শীতকালীন সবজির ফলন ভালো হওয়াতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে

87
কাজী বিপ্লব হাসান : প্রকৃতিতে এখন শীতের হাওয়া বইছে। শীতকালীন সবজি চাষে ও ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে শীতকালীন সবজি অনেক আগে থেকেই আসা শুরু করেছে। তবে এখন শীতের সবজি ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। দাম কমতে শুরু করেছে আমদানি বেশি হওয়াতে। কথা হলো মহাকালী ইউনিয়ন এর মধ্যমহাকালী গ্রামের শীতকালীন সবজি চাষি জসিম কাজীর সাথে। তিনি ক্ষেত থেকে ফুলকপি,মুলা ও বেগুন তুলছিলেন। তার সাথে তার বৃদ্ধ বাবা মোতালেব কাজীও ক্ষেত থেকে ফুলকপি তুলছিলেন। জসিম কাজী বললেন, এই বছর আমার মুলার ফলন অনেক ভাল হইছে, ফুলকপি চাষেও ফলন ভাল হইতাছে। তবে শীমের ফলন তেমন একটা ভালো না। গাছে ফুল হইয়া লতা হইয়া যাইতাছে। শীমের ফলন ভালো নয় কেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, শীতকালীন আবহাওয়া যেমন থাকার কথা তেমন নাই। শীতটা বেশি হইলে শিশির পড়লে শীমের ফলনও ভালো হইতো। এক কথায় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় শীমের ফলন তেমন ভাল হচ্ছে না। তবে এই আবহাওয়াতে তার মুলা, বেগুন ও ফুলকপির ভালো ফলন হয়েছে। এবছর তিনি জমিতে ফুলকপি, বাধাকপি,শীম,লাউ, মুলা,বেগুন,মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন।
কথা প্রসঙ্গে জসিম কাজী জানান, এই বছর ২০০ শতাংশ জমিতে তিনি শীতকালীন সবজি আবাদ করেছেন। এর জন্য তার খরচ হয়েছে প্রায় দুই লক্ষ টাকা। একটি ফসল ভালো না হলেও অন্যটি ভালো হলে সেটা বিক্রি করে তিনি লাভবান হতে পারবেন, এই আশায় করছেন শীতকালীন সবজি চাষী জসিম কাজী।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ শাহ আলম জানান, এবছর মুন্সীগঞ্জে এখন পর্যন্ত ৩,৮৬৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৯৯০ হেক্টর, টঙ্গীবাড়িতে ১৭০ হেক্টর, শ্রীনগরে ৬৪০ হেক্টর, সিরাজদিখানে ১০০৫, লৌহজংয়ে ৩০০ হেক্টর, ও গজারিয়াতে ৭৬০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করা হয়েছে। তিনি  আরও জানান এ বছর মুন্সীগঞ্জে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬৪৭ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সদরে ১১৯০ হেক্টর জমিতে, টঙ্গীবাড়িতে ৩৫০ হেক্টর, শ্রীনগরে ৬৪৫ হেক্টর, সিরাজদিখানে ১২২২ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৩১০ হেক্টর ও গজারিয়াতে ৯৩০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করা হবে। শীতের আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ও অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন কৃষিবিদ জেলা উপ পরিচালক মো: শাহ আলম।
কাজী বিপ্লব হাসান
০১৯৭৯১২১৯৭১
২৮/১২/২০২০

Comments are closed.

%d bloggers like this: