Ultimate magazine theme for WordPress.

শ্রেণী শিক্ষক ও গার্ডিয়ানদের অবহেলায় বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা এখন বেপরোয়া হয়ে পড়ছে, দেখার যেন কেউ নেই!!

0 28

মো: রুবেল ও হুমায়ুন কবীর: বৃহস্পতিবার সকাল ১১.৩০টায় মুন্সীগঞ্জ শহরের ছোট ছোট রেস্টুরেন্ট, শিল্পকলার দক্ষিন পাশ্ব, সুইমিংপুলসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায় স্কুল পডুয়া মেয়েরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ছেলে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডায় জড়িয়ে পড়ছে। মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এভিজেএম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির পরিবেশও অমনোরম নয়। বিদ্যালয়টির চারদিকে দেওয়াল ঘেরা আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরী গেইটে প্রায় সময়ই থাকেন দারোয়ান। রয়েছে নিরাপত্তার চাঁদর। কোন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে প্রবেশ করার পর ইচ্ছে করলেই বের হয়ে যেতে পারবে না কারো অনুমতি ছাড়া। কিন্তু এতো নিরাপত্তা সত্তে¡ও প্রাইভেট, কোচিং বা অন্য কোন অজুহাতে বয়ফ্রেন্ডদের হাত ধরে মনোররঞ্জন করতে যেন বেপরোয় হয়ে পড়ছে তারা।

অনেক গার্ডিয়ানদের অভিযোগ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই এর জন্য দায়ী। কারণ, তাদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে কোন ছাত্র-ছাত্রীই ভালো ফলাফল করতে পারে না। আর এই ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল বলেও অনেকেরই ধারণা। আসলে আমাদের সমাজে যে যার মতো চলছি। কোন আইন মানছি না কেউ। আর সেই সুযোগে আমাদের কোমল মতি শিশুরা নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। তারও কোন খোঁজ খবর রাখছি না। তবে বিদ্যালয় পর্যন্ত পৌছে দেওয়াটা গার্ডিয়ানের দায়িত্ব হলেও বাকি দায়িত্ব থেকে শিক্ষকরা পাড় পেতে পারেন না। ক্লাসের সময়ে শিক্ষার্থীরা কার সাথে কোথায় যায়, বিদ্যালয় থেকে কি বলে বের হয় সে বিষয়ে দায়িত্ব পড়ে শিক্ষকদের। আমাদের চিন্তা চেতনায় রাখতে হবে আমাদের সন্তানরা কি করছে, কাদের সাথে বন্ধুত্ব করছে, কোন সময়টি কোন কাজে ব্যয় করছে। তাহলেই কোন সন্তান বিপথে পা রাখার সাহস করবে না। তবে ইভটিজিংয়ের বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে প্রশাসনের কর্মতৎপরতা থাকলেও ইদানিং বিদ্যালয়ের চার পার্শ্বে ইভটিজিং ছেলেদের হর হামেসা দাড়িয়ে থাকার দৃশ্য চোখে পড়ছে কিন্তু এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বা বিষয়টিকে কেউ তেমন গুরুত্বও দিচ্ছে না।

মুন্সীগঞ্জ শহরের বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নামনা বলার শর্তে জানান, পিতা মাতার পরের স্থান বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকাগণ। কোন ছাত্র-ছাত্রী কি করছে তা এই ৩ শ্রেণির অভিভাবকই বলতে পারে। আর এই ৩ শ্রেণীর গার্ডিয়ান সঠিক থাকলে কলেজ গন্ডির পূর্বে ঝড়ে পরতে পারে না। আমাদের সমাজকে সুন্দর ও সুস্থ্য করে তুলতে এখনই উপযুক্ত সময়। তবে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মিনি (বিদ্যালয়) কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ হলেই অনেকটা অনৈতিক কাজ কমে আসবে বলে জানান ঐ শিক্ষক।

সমাজের একজন সচেতন ব্যক্তি মোঃ আমির হোসেন জানান, স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেয়েরা কেন এই হোটেলে? নিশ্চই এই মেয়েগুলোর পিতা মাতারা শিক্ষার মান বোঝে না। আর স্কুল শিক্ষকরাই কি বাহিরের বিষয় দেখার গার্ডিয়ান? সমাজের প্রতিটি মানুষেরই এগিয়ে আসতে হবে। তবেই সমাজে সুন্দর একটা পরিবেশ বিরাজ করবে। আর ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হবে।

এবিষয়ে এভিজেএম বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শিউলি আক্তার বলেন, আমরা আমাদের বিদ্যালয়ের বিষয় সতেষ্ট কাজ করে যাচ্ছি। মাত্র ৩ মাস হয় এই বিদ্যালয়ে ভারপাপ্ত শিক্ষক হিসাবে যোগ দিয়েছি। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা আরো সচেতন হবো। আমার বিদ্যালয়ের কোন মেয়ে ক্লাস ফাকিঁ দিলে এবং কোন অনৈতিক কার্যকলাপে থাকলে ছাত্রীর গার্ডিয়ানদের এনে বিষয়টি সম্পর্কে যথাযথ ব্যবস্থা নিব। গতকয়েক দিন পূবের ঘটনায় বেশ কিছু ছাত্রীর বিরুদ্ধে তাদের গার্ডিয়ানদের মাধ্যমে বিশেষ শাস্তিমুলক ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে ইবটিজিং যাহারা করছে তাদের বিষয়ে থানা পুলিশ ব্যবস্থা নিবেন। এ বিষয়টি আগামী মিটিং এ তুলা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.