শতাধিক নিরীহ লোকের উপর মিথ্যে মামলা

7

শতাধিক নিরীহ লোকের উপর মিথ্যে মামলা

সালাহউদ্দিন সালমান সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ:  উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে বিগত কয়েকমাস ধরে শুধুমাত্র সিরাজদিখান থানায় মামলা হয়েছে অর্ধশতাধিক।এছাড়া কোর্টে মামলা হয়েছে আরও অসংখ্য।এইসব মামলায় যাদের নাম দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে দেখা গেছে অনেকে এইসব হাউজিং ব্যবসায় জড়িত নেই এমনকি আধিপত্য বিস্তারের হামলা মামলার কিছুই জানেন না এমনও লোকদের মামলা দিয়ে বাড়িছাড়া করে রেখেছেন হাউজিং প্রকল্পের মূল হোমড়া চোমড়া।নবধারা স্যাটেলাইট সিটি ও সরকার সিটি প্রকল্পের মধ্যকার টিকেয়ে থাকার বর্বরতায় হামলা ও মামলার বলি হয়েছেন যারা।খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তাদের অনেকেই এইসব ব্যবসায় কোন প্রকার লেনদেনও নেই।তাদেরই কেউ কেউ এখন মিথ্যে মামলা খেয়ে জেলহাজতে দিন যাপন করছে কেউ আবার টেটা বল্লমের আঘাতে আহত হয়ে ঘরে বসে আছে কেউ হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা নড়ছে।

সিরাজদিখান থানা পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন,এইসব মারামারি দাঙ্গা হ্যাঙ্গামা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যারা এলাকা মাতিয়ে রেখেছেন খোঁজ নিয়ে দেখেন তারা কেউই এলাকায় থাকেন না।ঢাকা থেকে কলকাঠি নেড়ে এইসব টেটা বল্লম খেলা খেলতেছে।যারা আহত নিহত হচ্ছে তাদের কারোরই এই যুদ্ধে বৃহৎ কোন স্বার্থ নেই।এখানে যারা এসেছে তারা কেউ বংশের টানে এসেছে আবার কারো ভাইয়ের টানে এসেছে।মূলত তারা নিরীহ হয়েও একজনকে বাঁচাতে এসে ফেঁসে গেছেন আর ঢাকায় বসে বড় বড় ঠাকুররা নাম লিখে লিখে নিরীহ থেকে শুরু করে এলাকার সুশীলদেরকেও নাটক সাজিয়ে মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছে এবং প্রতিপক্ষের দল হালকা করে রেখেছে।

জানাযায় এইসব মামলা নিয়েও আছে সীমাহীন গোলকধাঁধা স্থানীয় এলাকার নেতা থেকে শুরু করে থানা লেবেলের নেতারাও নেড়েছে কলকব্জা।কাকে মামলা দিলে কত দেওয়া লাগবে থানা পুলিশকে আবার কাকে মামলা থেকে নাম বাদ দিতে হবে এইসব নিয়ে বিধি কিচ্ছার কোন অন্ত ছিলোনা বিগত কয়েকমাসে এইসব অঞ্চলে।এছাড়া থানায় বড় কর্তাদের নামে একপক্ষ মামলা দিতে গেছে স্বয়ং থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাঁধা দিতেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। সরজমিনে গিয়ে অনুসন্ধান করে দেখা যায়,বালুচরের এইসব এলাকায় হাউজিং প্রকল্প নিয়ে যে ঝগড়া ফ্যাসাদ হয়েছে।এবং পূর্ব চান্দের চর ও চর পানিয়া নামা পাড়া এলাকায় যে দুটো মানুষ খুন হয়েছে। সেই খুনের পাল্টা পালটি মামলায় তাদেরও নাম আছে যারা সে সময় সে দিন এলাকাই ছিলোনা,সেইসব মামলায় যাদের প্রধান অসামি করা হয়েছে তারা ও সেদিন সে ঘটনাস্থলে ছিলোনা।শুধুমাত্র পতিপক্ষ কে ফাঁসাতে মানুষ খুনের পরিকল্পিত ঘটনা ও এই দুই হাউজিং প্রকল্পের হোমড়া চোমড়াদের পরিকল্পনায় হয়েছে।কিন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হলো এই দুই হাউজিং প্রকল্পের চেয়ারম্যানদের বীরুধে দু একটা মামলা হলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরেই থেকেছে তারা সিরাজদিখান থানা পুলিশেরও তাদের ধরতে দেখা গেছে ভীষণ অনীহা।

এলাকায় নিরীহ ব্যক্তি যারা মামলা খেয়ে বাড়ি ছাড়া আছেন এবং যারা জেলহাজতে আছেন।তাদের পরিবারের সাথে কথা হলে তারা জানান,এইসব অবৈধ হাউজিং প্রকল্প যাতে এই এলাকায় হতে দেওয়া না হয়।এবং পুলিশ যেন তাদেরই ধরে যারা মূল অপরাধী।অযথা নিরীহ মানুষের বাড়িতে এসে যাতে ভালো মানুষদের হয়রানি না করা হয়।তাছাড়া মিথ্যা মামলা দিয়ে যাদের বাড়ি ছাড়া করেছেন তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দেন।স্থানীয়রা আরো জানান,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখানে একেবারেই অসহায়।যেখানে জেলা পুলিশ সুপারের শান্তি আলোচনার ৯ দিন পর মানুষের বসত ঘরে দিনে দুপরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সেখানে প্রশাসন আর কি করতে পারে বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।

সিরাজদিখান থানার ওসি তদন্ত কামরুজ্জামান বলেন,বর্তমানে এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা অভিযান ও টহল অব্যাহত রেখেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ।ওইসব এলাকা থেকে বিগত কয়েকদিনে একাধিক নারী পুরুষ ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। আমরা এখন তদন্ত করেই মামলা নিচ্ছি।প্রয়োজনে সরেজমিনে যাচ্ছি।

Comments are closed.

%d bloggers like this: