শখের ফেরিওয়ালা

105


আতিকুর রহমান টিপু ও কাজী বিপ্লব হাসান
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ইসলামপুরের পোড়া স্কুলের পাশে দাড়ালেই তার সামনে বিশাল এক অটো-গ্যারেজ চোখে পরবে। সারাদিন অটোর ড্রাইভার কখনো গাড়িতে চার্জ দেবার জন্য গ্যারেজ প্রবেশ করছে আবার কোন ড্রাইভার গ্যারেজ থেকে অটো নিয়ে স্বা স্বা করে বেড় হয়ে যাচ্ছে। এখানে দাড়ালে শুধু অটোর শব্দে যে কেহ অনেকটা বিরক্তিই প্রকাশ করবে কিন্ত স্ব স্তি পাবে না এতটুকু। বিশাল এ গ্যারেজের ভেতরে প্রবেশ করলে কোন সাড়িতে দেখা যাবে মিশুক, কোন সাড়িতে অটো আবার কোন সাড়িতে সিএনজি সারিবদ্ধ করে রাখা আছে। ড্রাইভারদের কোলাহলে যেন পুরো অটো গ্যারেজ একটা হৈ চৈ পল্লি। ভেতরের পরিবেশটা খোলামেলা হলেও কেনো যেন একটা অ¯^স্তি ভাব যেকোন ¯^াভাবিক মানুষকেই তাড়া করবে নিমিষেই। এই গ্যারেজে কোন সাধারণ মানুষ সর্বোচ্চ কয়েক মিনিট সময় দেবার পর দ্রুত বেড় হতে চাওয়া ছাড়া কোন গন্তব্য যেন থাকেনা।
কিন্তু এই কোলাহল পূর্ণ পরিবেশেও হঠাৎ কোন এক আকর্ষন যে কোন মানুষকে ধরে রাখবে অনেক্ষন। নিস্তব্ধ
পরিবেশেও বাগ বাকুম পায়রার ডাক ও তাদের বিচরন দেখে মনে হবে এ যেন এক অজানা পল্লি। অর্থাৎ গ্যারেজের নিস্তব্দ এক কর্ণারে নানা জাতের অসংখ্য কবুতরের বিচরণ দেখে মুগ্ধ না হয়ে যেন পারা যায় না। এখানে রেসার,হোমা,বল,লক্ষè্যা, মুরগি সহ নানা জাতের কবুতর রয়েছে। কবুতর এর কসরত দেখলে মনে হবে এ যেন এক কবুতরের রাজ্য। মনকোন দিকেই আর যেন ফিরতে চাইবে না। এক এক কবুতরের এক এক রকম অঙ্গভঙ্গি ও শোভাবর্ধন দেখে যে কেহ যেন মূহর্তের মধ্যে নি¯^ব্ধে ¯^প্নের রাজ্য চলে যাওয়া ছাড়া যেন কোন গন্তব্য থাকে না। এই গ্যারেজ ভেতর যত জন ড্রাইভার আছে তারা সবাই কাজ শেষে মিনি কবুতর চিরিয়াখানায় একবার হলেও উকি দিয়ে ক্লান্ত দূর করে নেন মনের। কবুতর শান্তির প্রতীক। তারা যদি সৌন্দর্য অবলিলায় বিলিয়ে যায়। তবে তা তার স্পর্শে মানুষের আর দ্বিধা থাকে না। এই গ্যারেজ মালিক মোঃ মানিক যেন অনেকটাই শখের বসেই এর ভেতরে কবুতরের ফার্ম গড়ে তুলেছেন। তার একটাই উক্তি সারাদিন ক্লান্তির পর কবুতরের বাকবাকুম শব্দে ড্রাইভার দের মনে ¯^স্তির ভাব ফিরে আসে। সে জানায়, এতে আমিও আনন্দপায় আর ওদের কসরোত ও দেখে ডাক শুনে মানষিক শক্তিতে যোগ হয় গতিময়তা। কারন কবুতর ¯^স্তির প্রতীকও বটে। মানিক জানায় এই ফার্মে সে চারলক্ষ টাকার কবুতর রয়েছে। তিনি জানান তিনি কবুতর বিক্রি করেন না। শুধু তার বংশ বাড়িয়ে যাচ্ছেন। ওদের পেছনে ব্যায় করাটাই তার শখ। তার ধারনা কবুতর পোষলে মানষিক জটিলতা দূর হয়। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ইসলামপুরের সমাজ সেবক মরহুম আনোয়ার মাতাব্বরের ছেলে মানিক একজন উদিয়মান সংগঠক ও ব্যবসায়ী হলেও অন্যান্য তরুন দের সে আলাদা।
প্রায় চার বৎসর যাবত কবুতর প্রজেক্ট চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানায়। শখের বসেই এ কাজ করছে বলে তাকে অনেকেই শখের ফেরিওয়ালা বলে ডাকে। প্রথমে সে মাত্র ষোল জোরা কবুতর দিয়ে প্রজেক্ট এর যাত্রা শুরু করেছিল। একসময় রাজা বাদাশাদের সংবাদ সরবরাহের মাধ্যমও ছিলো এই পায়রা। মানিকের গ্যারেজ ভেতর এত সুন্দর ও ব্যায় বহুল কবুতর এর প্রজেক্ট দেখার জন্য প্রতিদিন অনেক লোক ভীড় জমায়।

Comments are closed.

%d bloggers like this: