স্ট্রিক সোলারে আলোকিত গ্রামীণ জনপদ

স্ট্রিক সোলারে আলোকিত গ্রামীণ জনপদ

4
তুষার আহাম্মেদ- স্ট্রিট সোলারের আলোয় আলোকিত মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার গ্রামীণ জনপদ। মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে চলছে সোলার স্থাপন নির্মান কাজ। 
গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষাণাবেক্ষণের আওতায় এখন সন্ধ্যার পর সোলার বাতির আলোয় আলোকিত হচ্ছে গ্রামীণ জনপদ। সন্ধ্যা নামলেই সৌর বিদ্যুতের স্ট্রিট ল্যাম্পের আলোয় আলোকিত হচ্ছে লোকালয়৷
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোর প্রত্যন্ত গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে, রাস্তার মোড়, ছোট বড় বাজারগুলোতে এখন সৌর বিদ্যুতের সোলার ল্যাম্প লাইট বসানো হয়েছে। এ আলোর কারণে গ্রামীণ জনপদে এসেছে নিরাপত্তা।
অন্য দিকে, সোলার ল্যাম্প লাইট সরকারের ডিজিটাল দেশ গড়ার লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।
নতুন অর্থ বছরে এ সোলার ল্যাম্প লাইট বসানোর জন্য আলাদা বাজেটের কারনে দ্রুত গতিতে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অবকাঠামো, রাতে বোঝার কোনো উপায় নেই, কোনটি শহর আর কোনটি গ্রাম। সরকারের ইতিবাচক এ উদ্যোগ তাই সবার কাছেই প্রশংসনীয় হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার দেওয়া তথ্যসুত্রে জানা যায় জানা, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে জলবায়ু কল্যাণ ট্রাস্ট কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় ১১২টি স্ট্রিট সোলার লাইট স্থাপন করা হবে। যার বাজেট হিসেবে বরাদ্দ হয় দেড় কোটি টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহর নয় প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদের মোড়ে মোড়ে এখন সোলার ল্যাম্প লাইট দাঁড়িয়ে আছে। পৌরসভার দক্ষিন ইসলামপুর, যোগিনীঘাট, মোল্লাপাড়া এলাকায় বসানো হচ্ছে স্ট্রিট লাইট। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থাপন করা হবে এই সোলার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরকিশোরগঞ্জ মোল্লাপাড়া নদীর পাড় থেকে পূর্বপাড়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ২০ টি সোলার স্ট্রিট বসানো হয়েছে৷
যা সারা দিন সূর্যের আলোকে সঞ্চয় করে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত আলোকিত করে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ গ্রামীণ জনপদ। আর এতে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন। কমেছে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাদ৷।
 মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান বেপারি প্রতিবেদক কে বলেন, গত কয়েক বছর আগে বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক সোলার প্যানেলের স্ট্রিট লাইট লাগানো হয়েছে। নতুন করে আবার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি স্থানে লাইট বসানো হচ্ছে৷
সন্ধ্যা হলেই এসব লাইট আলো দিতে শুরু করে। ফলে রাতেও নিরাপদে চলাচল করা যাচ্ছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে এ আলোর ব্যবস্থা থাকায় রাতে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে।
চর কিশোরগঞ্জ এলাকার আওলাদ হোসেন মাদবর ও স্থানীয় সাংবাদিক শিহাব প্রতিবেদক কে জানায়,   আমাদের এই পূর্বপাড়া গ্রামটিতে রাস্তায় তেমন কোন আলোর ব্যবস্থা নাাই। ঝড় বৃষ্টির দিনে এই  লাইট গ্রামবাসির অনেবকটা উপকারে আসবে৷। তাছাড়া এই গ্রামে অনেক চুরি ও ডাকাতি হয়। এই লাইটের কারনে এখন অনেকটা নিরাপদে থাকবে গ্রামবাসি।
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয় ভাবে এ লাইটে আলো জ্বলে উঠে। এতে করে চাপ কমেছে বিদ্যুতের। লোড শেডিং এর ঝামেলা না থাকায় এসব সড়কের বাতি গুলো আলো দেয় সারারাত। এই আলোর ফলে চুরি, ডাকাতি, আগের তুলনায় অনেক কমেছে। আমাদের চলাচলে অনেক সুবিদা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজি মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো- ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা। আর এ কারণে ২০১৬ সালের স্ট্রিট সোলার লাইটের প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। তার পর থেকে সারা দেশে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষাণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় এ প্রকল্পের অধীনে কাজ শুরু হয়। মুন্সিগঞ্জ পৌরসভায় প্রচুর কাজ হয়েছে। নয়টি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হবে সোলার স্ট্রিট লাইট। কাজ চলমান রয়েছে।
গ্রামের মসজিদ , শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও ঘাটগুুলো, এবং নতুন ও পুরাতন সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ লাইট স্থাপন করা হবে।

Comments are closed.

%d bloggers like this: