছে এই ব্যবসায়। এবার ও যদি এভাবে লকডাউন দেয় তাহলে লোন পরিশোধের জন্য নিজ জমি – জমা বিক্রী করতে হবে আমাকে। লক ডাউনেরে তৃতীয় দিনে আজ সেই কথাই ভাবছি।
সরকার ইলেকট্রনিকের মালিক বলেন, দোকানের অবস্থা ভালো না। গতকাল একটি মোবাইল ও বিক্রী করতে পারিনি। দোকানের ভাড়া দিবো কীভাবে সেই কথা ভাবছি। আর নিজের সংসার চলবে কীভাবে সে সমস্যার কথা ভেবে স্থম্ভিত হয়ে আছি। গতবারের মতো লকডাউন চলতে থাকলে আর এ দোকান ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করা যাবে না।
লকডাউনে কম্পিউটারের দোকানেও ধস পড়েছে। এ দোকান এর মালিক বলেন, আমি কম্পিটারের মাধ্যমে অনলাইনে কাজ করে দেই। ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে সবাই আমার দোকানে আসে। কিন্তু আজ ৩ দিন যাবত কেউ কম্পিটারের কাজে আসে না । হাত গুটিয়ে বসে আছি।
মুন্সিগঞ্জ শহর জামে মসজিদ এর মার্কেট এর গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গার্মেন্ট এর মালিক মাসুম বলেন, তিনদিন যাবৎ দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে । এই ভাবে চলতে থাকলে ১৫হাজার টাকা দোকান ভাড়া পরিশোধ করাই দুরহ হয়ে পড়বে। তারপর আছে কর্মচারীদের বেতন ১০লক্ষ টাকা এখনো লোন আছে আছে ব্যাংক এর কাছে । লকডাউন যদি গত বারের মতো একটানা চলে। তা হলে সেই লোন পরিশোধ করবো কেমনে ? গত তিনদিনে ২-৩ টি জামাও বিক্রি করতে পারছি না। এই নিয়ে অনেক সমস্যার মধ্যে আছি।
এস এম কালেকশন এর মালিক বলেন দোকানে কাস্টমার নেই তিনদিন যাবত। জামাকাপড় বিক্রি করবো কীভাবে ? এই লকডাউন চলতে থাকলে গতবারের মতো এ বারও দোকান লছ খেয়ে দোকান ছেড়ে দিতে হবে। সংসার চালাবো কীভাবে সেইটাই চিন্তা করছি।
ছোট দোকান আল্লাহর দান কালেকশর এর মালিক জিয়াউর রহমান বলেন, অন্যের কাছ টাকা ধার করে মাল এনে বিক্রি করি আমার দোকানে। কিন্তু লকডাউন থাকায় তিনদিন যাবৎ দোকানে বেচাকেনা নেই। এভাবে চলতে থাকলে কর্য পরিশোধ করিবো কীভাবে, দোকান ভাড়াই দিবো কীভাবে এ নিয়ে অনেক বিপদের মধ্যে আছি। এ ব্যবসা বন্ধ করার উপক্রম হবে যদি লকডাউন চলতে থাকে ।
ফলের ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, ফল একটি খাদ্য, লকডাউনে আমরা বিক্রি করতে পারি কোন বাঁধা নেই। কিন্তু কাস্টমার পাব কোথায় ? লকডাউনের জন্য রাস্তায় লোকজন কম। যারা আছে তারা নিজের কাজ সেরে চলে যাচ্ছে। আমাদের দিকে তাকাচ্ছেন না, ফল ও কীনছে না। প্রতিদিন আমি ফল কিনে বিক্রি করি। আজ তিন দিন যাবাৎ একই ফল বিক্রি করছি। তবুও শেষ হচ্ছে না । ফল ব্যবসায়ী মাহবুব হোসেন, যুম্মন ও সুজন সহ আরো অনেকই একই কথা বলেন ।
আসলেও এই অনাকাঙ্খিত লকডাউন জনজীবন অতিষ্ট করে তোলেছেন। বিশেষ করে ব্যবসায়িদের ক্ষেত্রে আরো বেশি। আশা করি সাধারন জনগনের কথা ভেবে সরকার লকডাউনের বিকল্প কিছু বের করে অচিরেই যেনো এই লকডাউন উঠিয়ে দেয়। এতে সাধারণ জনগন বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন।

Comments are closed.