হরগঙ্গার সেই জামতলা

105

আতিকুর রহমান টিপুঃ শীতের কিছুটা আমেজ যেন পড়েছে আজ। তীব্র শীত না পড়লেও শীতের কিছুটা উপস্থিতি যেন আজ স্পষ্ট। ঘড়ির কাটায় সকাল ৮টা বাজতেই উপস্থিত হলাম সরকারি হরগঙ্গা কলেজ চত্তরে। কলেজে একটা ছোট্ট কাজের তাগিতেই যেন আসা। কলেজ চত্ত¡র থেকে দক্ষিণ দিকে চোখ যেতেই কিছু ছাত্রের উপস্থিতি টের পেলাম জাম তলায়। ঐতিহ্যবাহী সেই জামগাছটি ছোট হয়ে গেছে। এক সময় এর ডালপাল ছিল প্রচুর। তার ছায়ায় প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী বলে আড্ডা দিত। সব সময় যেন হৈচৈ লেগেই থাকতো। কখনো কখনো ছাত্র নেতারা তার প্রাচীরে দাড়িয়ে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা রাখতো । ছাত্ররা মিছিল করে এসে সেই জামতলায় জড়ো হতো। ছাত্ররা আগামীদিনের পরিকল্পণা করতো এই জামতলার ছায়ায়। কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রিয় নাম হলো এই জামতলা। কলেজের সবুজ চত্ত¡রের ঠিক শেষ প্রান্তে এই জায়গাটির অবস্থান ।

এই ঐতিহ্যবাহী জামতলার নাম করণ করা হয়েছে আযীম উদ্দিন আহমেদ স্মৃতি মঞ্চ। ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর এই মঞ্চটি উদ্বোধন করেন এই কলেজের প্রাক্তণ অধ্যাক্ষ শিক্ষাবিদ সুখেন চন্দ্র ব্যানার্জী ও উপধ্যাক্ষ মোঃ শাহজাহান মিয়া। যদিও প্রায় ৭ বছর পূর্বে মঞ্চটি উদ্বোধন করা হয় কিন্তু জামতলা নামটি যেন এখনো সকলের মুখে মুখে। এই কলেজের ৯০ ভাগ ছাত্র ছাত্রী জানেনা মঞ্চটি নাম আযিম উদ্দিন আহমেদ স্মৃতিমঞ্চ। স্যার ১৯৫৮ সাল এই কলেজের অধ্যাক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। আর এই জাম গাছটি তিনিই নিজ হতে রোপন করেছিলেন আজ থেকে ৬০ বছর পূর্বে। ফলে জাম গাছটির বয়স এখন ষাট’এ দাড়িছে।

গাছটি এখন বলা চলে শীর্ণাকায় হয়ে গেছে। এই জামতলায় প্রখ্যাত ও বিখ্যাত অনেক মানুষ আড্ডা জমিয়ে ছিলেন। মরহুম প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. মোঃ ইয়াজদ্দিন আহাম্মেদ সময় কাটিয়ে ছিলেন এই কলেজে পড়াকালীন সময়। বাংলাদেশের সেরা ধন কুবের জহিরুল ইসলাম এই কলেজের যখন পড়তেন তখন বেশ আড্ডা করেছেন এই জামতলায়। তার অনেক স্মৃতি জড়িত এই স্থানটিতে। এখান থেকে তিনি ¯^প্ন দেখে ছিলেন বড় কিছু হবার। সেই ¯^প্ন তিনি স্পর্শ করেছিলেন।
চ্যানেল বিজয়ী সাঁতার মোসারফ হোসেনও জামতলার স্মৃতির সাথে নিজেকে জাড়িয়ে রেখেছেন।
এই জায়গায়টিতে আরেক ধনকুবের র‌্যাংস ইলেক্ট্রনি· এর ¯^ত্ত¡াধীকারী আব্দুর রউফ অনেক সময় দিয়েছিলেন। তিনি তখন সিরাদিখান থেকে এসে মাঠপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়ীতে থেকে এই কলেজে লেখা পড়া করতেন।
এই জামতলার ইতিহাসের সাথে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মহিউদ্দিন আহম্মেদ এর অনেক স্মৃতি জড়িত। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আনিসুজ্জামান আনিসের কম স্মৃতি নয় এই জামতলা নিয়ে। শত শত স্মরনীয় ও বরণীয় মানুষ এই সরকারি হরগঙ্গা কলেজে পড়ার সময় এই জামতলায় দিয়েছেন জংপাই আড্ডা দিয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক সাংসদ এড. মৃণাল কান্তি দাসের অনেক স্মৃতি যেন জামতলার ছায়ায় এখনো হাতছানি দিয়ে ডাকে। যুমনা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ নূর মোহাম্মদও জামতলার রাজ ¯^াক্ষী।

হরগঙ্গা কলেজের মানে স্মৃতিময় জামতলা। সে যেন একটা সবাক ইতিহাস । অনেক গল্পকরথার সে রাজ¯^াক্ষী। অনেক স্মৃতি সে তার বুকে লালন করে চলেছে ৬০ বছর যাবৎ। আজও সে নবাগত ছাত্র-ছাত্রীরে কাছে একটা স্মৃতিময় অধ্যায়। সময়ের কাটা ঘুরপাক খেলেও তার ইতিহাস যেন স্থির। যেন একটি জায়গায় এসে সব দাড়িয়ে আছে।

আজো যে ছায়া দিয়ে যাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের, আরো দেবে হয়তো অনেক দিন।

Comments are closed.

%d bloggers like this: