অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ভালোভাবে পর্যালোচনার পর সংসদে প্রতিশ্রুতি দিতে মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন স্পিকার।
রবিবার (৭ জুন) সংসদের বৈঠকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা এক প্রশ্নে বলেন, ‘লোডশেডিং বলুন আর মেরামত শেডিং বলুন, গ্রামে গঞ্জে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুত থাকে না।’ বিরোধীদলের এমপিরা এই বক্তব্য টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এমপি রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিদ্যুত মন্ত্রী এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, ১ মে-র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। এরপরে আরও এক মাস, তিন-চার দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সাপ্লাই আমরা পাইনি।’
রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশে গ্যাসের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। বর্তমানে সার কারখানার চেয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সংসদে তিনি বলেন, ‘তিনি (রুমিন ফারহানা) বিদ্যুৎ চাচ্ছেন আবার তার সার কারখানাতেও গ্যাস চাচ্ছেন। গ্যাসের তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এ জন্য আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালিয়ে রাখতে হচ্ছে এবং সেই কারণে তার ওখানে আমরা সংযোগ দিতে পারছি না।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে গ্যাসের কূপ খনন করা হয়নি। আমরা এই প্রথম এসে ড্রিলিং শুরু করেছি এবং আশা করি ইনশাআল্লাহ আমরা গ্যাস পাব। গ্যাস পাওয়ার পরে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারের মতো কারখানায় আমরা সংযোগ দিতে পারব।’
মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীকে তার দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে বলেছিলেন ১ তারিখ থেকে গ্যাস যাবে। সেটি বোধ হয় পাওয়া যায়নি।’
ভবিষ্যতে সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান স্পিকার। বিদ্যুৎ মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংসদে যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেটা ড্রিলিং বা অন্যান্য যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় স্টাডি করে তারপরে সংসদে দেবেন।’
এর আগে জামায়াতের এমপি গোলাম রসুল সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ‘গ্রামে ৫-৬ ঘণ্টা লোডশেডিং রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রী বলছেন লোডশেডিং নেই!’
স্পিকার তখন জানতে চান, ‘বিদ্যুতের ঘাটতি কেনো?’ জবাবে বিদ্যুতমন্ত্রী আবারও বলেন, ‘আগেও বলেছি, আবারও বলছি, বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। লোডশেডিং নেই। ঝড় বৃষ্টিতে গাছ পড়ে গেলে বিদ্যুত বন্ধ রাখতে হয়।’