৫০ বছরেও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রবকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

৫০ বছরেও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রবকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

7

কাজী বিপ্লব হাসান : স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫০ বছর পার হলেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব এর নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি ও তাহার সহপাঠী বন্ধুগণ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জে. ইয়াহিয়া সরকারের অ-গণতান্ত্রিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং সকল প্রকার গণআন্দোলন ও মিছিলে অগ্র ভূমিকা পালন করতেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা প্রæপের সাথেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশ গ্রহণ করে থাকেন। তিনি মুন্সিগঞ্জ শহরের (কোর্টগাও) আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ শহীদুল আলম সাঈদের মুক্তিযোদ্ধা দলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি মুন্সিগঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত হানাদার বাহিনীর খবরাখবর সংগ্রহ করিয়া তাহার গ্রæপের কমান্ডার শহীদুল আলম সাঈদের নিকট পৌছাইয়া দিতেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় তিনি এবং তাহার ৯ জন সঙ্গী ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখে মুন্সিগঞ্জ মহকুমার মুসলীমলীগ নেতা জনাব আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী সাহেবের বাড়ীর পিছনে বাগানে অধিকতর নিরাপদ স্থান ভাবিয়া রাত্রে অবস্থান করেন। ভোর রাত্রিতে হানাদার বাহিনী সংবাদ পেয়ে তাহাদের সকলকে ধরে মুন্সিগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজে অবস্থিত হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সকাল বেলা হানাদার বাহিনীর ক্যাপ্টেনের নিকট আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী সাহেবের তদবিরে তার সাথে থাকা যাচাই-বাছাই ৭ জন বন্দিকে ছাড়াইয়া নিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু আব্দুর রব এবং তার সঙ্গী মোঃ খোকনকে বিক্রমপুরী সাহেব শত চেষ্টা করিয়াও হানাদাররা বলেন এ মুক্তিবাহিনী হে। তাদের ছাড়া হবেনা। অতপর বিক্রমপুরী সাহেব হানাদারদের কবল হইতে ছাড়াইয়া আনিতে পারেন নাই। ইহার কিছু দিন পর হানাদাররা আব্দুর রব এবং খোকনকে বধ্য ভ‚মিতে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হইতে চলিতেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত আব্দুর রব এর নাম বাংলাদেশ সরকারের গঠিত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় লিপিবদ্ধ হয় নাই। প্রকাশ থাকে যে, তার সাথে অন্য যে সকল ব্যক্তিরা ঐ দিন হানাদারদের হাতে বন্দি হন এবং পর্যায় ক্রমে ছাড়া পান তাহারা অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা ভুক্ত হইয়াছেন। তাহাদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ মহকুমার তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতা ডাঃ আব্দুল কাদের সাহেবের ছেলে মাসুদ কাদের (মনা) এবং মোঃ আব্দুর রহমান (ছন্দু)ও রয়েছেন। আব্দুর রব এবং মোঃ খোকন মিয়া এখনও হানাদারের হাতে গণহত্যার শিকার হিসেবে সমাজে পরিচিত। অথচ মুন্সিগঞ্জ শহরের তিনটি মুক্তিযোদ্ধা গ্রæপে জীবন বাজী রাখিয়া দেশ মাতৃকার টানে তৎকালীন স্বাধীনতার সশস্ত্র সংগ্রামের প্রয়োজনে গোয়েন্দা হিসেবে খবরা-খবর সংগ্রহ করিয়া উক্ত তিনটি মুক্তিযোদ্ধা গ্রæপের কমান্ডারদের নিকট পৌছাইয়া দিতেন এবং রণাঙ্গনে সশস্ত্র যুদ্ধ করিতেন। এ বিষয়ে তাহার স্ত্রী ফাতেমা বেগম জাতীয় মুুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক সহ মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল ও সদর উপজেলা পরিষদে আবেদন করেও কোন সুরাহা করিতে পারেন নি বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান তার পিতা শহীদ আব্দুর রব সহ আরও অনেক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম মুন্সিগঞ্জ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে লিপিবদ্ধ হয় নাই।

Comments are closed.

%d bloggers like this: