শান্তির লক্ষে পুলিশের কাছে দেশীয় অশ্র জমা দিলেন গ্রামবাসী ।

10
তুষার আহাম্মেদ: আপনার সন্তানের হাতে টেটা- বল্লম দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে না পাঠিয়ে বই খাতা নিয়ে স্কুলে পাঠান এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে স্বেচ্ছায় টেটা- বল্লম জমাদান কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।  গতকাল বুধবার বিকাল ৫ টায় উপজেলার বালুচর ৭ নং বিট পুলিশিং এর আয়োজনে ইউনিয়নের চরপানিয়া হাজীবাজার এলাকায় এ কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়। সিরাজদিখান থানার পুলিশের উদ্যোগে বালুচর ইউনিয়নের বিট পুলিশ অফিসার এসআই মোহাম্মদ ইমরান হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন   সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন। এসময় বক্তব্য রাখেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, বালুচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো.আমিন উদ্দিন,সিরাজদিখান প্রেসক্লাব সভাপতি ইমতিয়াজ বাবুল, ইউপি ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি ফেরদৌস আলম। বালুচর ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম থেকে ১৩শ টেটা জমা দেওয়া হয়। টেটা জমা দানকারীকে ফুল এবং চকলেট উপহার দেন সিরাজদিখান থানা পুলিশ।
জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নে টেঁটা, বল্লম, জুইত্যা, ছুরকি আর রামদার মতো ধারালো অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে এ  যুদ্ধের ইতিহাস দীর্ঘ ৪৭ বছরের। স্বাধীনতার পর ৪৯ বছরে বালুরচরে কতবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে-তা সঠিক করে কেউ বলতে পারবে না।তবে স্বাধীনতার পর টেঁটা যুদ্ধের জেরে মারা গেছে প্রায় ১০ জনেরও বেশী মানুষ ।বাড়ীঘর ভাঙচুর,দখল ও অগ্নিসংযেগের ঘটনা ঘটেছে অসংখ্য ।  গত ৫ বছরে বালুচর ইউনিয়নে টেঁটা যুদ্ধে মারা গেছে ৩ জন ,থানা পুলিশ টেঁটা উদ্ধার করেছে ৮ হাজারেরও বেশী এবং মামলা হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টি ।
ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই গড়ে উঠেছে বল্লম-টেঁটা বাহিনী। এ সব বিরোধ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে প্রশাসনের লোকজন স্থানীয় ভাবে মিমাংসার জন্য বহুবার বৈঠক ও আলোচনায় বসেও এখন পর্যন্ত কেউ কোন সুরাহা দিতে পারেননি। তবে গতকাল দেশীয় অশ্র জমা দেওয়ার সময় গ্রামবাসী অনেকই বলেছেন এবার কিছুটা হলেও টেঁটা যুদ্ধের অবসান হবে । সিরাজদিখান থানার ওসি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন,আশা করছি এই চরাঞ্চল দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার আমি এলাকাবাসী সবাইকে নিয়ে নিরসন করতে পারব ।

Comments are closed.

%d bloggers like this: