শিমুলিয়া নৌরুটে রো-রো ফেরি চালু

শিমুলিয়া নৌরুটে রো-রো ফেরি চালু

6
তুষার আহাম্মেদ- করোনা সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার প্রথম দিনে  শিমুলিয়া বাংলাবাজার নৌরুটে যাত্রীদের সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাইকিং করলেও অনেককে তা মানতে দেখা যায়নি। গতকাল সকাল থেকে এই নৌরুটের লঞ্চ ও ফেরিগুলোতে ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চল উভয়মুখী অসংখ্য যাত্রীকে পার হতে দেখা দেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ভিড়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নৌরুটে লঞ্চ ও ফেরিতে যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বেড়েছে । এ নৌরুটে সকাল থেকে ১৭টি ফেরির মধ্যে চলাচল করতে দেখা যায় ৫টি ছোট ফেরি। বিকেলে সীমিত আকারে ভারী যান পারাপারে জন্য ২টি রো রো ফেরি চালু করা হয়। এবিষয়ে (বিআইডব্লিউটিসি) ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শাফায়েত আহম্মেদ তথ্য নিশ্চিত করেন। ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে শতশত যানবাহন।
ঘাট ও স্থানীয়রা জানান, করোনা মহামারির কারণে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল বন্ধ ছিল। এ কারণে যাত্রীরা শুধু ফেরিতে পারাপার করা হচ্ছিলো।
 লকডাউন শিথিল করায়ফেরি ও লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। ১১ আগষ্ট থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া শর্তসাপেক্ষে অফিস ও গণপরিবহনসহ সব প্রতিষ্ঠান খোলা। তাই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ রাজধানীর ঢাকাসহ বিভিন্ন দিকে যাচ্ছেন। লঞ্চ চালু থাকলেও প্রতিটি ফেরিতে করে প্রচুর যাত্রী আসছে।তবে গার্মেন্ট,শিল্প কারখানা খোলার পর কিছুদিন আগে যে চাপ ছিলো,এখনকার চাপ তার চেয়ে কিছুটা কম রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, লকডাউন শিথিল হওয়ায় লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। তবে লঞ্চের চেয়ে ফেরিতে করে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছে। মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি। ফেরিতে মাদারীপুরের শিবচরগামী নারী যাত্রী আলেয়া বেগম জানান, নদীতে স্রোত বেশি আবার বৃষ্টিতে পদ্মা উত্তাল থাকায় বাচ্চারা সাঁতার জানেনা তাই ফেরিতে যাচ্ছি।
শিমুলিয়া ঘাটের পার্কিংইয়ার্ডে পারাপারে  অপেক্ষায় রয়েছে পন্যবাহী ও ব্যাক্তিগত গাড়ির সারি। মাদারীপুর ঘাট থেকে আসা প্রতিটি ফেরি যাত্রী ও যানবাহনে পূর্ণ ছিল।
বাংলাদের অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন শিমুলিয়া ঘাটের (বিআইডব্লিউটিসি) ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শাফায়েত আহম্মেদ জানান, সকাল থেকে ছোট ৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও হাল্কা যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিলো। বিকেলে সীমিত আকারে ২টি বড় ফেরি চালু করা হয়। বড় ২টি ফেরিসহ রুটে ৭টি ফেরি চলু রয়েছে।  ভারী যানবাহন ফেরিতে চলাচল বন্ধ ছিলো এখন ৩টি বড় ফেরি চালু করা হয়েছে। ঘাটে দুইশতাধিক ছোট ও পন্যবাহী গাড়ি পারাপারে অপেক্ষায় রয়েছে।
অন্যদিকে , শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফেরিতে ভারী যানবাহন পারাপার করতে দেখা গেছে।
বুধবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকেই ফেরি ক্যামেলিয়া, কুঞ্জলতা, কাকলিসহ প্রায় সবগুলো ফেরিকে হালকা যানের পাশাপাশি ভারী যানবাহন পারাপার করতে দেখা গেছে। দুপুর ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ভারী যানবাহনে লোড করে রো রো ফেরি এনায়েতপুরি ও শিমুলিয়া ৩ নম্বর ঘাট থেকে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের ও ট্রাফিক পুলিশের সামনেই বাংলাবাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এর আগে বুধবার (১০ আগস্ট) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ এ রুটে পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কা জনিত দুর্ঘটনা এড়াতে ভারী যানবাহন পারাপারে নিষেধাজ্ঞা ও ফেরিতে হালকা যানবাহন পারাপারের নির্দেশ দেন। সেই মোতাবেক এরুটে সীমিত ফেরি চলাচল করলেও কোনো নির্দেশনা মানা হয়নি।
ফেরি কুঞ্জলতার ইনচার্জ মাস্টার (চালক) শামছুল আলম জানান, আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া (বাণিজ্য) এজিএমর নির্দেশনায় ভারী যানবাহন পারাপার করছি। এছাড়া ফেরি ক্যামেলিয়ার মাস্টার মোজাম্মেল কথা না বলে রুমে চলে যান।
এ বিষয়ে ঘাটে দায়িত্বরত বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া (বাণিজ্য) ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজারসহ একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কথা বলতে রাজি হননি। এজিএম শফিকুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।
বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া (বাণিজ্য) ম্যানেজার মো. ফয়সাল হোসেন জানান, বুধবার সকাল থেকে উভয় পাড়ে যাত্রীর চাপ রয়েছে। তবে বাংলাবাজার ঘাট থেকে ঢাকাগামী যাত্রীর চাপ বেশি। এ রুটে সকাল থেকে সীমিত আকারে ৫টি ফেরি চলাচল করছে। শিমুলিয়া ঘাটে দেড় শতাধিক ও বাংলাবাজার ঘাটে তিন শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ভারী যানবাহন পারাপারের বিষয়ে কিছুই বলেননি এ কর্মকর্তা।

Comments are closed.

%d bloggers like this: