১৯৫৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর মুক্তি পান, সে সময় রাজনীতি  সম্পূর্ণ নিষিদ্

0 103

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি যখন লাহোরে গিয়ে এটা পেশ করার চেষ্টা করেন সেখানে প্রচণ্ড বাধা আসে। পশ্চিম পাকিস্তানের লোকেরা প্রচণ্ড বাধা দেয়। বাধা পেয়ে তিনি সেখানে সংবাদ সম্মেলন করে সেটা তুলে ধরেন। তাতে ওরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এটা ছিল ৫ ফেব্রুয়ারি এই সম্মেলনটা সেখানে তিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি তাঁর ছয় দফাটা দিয়ে দেন।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, তিনি ঢাকায় ফিরে তেজগাঁও বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলন করে ছয় দফার মূল কথাগুলো প্রকাশ করেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের কার্যপ্রণালি কমিটির সভা ডাকেন। এর আগে এটা কিন্তু তিনি সভায় পেশ করেননি। এটা তখন সিক্রেট রেখেছিলেন। সেখানে এই ছয় দফা পাস হয় এবং এটাকে কাউন্সিলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন কাউন্সিলে এটা পাস করা হয়। তারপর তিনি শুরু করেন সমগ্র বাংলাদেশে ছয় দফা নিয়ে প্রচার এবং জনসভা। যে যে জেলায় তখন সভা করেছেন, সেখানেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সোপান হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক ছয় দফা প্রণয়ন করেছিলেন, তার পুরোটা নিজের চিন্তা থেকে তৈরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে বুধবার ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবসের কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছয় দফা প্রণয়নটা নিয়ে অনেকে অনেকভাবে বলতে চায়। কেউ এর পরামর্শ, ওর পরামর্শ… কিন্তু আমি নিজে জানি যে, এটা তার (বঙ্গবন্ধুর) সম্পূর্ণ নিজের চিন্তার ফসল। কারণ তাঁকে যখন গ্রেফতার করা হলো ১৯৫৮ সালে এবং তিনি ১৯৫৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর মুক্তি পান, সে সময় রাজনীতি নিষিদ্ধ। (তিনি)  ঢাকার বাইরে যেতে পারতেন না, সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তখন তিনি চাকরি নিলেন আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে। তখন তাজউদ্দীন সাহেব গ্রেফতার ছিলেন। পরে মুক্তি পেয়ে উনি একটা চাকরি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। বঙ্গবন্ধু নিজে গিয়ে তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে এসে আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি দিলেন এবং মোহাম্মদ হানিফ, তাকেও কিন্তু আলফা ইন্স্যুরেন্সে চাকরি দেন তাঁর পিএ হিসেবে। বঙ্গবন্ধু সবসময় নিজে বসে বসে চিন্তা করতেন, নিজেই লিখতেন এবং হানিফকে দিয়ে এটা টাইপ করাতেন। এখানে শুধু একমাত্র হানিফ জানত, সে-ই টাইপ করেছিল। এ ছাড়া কিন্তু আর কারও জানা ছিল না। এটা সম্পূর্ণ তার (বঙ্গবন্ধু) নিজের চিন্তার থেকে এই ছয় দফাটা কিন্তু তৈরি করা।
ঐতিহাসিক ছয় দফার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা, মানসিকভাবে প্রস্তুত করা… এই জাতিকেই তিনি (বঙ্গবন্ধু) পাকিস্তান আন্দোলনের জন্য সম্পৃক্ত করেছিলেন। আবার সেখান থেকে ভেঙে এসে স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরি করাÑ এটাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য এবং একটা কঠিন দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সেটা তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করে দিয়ে যান। কাজেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে ছয় দফা অর্থাৎ একেকটা ধাপ পার হয়ে কিন্তু আমরা এই অর্জনটা করতে পেরেছি। এটার ওপর ভিত্তি করেই কিন্তু আমাদের মুক্তিসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের বিজয় অর্জন। সেদিক থেকে ছয় দফা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস আসলে মুছেই ফেলা হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর। আমাদের অনেকেই জানতেই পারেনি, তাঁর ৭ মার্চের ভাষণও নিষিদ্ধ ছিল। এ ভাষণ কখনও কেউ শুনতে পারত না। এখন আস্তে আস্তে মানুষ সব জানতে পারছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকে জাতির পিতা যে পথ দেখিয়ে গেছেন সে পথ ধরেই আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এই বাংলাদেশকে যদি আমরা ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা করতে চাই তা হলে অবশ্যই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এবং আমাদের এই বিজয়কে সমুন্নত রাখতে হবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা আমাদের বিজয়কে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। যাহোক, আমি মনে করি আর সে সুযোগ নেই। ইতিহাস তার আপন গতিতে চলে। ইতিহাসকে কেউ মুছতে পারে না, সেটা আজকে প্রমাণিত সত্য। আজকে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ^ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল, এমনকি জাতিসংঘও উদ্যোগ নিয়েছিল। করোনাভাইরাসের কারণে হয়নি। তবে জাতিসংঘ ইতোমধ্যে একটা স্ট্যাম্প রিলিজ করেছে, আপনারা জানেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে অনেক কর্মসূচি নিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তন প্রান্তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: